হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদরাজনীতি

বিএনপিকে ৯১ সাল স্মরণ করিয়ে দিল জামায়াত

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::
নির্বাচনে জিততে বিএনপি নিজেই যথেষ্ট বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জামায়াতে ইসলামী ৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
শনিবার রাতে জামায়াতের নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরোয়ার এক বিবৃতিতে সিলেটে দলীয় মেয়র প্রার্থীর না সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই বিবৃতির ফলে বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সবচেয়ে বড় শরিক জামায়াতের সম্পর্কের টানাপড়েন প্রকাশ্য হলো।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিবের নাম উল্লেখ না করে গোলাম পারোয়ার বলেন, “জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ সম্প্রতি এমনও মন্তব্য করেছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ‘কোন একটি দল একাই সরকার পরিবর্তন করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট, কারো সাহায্যে প্রয়োজন নেই।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ওই বক্তব্য আসলেই দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন জামায়াতের সাবেক সাংসদ গোলাম পারোয়ার।
তিনি বলেন, “আর যদি তিনি এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাহলে আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ১৯৯১ সালে জামায়াত তার নিজ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। দেশ ও জাতির স্বার্থে এই ধরনের সমর্থন এবং উদারতা ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।”
সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটে ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি ২০ দলকে একসাথে নির্বাচন করানোর জন্য। জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে আছেন, তারা থাকতেই পারেন। তারা এখন পর্যন্ত আমাদের সমর্থন দেননি।”
সিলেটে জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি বিজয়ী হতে পারবে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচন একাই করেছে এবং সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জেতার জন্য কারো উপর নির্ভর করতে হয় না, ‘বিএনপি সেলফ সাফিশিয়েন্ট জেতার জন্য’।
এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘উসকানির শিকার হয়ে দেশ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি বক্তব্য ও আচরণ’ থেকে বিরত থাকতে ২০ দলীয় জোটের সব শরিক দল ও নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের নায়েবে আমীর।
চার দলীয় জোট থেকে ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা যার যার মতো করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি তাতে জোটের কোনো ক্ষতি হয়নি। একটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আলাদা অংশগ্রহণ করায় জোটের আদৌ কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
“১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি মাত্র সিটিতে জামায়াত নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি সব কয়টিতে বিএনপির প্রার্থীদের জামায়াত সমর্থন দিয়েছে। এই সমর্থন দিতে গিয়ে প্রায় সব জায়গাতেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেল, জুলুম ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
“এসব নিয়ে অতি উৎসাহী এক শ্রেণির প্রচার মাধ্যমের কোনো দায়িত্বশীল আচরণ জাতি লক্ষ্য করেনি। একটি মাত্র সিটিতে জামায়াতের অংশগ্রহণের কারণে এখন তা নিয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করছে।”
৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। বাকি দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থীকেই ২০ দলীয় জোট সমর্থন দিলেও বিএনপির বড় শরিক জামায়াত সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে।
সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.