হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদবিশেষ সংবাদ

নিহত কাউন্সিলর একরামুলের মেয়ে..‘বাবা কি আর কখনও ফিরে আসবে না?’

আব্দুর রহমান,টেকনাফ **
‘কই, বাবা তো আমাদের বলে গেল না! তার তো ফেরার কথা ছিল! বাবার অভাব বোধ করি খুব বেশি। এখনও প্রতিদিন বাবার কথা মনে করেই কাঁদি। কখনও মায়ের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে কেঁদে বলি, মা, বাবা কি আর কখনও ফিরে আসবে না।’ রবিবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর মোহাম্মদ একরামুল হকের মেয়ে তাহিয়াত হক ও নাহিয়ান হক এসব কথা বলে। আজ বাবা দিবস উপলক্ষে মেয়েরা বাবার কথা মনে করে সকাল থেকেই কাঁদছিল।

বাবা দিবস উপলক্ষে দুই মেয়েই পরেছিল বাবার সাদা-কালো শার্ট। তারা বলে, ‘রাতের আঁধার কেটে দিনের আলো ফুটলেও সে আলো ফুটে ওঠে না আমাদের জীবনে। আজও বাবার স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই সারাক্ষণ। কিন্তু বাবাকে আর খুঁজে পাই না। চোখের সামনে সেদিনের ঘটনার বিভীষিকাময় স্মৃতি কুরে কুরে খায় আমাদের।’ কথাগুলো বলার সময় তাহিয়াত অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বাবার কথা মনে পড়ায় মায়ের বুকে মুখ গুঁজে নাহিয়ানের কান্না এ সময় নাহিয়ান বলে, ‘আমরা যেমন বাবাকে ছাড়া থাকতে পারছি না, তেমনি আমাদের ছাড়া বাবাও থাকতে পারছে না। নিশ্চয় আমাদের মতো প্রতিদিন আব্বু কান্না করছে যে… (কথা শেষ করতে পারে না)। কোনও সন্তানের জীবনে যেন বাবাহীন বাবা দিবস না আসে– প্রার্থনা করি সৃষ্টিকর্তার কাছে। বাবাহীন জীবন যে কত কষ্টের তা একমাত্র আমরাই বুঝি। এই কষ্ট যেন আর কারও জীবনের সঙ্গী না হয়। গত বছর বাবা দিবসে বাবার সঙ্গে বাইকে করে সী-বিচ, নাফ নদীর তীরে ডাকবাংলোতে ছবি তুলে অনেক আনন্দ করেছিলাম।’ কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় পাশের চেয়ারে থাকা মা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
বাবার স্মৃতি স্মরণ করে কাঁদতে কাঁদতে নাহিয়ান আবার বলে, ‘আব্বু সুপারম্যান, আমাদের হিরো ছিল। টিফিনের টাকা থেকে সামান্য কিছু টাকা বাঁচিয়ে এইদিনে আব্বুকে সারপ্রাইজ দিতাম। আব্বুকে কার্ড, মগ ও কলম উপহার দিতাম। এছাড়া এদিন মায়ের কাছ থেকে শিখে বাবার জন্য স্যান্ডউইচ, নুডলস ও বিরানি রান্না করে একসঙ্গেই খেতাম।’

নাহিয়ান বলে, ‘পছন্দের ভিডিও গেম কিংবা প্রথম সাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলেছিল বাবা। স্বপ্ন পূরণের এ ধাপগুলোতে বাবার ভূমিকা ছিল বাস্তবিকই সুপারম্যানের। চাওয়ামাত্রই হাজির করার দিব্যি বলে বাবা হারিয়ে গেলে! আমাদের এমন হাজারও ছোট ছোট স্বপ্নপূরণ, ইচ্ছাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে তিনি লড়াই করতেন সব সময়। নানা অসুবিধার মধ্যেও আমাদের চাওয়া পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। তিনি যে বাবা, সুপারম্যান, আমাদের হিরো। আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণের মানুষকে হত্যা করেছে এই পৃথিবী, এর বিচার চাই।’

পাশে বসা একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম বললেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ ছিল, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর বিচার আজীবন চেয়ে যাবো। সে যে নির্দোষ বিষয়টি গোটা বিশ্ব জেনে গেছে। তবে মাঝেমধ্যে মনকে বোঝাই কিছুটা বিচার পেয়েছি। কী আর বলি, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে হত্যার বিচার হয় না।’

প্রসঙ্গত, নিহত কাউন্সিলর টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালি পাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে। তিনি ওই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং স্থানীয় যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত বছর ২৬ মে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাম নিহত হওয়ার পর র‌্যাব দাবি করে, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনার পর থেকেই তার স্বজনরা দাবি করে আসছেন, নির্দোষ একরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সুত্র-বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.