হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

বাজারে এখন সব পণ্যের দাম চড়া

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক ::  নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজ, রসুনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় আরও কয়েকটি পণ্যের দাম প্রায় এক মাস ধরেই চড়া। চলতি সপ্তাহে নতুন করে দাম বেড়েছে মাছ-মাংস ও বিভিন্ন ধরনের সবজির।

ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে কোনো পণ্যের দামই ‘স্বস্তিকর নয়’ বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণে পাইকারি পর্যায়ে বেশ কিছু পণ্যের  দাম বেড়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে রসুনের দাম কিছুটা কমলেও চলতি সপ্তাহে নতুন করে বেড়েছে মাছ ও মুরগির দাম। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।

শুক্রবার মিরপুরের বড়বাগে বাজার দর নিয়ে জানতে চাওয়া হয় আরিফুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতার কাছে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাজারে এখন সব পণ্যের দামই চড়া। নির্দিষ্ট করে কোনো পণ্যের কথা বলা যাবে না। এক কথায় বলতে হবে নিত্যপণ্যের কেনাকাটায় নাগরিকদের খরচ বেড়ে গেছে। এটা আসলেই কষ্টকর।”বড়বাগের একটি মাছের দোকানে আরিফের কাছে এক কেজি ওজনের একটি রুই মাছের দাম চাওয়া হচ্ছিল ৩৮০ টাকা। সাড়ে তিনশ টাকায় মাছটি কিনতে দর কষাকষি করেও সফল হননি তিনি।

মাছ বিক্রেতা বলেন, বর্তমানে সব ধরনের মাছেরই কেনা দাম বেড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা সমাগম কম। বাজারে প্রচুর মাছের মজুদ আছে। কিন্তু দাম কেউ কমাতে পারবে না। সবাইকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।

“রুই মাছ গত সপ্তাহেও সাড়ে তিনশ টাকা করে বিক্রি করেছি। কিন্তু এই মাছগুলো কেনা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা করে। এর পরে পরিবহন খরচ রয়েছে। তাহলে দাম কমাই কীভাবে?”

ইলিশের মওসুমে গত শুক্রবার এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকায়। তবে এদিন এক কেজি ওজনের ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছিল ১২০০ টাকা করে।ইলিশের মতোই শিং মাছ, কই মাছ, পাবদা মাছসহ অন্যান্য মিঠা পানির মাছের দাম কেজিতে অন্তত ৫০ টাকা করে বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে। তবে এই সপ্তাহে এই মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

বড়বাগের মুরগি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে মুরগির সরবরাহ কম। গত ২-৩ দিন ধরেই সারা দেশে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে সরবরাহ কমে যেতে পারে।

বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকারও বেশি। মওসুমে নতুন করে আসা বরবটির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা কমে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মুলা ও শিম। মুলার কেজি ৪০ টাকা এবং শিমের কেজি ১৩০ টাকা।সবজি বিক্রেতা মহসীন আলী বলেন, মিষ্টি কুমড়া ছাড়া সব ধরনের সবজির দাম চড়া। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও পাইকারিতে দাম অনেক বেশি।

তিনি বলেন, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে ক্রেতা সমাগম তুলনামূলক কম। ক্রেতা উপস্থিতি বেশি থাকলে পণ্যের দাম আরও চড়া হত।

বাজারে এখন করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, টমেটো ৯০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কোরবানির ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। মাঝে এক সপ্তাহ দাম কিছুটা কমলেও গত দুই সপ্তাহ ধরে ফের বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়। একইভাবে আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায়। রসুনের দাম কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

চড়া মূল্যের এই সময়েও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মসুর ডালের দামে। বর্তমানে প্রতি কেজি মানভেদে ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মানের মসুর ডাল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই দাম।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.