হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদস্বাস্থ্য

বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে সাত লাখ। নারী ও কন্যাশিশুদের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সেমিনারে বলা হয়েছে, দেশে এখনো খর্বাকৃতি কিশোরীর হার ৩২ শতাংশ। আর খর্বাকৃতি নারীর হার ৪২ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ক্রিশ্চিয়ান-এইডের সহায়তায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ‘নারী ও কন্যাশিশুদের খাদ্য পরিস্থিতি এবং খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক এই জাতীয় সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মায়েরা পরিবারের পুরুষ এবং ছেলেসন্তানদের ভালো খাবারে অগ্রাধিকার দেন। এরপর কন্যাশিশুদের খাইয়ে যা অবশিষ্ট থাকে, মায়েরা তাই খান। কোনো কোনো সময় মায়েরা অভুক্তও থাকেন। এতে করে কন্যাশিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, অ্যাকশনএইডের আবাসিক পরিচালক ফারাহ কবীর, ক্রিশ্চিয়ানএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক সাকেব নবী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কানিজ ফাতেমা। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে কানিজ ফাতেমা বলেন, খাদ্যে কম অনুপুষ্টি উপাদান গ্রহণকারী নারীর হার ৬০ শতাংশ। দীর্ঘ মেয়াদে শক্তির ঘাটতি আছে এমন নারীর হার ২৫ শতাংশ।

প্রধান অতিথি খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক দিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে পারে সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে প্রতিটি স্তরে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, সামাজিক প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো শুধু আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময় ও সচেতনতা।  নারী ও কন্যাশিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আচরণগত ও মানসিক পরিবর্তন আনা জরুরি।

ফারাহ কবীর বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সমাজে বৈষম্য প্রকট। এই বৈষম্য কমাতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণার ওপর জোর দিতে হবে।

অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, দুর্যোগকালে নারী ও কন্যাশিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদারের দাবি জানান তিনি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.