হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

বাংলাদেশী সেজে রোহিঙ্গা নারী পাচারের অভিযোগ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের পেশাদার মানব পাচারকারী দালাল আন-রেজিষ্টার্ড বিয়ে ঠিক হওয়া এক রোহিঙ্গা নারীকে টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশী সাজিয়ে পাচারের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে ভূক্তভোগী রোহিঙ্গা তরুণের পরিবার ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ‘আই’ বøকের ৫৫০/০৪ নং শেডের বাসিন্দা মকবুল আহমদের পুত্র মোঃ সালাম সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ফিরে আসে। ক্যাম্পে কিছুদিন অবস্থান করার পর হঠাৎ টাকার লোভে পড়ে নারী পাচারে নেমে পড়েছে। এরপর গড়ে তুলেছে নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট। দলে দলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা তরুণী ও যুবতীদের টার্গেট করে অভাব-অসহায়ত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফুসলিয়ে টাকার প্রলোভনে ফেলে দেশের বাইরে পাচার করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের খপ্পরে পড়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নারী পাচার হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এবার টার্গেট করেছে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকারী পশ্চিম লেদার শিয়াইল্যাঘোনায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা রহমত উল্লাহর মেয়ে বিয়ে ঠিক হওয়া রোজিনা আক্তারকে (১৭)। বিমানযোগে মালয়েশিয়ায় নারী পাচার করতে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরীর জন্য ঢাকায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পাচারের অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গা যুবতী রোজিনার সাথে একই বøকের এমআরসি নং-১২৩৯৭, শেডনং-৫২৭/১ এর বাসিন্দা রেহেনা বেগমের পুত্র মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ রফিক (২০) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়ার জন্য কথা-বার্তা পাকা-পোক্ত করে দেন-মোহর ধার্য্য করা হয়। যতদিন রফিক মালয়েশিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততদিন হবু বধুকে শ্বাশুড় বাড়িতে রাখার সিদ্বান্ত মতে নতুন শ্বাশুড় বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়। সৌদি ফেরত মানব পাচারকারী দালাল মোঃ সালাম মেয়ের পিতা রহমত উল্লাহকে টাকার প্রলোভনে ফেলে কয়েক দিন পর বেড়ানোর কথা বলে হবু শ্বাশুড় বাড়ি হতে নিজের বাড়িতে এনে মেয়েকে বাংলাদেশী পাসপোর্টে তৈরীর মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য দালালের হাতে তুলে দেন। দালাল মোঃ সালাম এখন রোজিনা আক্তারকে নিয়ে পাসপোর্ট তৈরীর জন্য ঢাকার বিভিন্ন স্থান চষে বেড়াচ্ছে। অপরদিকে মেয়ে বিয়ের নামে মোহরানা গ্রহণ করার পর প্রতারণা করে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাচারের প্রতিকার চেয়ে হবু শাশুড়ী রেহেনা বেগম নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এধরণের অহরহ ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাসপোর্ট অফিস সংশ্লিষ্ট কতিপয় দালাল মোটাংকের বিনিময়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরী করে দেওয়ার সুবাদে রোহিঙ্গারা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ পাসপোর্ট পেতে মরিয়া হয়ে উঠছে। পাসপোর্ট হাতে পেলে রোহিঙ্গা নারীদের মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা দালাল মোঃ সালামের বড় ভাই আরেক দালাল নুর করিমের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর লাভজনক মূল্যে বিয়ের নামে বিভিন্ন প্রবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পাচার করা নারীদের। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা কৌশল পরিবর্তন করে আকাশ ও সাগর পথে বিভিন্ন দেশে দালালের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.