হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়

বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে:টেকনাফ, উখিয়া, পার্বত্য বান্দরবানের বিভিন্ন অঞ্চল ও কক্সবাজার-চট্টগ্রামে অবস্থানরত নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থী মিলে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা ভয়ঙ্কর অপরাধী। তাদের হাতে রয়েছে রকেট লঞ্চার, এম-১৬ রাইফেলসহ নানা ধরনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম। মানবপাচার, জঙ্গি তৎপরতা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে তারা জড়িত। পার্বত্য অঞ্চলের গহিন অরণ্যে তাদের অস্ত্রের কারখানা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।

জানতে চাইলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার সেলিম মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এক সময় এদের জঙ্গি ট্রেনিং নিতে শুনেছি। তবে বর্তমানে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট না হলেও পরিবেশসহ সামাজিক সকল দিক দিয়ে রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য হুমকি। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে জেলার অপরাধের জন্য রোহিঙ্গার চেয়ে তাদের ব্যবহারকারীরাই প্রধানত দায়ী। তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল ভোরের কাগজকে বলেছেন, সমুদ্র সীমান্তে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করছে দেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা। পরিকল্পিতভাবে অপরাধ কর্মের চালিকাশক্তি হিসেবে এসব রোহিঙ্গা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একাধিক সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় অবৈধভাবে বসবাসকারী ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মধ্যে অধিকাংশই এই অপরাধ কর্মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অনুপ্রেরণায় তারা যাপন করছে অপরাধ জীবন।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষ নেতাদের তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে বিশাল অংকের তহবিল বাংলাদেশে আসে। কয়েকটি এনজিওর মাধ্যমে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এ টাকার একটি অংশ খরচ হয়। অবশিষ্ট টাকা যায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পকেটে। এই টাকা ব্যয় হয় জঙ্গি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে। জোট সরকারের সময়ে এসব এনজিও প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালালেও বর্তমানে এরা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। আর্থিক অনটনকে পুঁজি করে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। রোহিঙ্গারা প্রায় সবাই অস্ত্র চালাতে পারদর্শী। তাই কোনোভাবে যদি এরা ভারী অস্ত্র পেয়ে যায় তাহলে কক্সবাজারসহ উখিয়া ও টেকনাফের কুতুপালংসহ পাহাড়ি এলাকা দখল নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২০১১ সালের ৫ নভেম্বর কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশ গোপন বৈঠক চলাকালে জঙ্গি সন্দেহে ৪ মহিলাসহ ৩৫ জনকে আটক করে। প্রাথমিকভাবে আটককৃতরা জামাত-শিবির পরিচালিত জঙ্গি কানেকশন ভিত্তিক এনজিও ওয়ামীর সদস্য বলে পুলিশ জানায়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে তা তেমন কার্যকর হচ্ছে না। এমনকি যে বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থী দীর্ঘদিন ধরে এদেশে বসবাস করছে তাদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। বরং দিন দিন এদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ৯ বছরে এদেশে অবৈধভাবে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। এসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন টেকনাফ এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। পরবর্তীতে তারা এদেশের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নিজেদের নামে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে রোহিঙ্গারা নানা অপরাধমূলক কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়ছে। আর দায় নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। রোহিঙ্গাদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে শ্রমবাজার।

বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের অপকর্মের ফল আমাদের দেশের সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগ করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, সমুদ্র সীমান্তে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি সংগঠনকে জামাতে ইসলামী সশস্ত্র সহায়তা দিয়ে মায়ানমারের মধ্যে হামলা করার ইন্ধন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মায়ানমার সরকার।

তিনি বলেন, মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের দূতাবাস কর্মকর্তাকে ডেকে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল, তারা জামাতে ইসলামী বলে উল্লেখ করেছেন, তারা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠনকে সশস্ত্রভাবে সহয়তা প্রদান করছে। আর এসব সংগঠনকে মায়ানমারের মধ্যে হামলা চালাতে ইন্ধন দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মায়ানমার নাগরিকদের অনুপ্রবেশ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এসব অবৈধ অভিবাসীর কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে। এসব রোহিঙ্গা তাদের স্বার্থগত কৌশল বাস্তবায়নে ব্যস্ত সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। কথিত সংগঠন ও একটি প্রভাবশালী মহল তাদের নিয়ন্ত্রক।

ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মাদক-অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনায় জড়িত থাকার পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ততা রয়েছে রোহিঙ্গারা। অনেক রোহিঙ্গা নারী দেহপসারিনী হিসেবে কাজ করে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯৭৮ সালে প্রথম বারের মতো রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটে। ২য় দফা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে আরম্ভ করে ১৯৯১ সালে। রোহিঙ্গাদের এ আগমনে বাংলাদেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সরকারি তথ্যমতে, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ও টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া ক্যাম্পে বর্তমানে ২১ হাজার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও অস্বীকৃতভাবে ৩ হাজার রোহিঙ্গা ও টেকনাফ দমদমিয়া এলাকার ভাসমান ক্যাম্পে ১১ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। বেসরকারি তথ্য মতে, এই রোহিঙ্গা ৩ লক্ষাধিক। ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে যা”েছ। এসব রোহিঙ্গার অধিকাংশ জেলার অপরাধ চক্রের মূল চালিকাশক্তি।

প্রশাসনিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কক্সবাজার পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে মায়ানমার উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা রয়েছে। আরএসও মূল সংগঠনকে বিলুপ্ত করে ১৭টি সংগঠনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মায়ানমার থেকে আরাকানকে আলাদা করে স্বাধীনতার স্বপ্নে বাংলাদেশে অবস্থান করে এসব সংগঠনসমূহ অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে। বিদেশ থেকে বিপুল অংকের সাহায্য হিসেবে গ্রহণ করে এই সংগঠনগুলো মূলত অস্ত্র ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র বিক্রি এই সংগঠনের আয়ের মূল উৎস। একাধিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া বস্তি, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প, উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প এলাকার রোহিঙ্গাদের অনেকেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিকতার জন্য রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরতসহ সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি কক্সবাজারের সমুদ্র সীমান্ত বাসিন্দাদের। বাংলাদেশে যেভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ১৯৬০ সালের শুরু থেকেই মায়ানমার সরকার কৌশলগতভাবে সব ধরনের উন্নয়নমূলক ধারা থেকে রোহিঙ্গাদের দূরে সরিয়ে রাখে। এমনকি তাদের নাগরিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৮ সাল দীর্ঘ ১০ বছর গণতান্ত্রিক সরকার দেশ শাসন করার পরও রোহিঙ্গারা পূর্ণ মর্যাদা পায়নি। অবস্থার অবনতি হয় ১৯৬২ সালে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর। ১৯৭৭ সালে অপারেশন নাগামিন নামক এক সমীক্ষায় মায়ানমারের নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশন করে নাগরিক মর্যাদা দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের সে তালিকায় রাাখা হয়নি।

এক পর্যায়ে মায়নামার সামরিক জান্তার অত্যাচার ও উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯৯১ এর নভেম্বর থেকে ১৯৯২ সালের শুরুর দিকে মায়ানমারের তৎকালীন সামরিক জান্তু সরকারের বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন এবং ব্যাপক উ”েছদের শিকার হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ২ লাখ ৫১ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে চলে এসেছিল। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে তৎকালীন সরকার মানবিক কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি, টেকনাফ, রামু ও উখিয়া উপজেলার ১১টি ক্যাম্পে শরণার্থীর মর্যাদা দিয়ে রেখেছিল। জাতিসংঘ ও এর কয়েকটি সহযোগী সংস্থার তত্ত্বাবধানে থেকে রোহিঙ্গারা শরণার্থীর মর্যাদা পায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রভাবশালী রাষ্ট্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের লালন-পালনে অর্থ সাহায্য দিয়ে আসছে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের মধ্যস্থতায় এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। এরই প্রেক্ষিতে ৯৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন শুরু হয়। ইউনাইটেড নেশন হাইকমিশন অব রিফিইজি (ইউএনএইচসিআর)’র তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ স্বে”ছায় রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যেতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেয়া বন্ধ করে। পরে দুদেশের সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা বৈঠকের পর মায়ানমার সরকার আবারো রোহিঙ্গা শরণার্থী ফেরত নিতে শুরু করে। তবে এই পর্যায়ে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ ছোট ছোট দলে রোহিঙ্গা শরণার্থী নিতে থাকে। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এখানকার ক্যাম্পের অবস্থান করা শরণার্থীর মধ্য থেকে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন শরণার্থী স্বদেশে ফেরত যায়। সর্বশেষ ২০০৫ মালে ২৯ জনের শরণার্থীর দল স্বদেশে ফিরে গিয়েছিল। বর্তমানে দুটি ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়ে গেছে মায়ানমার সরকার তাদের ছাড়পত্র দেয়নি।

কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে ১ হাজার ১৭১ পরিবারের ১৪ হাজার ৭২১ জনসহ প্রায় ২৫ হাজার বৈধ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। তবে ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে দুটি ক্যাম্পে বৈধ শরণার্থীর সংখ্যা শিশুসহ ২৮ হাজারের কিছু বেশি। এই ২৮ হাজার রোহিঙ্গার দায়ভার জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্ব নিলেও, অবৈধ প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব কেউ নেয়নি। যার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হ”েছ। মানবেতর জীবনযাপন করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এ বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে উখিয়া ও টেকনাফসহ পুরো কক্সবাজার জেলায় দেখা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানা সামাজিক অস্থিরতা। অবৈধভাবে কী পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। অবৈধ রোহিঙ্গাদের সরকারের কোনো যথাযথ তদারকি না থাকায় দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের তদারকির জন্য স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠিত হলেও ওই কমিটি নিষ্ক্রিয় আছে। ফলে থমকে আছে রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশসহ তাদের অন্যান্য কর্মকা-ের তদারকি কার্যক্রম।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছেÑ রোহিঙ্গারা এলাকায় পরিকল্পিত আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে প্রতিনিয়ত চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি, পতিতাবৃত্তি, নারী ও শিশু পাচার, মদ এবং জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া দিনের বেলায় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ভিক্ষার জন্য ঢুকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাড়ির কাউকে সামনে না দেখলে চুপিসারে বাইরে থাকা বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এদিকে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম হাইস্কুলে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা সন্তানদের ভর্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে দুজন জামাত নেতা সুপরিকল্পিতভাবে এ সুযোগ করে দেন। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক খাইরুল বাশার জামাতে ইসলামীর উখিয়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি। সহকারী প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শাহজাহান উখিয়া জামাতের আমির হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

স্কুলে রোহিঙ্গা শিশুদের ভর্তির অভিযোগটি বান্দরবানের জেলা প্রশাসন তদন্ত করছে। স্কুলটির পার্শ্ববর্তী তুমবুরু গ্রামের বাসিন্দা এবং স্কুলের অভিভাবক জাহাঙ্গীর আজিজ বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন, জামাতের ওই দুই নেতা উক্ত স্কুলের একজন দাতা সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশ করে রোহিঙ্গা শিশুদের স্কুলে ভর্তির সুযোগ করে দি”েছন। এর মধ্য দিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশকেই প্রকারান্তরে উৎসাহিত করছেন।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.