টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বাংলাদেশীরা ট্যাক্সের চেয়ে বেশি ঘুষ দেয় পুলিশকে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১২
  • ২৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভিন্ন খাতে কর হিসেবে সরকারকে যে পরিমাণ অর্থ দেয়, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ঘুষ দিতে হয় পুলিশকে। আর পুলিশ হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের কারখানা। ‘দুর্নীতি’ই তাদের চেইন অব কমান্ড। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্যভাবে অপরাধ তদন্তে তারা প্রতিনিয়ত ব্যর্থ। এ ব্যর্থতাই ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় বাধা। অথচ ঘুষ, দুর্নীতি ও ব্যর্থতার জন্য কোন সাজাই পান না পুলিশের সদস্যরা। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার বিনিময়ে সব অপরাধের বিচার থেকে রেহাই পান তারা। আর এ কাজে বাধ্য করার জন্যই সরকারগুলোও পুলিশের বেতন-ভাতা খুবই কম পরিমাণে নির্ধারণ করে থাকে।
এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি) বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ বাহিনী, এর কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে এভাবেই মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিবৃতিতে হংকংভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ও রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের পুলিশের বেশ ‘সুনাম’ রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরেই পুলিশ যেন নির্যাতনের কারখানা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধের সাজানো অভিযোগ, এ নিয়ে মামলা, নির্যাতন ও হয়রানিতে তারা সিদ্ধহস্ত। পুলিশের ভেতরে চেইন অব কমান্ডের জায়গা নিয়েছে দুর্নীতি। উপর থেকে নিচÑ প্রতিটি কর্মকর্তা-সদস্যই এর সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হল, তারা কোন অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে পারে না। বিশ্বাসযোগ্যভাবে অপরাধ তদন্তে পুলিশের ব্যর্থতা খুবই ধারাবাহিক। আর এ ব্যর্থতাই দেশটির ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে একেবারে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এএইচআরসি উল্লেখ করে, শাসক শ্রেণীর অনুগত রাখতে সরকারগুলো পুলিশের বেতন খুবই নিুস্তরে রেখে আসছে। এটা পুলিশকে ঘুষ দাবি করা ও গ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে। শাসক শ্রেণীর স্বার্থে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রায়শই শায়েস্তা করার মাধ্যমে এই পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের দুর্নীতিসহ সব অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পায়। পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকৃত আয় ও সম্পদের ফারাক থেকে এটা স্পষ্ট যে, পুলিশ ও রাজনীতিকদের মধ্যে দুর্নীতি ও সুরক্ষার দুষ্টচক্র আছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশেষত গ্রামাঞ্চলের মানুষ পুলিশের দুর্নীতির শিকার হয় বেশি মাত্রায়। গ্রামে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সাধারণ মানুষের চোখে ধরা দেয় প্রধানত পুলিশের উপস্থিতির মাধ্যমেই। সেখানে নিত্যদিনই পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে, পুলিশি নির্যাতন ও অসদাচরণ থেকে রেহাই পেতে, অভিযুক্ত বা সাক্ষীর তালিকায় কারও নাম যুক্ত করা বা বাদ দেয়ার মতো সব কাজেই পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের জন্যও পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। অন্যদিকে ওই সন্দেহভাজনও ঘুষ দেয় গ্রেফতার এড়াতে। তদন্তে যাতে আসামিকে অভিযুক্ত করা হয় সে জন্য অভিযোগকারী ঘুষ দেয়; অন্যদিকে অভিযোগ থেকে বাদ দিতে ঘুষ দেয় আসামি। ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে আদালতের কাছে হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত প্রমাণাদি বা আলামত যেন সুরক্ষিত রাখে পুলিশÑ তা নিশ্চিত করতেও ঘুষ দিতে হয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে যদি ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কোন সরকারি হাসপাতালে পাঠাতে হয়, তবে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। যানবাহন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। এমনকি ধর্ষণের শিকার হলেও তাদের ঘুষ দিতে হয়। আর দু’পক্ষের মধ্যে কোন পক্ষ বেশি ঘুষ দেয়, তার ওপর নির্ভর করে অভিযোগের ধরন ও কে অভিযুক্ত হবে। সংস্থাটির মতে, এমন কোন স্থান নেই যেখানে পুলিশ ঘুষ আদায় করে না। ফুটপাতে ব্যবসা করতে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়, রাস্তায় গাড়ি চালাতে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। তা না দিলে হকাররা ফুটপাতে, ব্যবসায়ীরা মার্কেটে ব্যবসা করতে পারে না। উল্টো মাদক বিক্রিসহ নানা ‘অপরাধে’ তাদের ফাঁসিয়ে দেয়। হাজতে নেয়। সেখান থেকে মুক্তি পেতেও পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। আর রাস্তায় চালক ও যানবাহন মালিকরা সবসময় তটস্থ থাকেন কোন কোন ট্রাফিক সার্জেন্টকে কত টাকা দিতে হবে। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের মতে, অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তারই আয়ের চেয়ে সম্পদ অনেক বেশি। ‘সমস্যা’ এড়াতে অনেক কর্মকর্তা নিজের বদলে স্বজনদের নামে সম্পত্তি নিবন্ধন করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের এই পুলিশি দুর্ভোগের ব্যাপারে গা করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা এটা চিন্তা করেন না যে, তাদের জীবনের অধিকাংশ আরাম-আয়েশের পেছনেই সাধারণ মানুষের দুঃখগাথা, দুর্ভোগ ও রক্তমাখা একেকটা কাহিনী আছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে অবশ্যই এই বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সংস্কার করে, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে পুলিশকে যদি পেশাদার বাহিনী হিসেবে জনগণকে সেবা দেয়ার উপযোগী করে গড়ে না তোলা হয়; তবে বাংলাদেশের জনগণের সামনে কোন আশা নেই। ইনসাফ ও সুষ্ঠু বিচার দেশটিতে অধরাই থেকে যাবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “বাংলাদেশীরা ট্যাক্সের চেয়ে বেশি ঘুষ দেয় পুলিশকে”

  1. jahangir says:

    assalamu alaikum , shobhai k ramzan mubarak, ami o ek mot , eta 100% sure , doornitir main station is police , are emon ki amra doijon rampura rail gater shate signale darai amader car a number plate chilo na , hota officerer nojor porate shamne ashte dekah jai amader k salam dia bolse aponader car er kadoj pottor ase? ami bolsi ji ase , tahole nuber plate kothai, ami bolsi pichunerta ase shamner ta mone hoi churi hoiye gese , ha ha ha bhai car ta park koro a kotha shonia amar shater ekjon bolse bhai 200taka diay dao ami bolsi bhai eto boro officer mattoro 200taka ? ha ha ha , uni diya dise , pore khela shehs ,, ha ha ha
    amar jana moto , teknaf thanai je kono case er shongge mustbe case poriman taka dite hoi otherways no case no register , no FIR , ETO CHUTO area te eto boro dhoroner policer demand shona jai, amar mone hoi policer jara cox’s bazar zela ashe specially (teknaf / ukhia tarar shompot hishab nia uchit this is better way , allaha amder shobhai ke hefazote rakhok

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT