হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদফিচার

বর্তমানেও দেখি-একেবারে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম

-হারুনুর রশিদ আরজু::   রাধা-কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অসংখ্য গান কবিতা নাটক রচিত হয়েছে। এটা শুধু হিন্দু ধর্মের অংশ নয় সাহিত্যের বিরাট অংশ দখল করে আছে রাধ-কৃষ্ণ কাহিনী। আমরা কথায় কথায় উদাহরণ দিতে গিয়ে বলি ‘একেবারে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম’। যদিও সবাই বলি, কিন্তু অনেকেই রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের ঘটনা বা গল্প জানি না। আজকের বাংলাদেশের পারিপাশ্বিক পরিবেশ বিবেচনায় রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের উদাহরণ যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। রাধা-কৃষ্ণের ঘটনা বিশাল একটা অধ্যায়। সংক্ষেপে তুলে ধরা খুব কঠিন। কারণ সরাসরি গল্প বলার আগে গোড়ার দিকে কিছু পটভূমি বলতে হবে। যার সাথে মহাভারতের প্রেক্ষাপটও জড়িত। যা পাঠকদের হিন্দুদের নিকট বুঝতে সহজ হলেও মুসলমানদের নিকট জটিল মনে হবে। যদিও রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গল্পে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। মোটামুুটি বেশীর ভাগ মতের মিল পাওয়া বর্ণনার আলোকে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গল্প আজ পাঠকদের নিকট তুলে ধরছি।
মূলত মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্য থেকে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কাহিনীর উৎপত্তি। এই কাব্য মোট ১৩টি খন্ডে বিভক্ত। এই কাব্যে প্রধান তিনটি চরিত্র কৃষ্ণ-রাধা-বড়ায়ি। ১৯০৯ সালে বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় গ্রামের বসন্ত রঞ্জন রায় প্রাচীন পুঁথির অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘরের মাচা থেকে এই পুঁথি আবিষ্কার করেন। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের রচয়িতা কবি বড়–চন্ডিদাস। যাকে সকলে কেবল চন্ডিদাস নামে চিনে। বাংলা সাহিত্যে তিনি প্রথম মানবতাবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। তার রচিত অমর বাণী “শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।”
কৃষ্ণ ও রাধা উভয়ে ঈশ্বরের ইচ্ছায় এই ধরায় মানবরূপে জন্ম নেয়। কৃষ্ণ পাপী কংস রাজাকে বধ করার জন্য দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন । কংস রাজা ছিলেন অত্যাচারী। ‘কংস রাজা’ সম্পর্কে কৃষ্ণের মামা ছিলেন। এজন্য বাংলায় একটা বাগধারা যুক্ত হয়েছে ‘কংস মামা’ নামে। যার মানে নির্মম আত্মীয়। কৃষ্ণের মামা কংস রাজা জানতেন তার আদরের বোন দেবকী ও স্বামী বাসুদেবের ঘরে জ¤œ নেয়া সন্তান তাকে হত্যা করবে। ফলে কংস তাদের দু’জনকে তার কারাগারে বন্ধী করে রাখেন। আর কখন তাদের সন্তান হয় পাহারা দেন। একে একে সাতটি সন্তানই জন্মমাত্র কংস হত্যা করে। দেবকী আর বাসুদেবের অষ্টম সন্তান হলেন ‘কৃষ্ণ’। যাকে স্বয়ং ইশ্বর বাঁচাবেন তাকে কেউ মারতে পারে না। কংস রাজার ভয়ে পুত্রকে বাঁচাতে পিতা বাসুদেব জন্মমাত্র কৃষ্ণকে গোপনে রাতের আঁধারে অনেক দূরে বৃন্দাবনে জনৈক নন্দগোপ এবং যশোদার ঘরে রেখে আসেন। তারমানে কৃষ্ণের পালিত পিতা নন্দগোপ এবং পালিত মাতা হলেন যশোদা। নন্দ গ্রামেই বড় হয় কৃষ্ণ। সেখানেই দৈব ইচ্ছায় আরেক গোপ সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে জন্ম নেয় ‘রাধা’। রাধা সম্পর্কে কৃষ্ণের মামী হয়। তবে আপন মামী নয়। কৃষ্ণের পালিত মাতা যশোদার পাড়ার সম্পর্কীয় ভাই হলেন ‘আয়ান গোপ’। সেই আয়ান গোপের সঙ্গে রাধার বিয়ে হয়।
বালিকা বয়সে অপরূপ সুন্দরী রাধার বিয়ে হয় নপুংসক (যৌন অক্ষম) আয়ান গোপের (ঘোষের) সঙ্গে। আয়ান গোপের বাড়িতে থাকতেন তার বৃদ্ধা পিসি ‘বড়ায়ি’। রাধার স্বামী আয়ান গোচারণ করতে গেলে তার বৃদ্ধা পিসি বড়ায়িকে রাধার তত্ত্বাবধানে বাড়িতে রেখে যেতেন। রাধা ঘর থেকে বের হয়ে অন্য গোপীদের( দুধ-দই বিক্রেতা সখি) সঙ্গে মথুরাতে দই-দুধ বিক্রি করতে যায়। বড়ায়ি পাহারাদার হিসেবে তাঁর সঙ্গে যায়। কিন্তু বৃদ্ধা বড়ায়ি পথের মধ্যে রাধাকে হারিয়ে ফেলে। বড়ায়ির সঙ্গে পথে দেখা হয় কৃষ্ণের। বড়ায়ি রাধার রূপের বর্ণনা দিয়ে কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করে, এমন রূপসীকে সে দেখেছে কিনা। এই রূপের বর্ণনা শুনে কৃষ্ণ রাধার প্রেমে পড়ে যায়। এরপর বড়ায়িকে হাত করে কৃষ্ণ উপহারসহ রাধাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু বিবাহিতা রাধা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবার কৃষ্ণ দই-দুধ বিক্রির জন্য মথুরাগামী রাধা ও গোপীদের পথ রোধ করে জ্বালাতন করে। কৃষ্ণ দাবী করে নদীর ঘাট পারাপার বাবদ কড়ি (পয়সা) দিতে হবে, নাহলে রাধার সঙ্গে দৈহিক মিলিত হতে দিতে হবে। রাধা কোনোভাবেই এ প্রস্তাবে রাজী হয় না। রাধার হাতেও কোনো কড়ি নেই। উপায়ন্তর না দেখে রাধা নিজের রূপ কমানোর জন্য চুল কেটে ফেলতে চাইল; কৃষ্ণের হাত থেকে বাঁচবার জন্য বনে দৌঁড় দিল। কৃষ্ণও রাধার পিছু নেয়। অবশেষে কৃষ্ণের ইচ্ছায় কর্ম হয়। কিশোরী রাধা এরপর থেকে কৃষ্ণকে এড়িয়ে চলে। কৃষ্ণ নদীর মাঝির ছদ্মবেশ ধারণ করে। নৌকাতে রাধাকে তুলে সে মাঝ নদীতে নিয়ে নৌকা ডুবিয়ে দেয় এবং রাধার সঙ্গে মিলন করে। নদী তীরে উঠে লোকলজ্জার ভয়ে রাধা সখীদের বলে- নৌকা ডুবে গিয়েছে, কৃষ্ণ তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে।
নদীতে কৃষ্ণের সাথে এই ঘটনার পর রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। শাশুড়ি বা স্বামীকে সে আগের ঘটনাগুলো ভয়ে ও লজ্জায় খুলে বলেনি। এদিকে রাধাকে দেখতে না পেয়ে কৃষ্ণ অস্থির। কৃষ্ণ রাধাকে বাড়ির বাইরে রের করার পন্দি আঁটে। বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়- ঘরে বসে থেকে কী হবে, রাধা দুধ-দই বেচে কিছু কড়ি তো আনতে পারে। শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণের চালাকি সফল হয়। রাধা আবার দুধ-দই বিক্রির জন্য বাড়ির বাইরে বের হয়। কিন্তু প্রচন্ড রোদে কোমল শরীরে দই-দুধের ভার নিয়ে রাধা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সময়ে কৃষ্ণ ছদ্মবেশে রাধার কাছে আসে ভার নিতে মজুর খাটতে। কৃষ্ণকে মজুর খাটিয়ে ফেঁসে যায় রাধা। কৃষ্ণ মজুরির বদলে রাধার নিকট আলিঙ্গন কামনা করে। রাধা কৃষ্ণের এই চতুরতা বুঝতে পারে। রাধাও কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যা আশ্বাস দেয়। কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত যায়। মথুরা থেকে ফেরার পথে কৃষ্ণ রাধার নিকট তাঁর প্রাপ্য আলিঙ্গন দাবী করে। রাধা চালাকি করে বলে, ‘এখনো প্রচন্ড রোদ। তুমি আমাদের ছাতা ধরে বৃন্দাবন পযন্ত চলো, পরে দেখা যাবে’। কৃষ্ণ অপমানবোধ নিয়ে ছাতা ধরেই চলল। কিন্তু তাঁর আশা পূর্ণ করেনি রাধা। একে একে রাধার পিছুটান মনোভাব কৃষ্ণকে চিন্তিত করে। এবার কৃষ্ণ অন্য কৌশল ধরে। হঠাৎ নিজের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন আনে অর্থাৎ কর্মসূচি বদল করে। এবার কৃষ্ণ বৃন্দাবনকে অপূর্ব শোভায় সাজিয়ে তোলে। রাধা ও গোপীরা সেই শোভা দর্শন করে কৃষ্ণের উপর রাগ ভুলে যায়। কৃষ্ণের এই পরিবর্তনে রাধা এবং গোপীদের মনে কৃষ্ণের প্রতি গভীর আগ্রহ জন্মায় এবং পরে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের মিলন হয়। এরপর থেকে কৃষ্ণের প্রতি রাধার প্রেম জাগ্রত হতে থাকে এবং দু’জনের মধ্যে প্রেমের জোয়ার বইতে থাকে। ইতোমধ্যে রাধাও পূর্ণ যৌবনবতী হয়।

রাধা ও গোপীরা যমুনাতে জল আনতে যায়। কৃষ্ণ যমুনার জলে নেমে হটাৎ ডুব দিয়ে আর উঠে না। সবাই মনে করে কৃষ্ণ ডুবে গেছে। এদিকে কৃষ্ণ জল থেকে উঠে লুকিয়ে কদম গাছে বসে থাকে। রাধা ও সখীরা জলে নেমে কৃষ্ণকে খুঁজতে থাকে। কৃষ্ণ নদী তীরে রাধার খুলে রাখা হার চুরি করে আবার গাছে গিয়ে বসে। পরে কৃষ্ণের চালাকি রাধা বুঝতে পারে। হার না পেয়ে রাধা কৃষ্ণের পালিতা মা যশোদার কাছে নালিশ করে। এদিকে বড়ায়ি কৃষ্ণের হার চুরির ঘটনা সব বুঝতে পারে এবং হার হারানোতে রাধার স্বামী আয়ান যাতে রাগান্বিত বা ক্ষুব্ধ না হয় সেজন্য বড়ায়ি রাধার স্বামীকে বলে যে- বনের কাঁটায় রাধার গজমোতির হার ছিন্ন হয়ে হারিয়ে গেছে। এ যাত্রায় বড়ায়ি মিথ্যা বলে রাধাকে রক্ষা করে। অন্যদিকে মায়ের কাছে নালিশ করায় কৃষ্ণ রাধার উপর ক্ষুব্ধ হন। এরপর থেকে রাধাও কৃষ্ণের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠে। বড়ায়ি কৃষ্ণকে বুদ্ধি দিল, রাধাকে পেতে হলে শক্তির পথ পরিহার করে মদনবাণ দিয়ে রাধাকে বশীভূত করতে হবে। সে অনুযায়ী কৃষ্ণ পুষ্পধনু নিয়ে কদমতলায় বসে। রাধা কৃষ্ণের প্রেমবাণে সংজ্ঞা হারায়। এরপর কৃষ্ণ রাধাকে চৈতন্য ফিরিয়ে দেয়। অবস্থা পাল্টে যায়। এবার রাধা কৃষ্ণের প্রেমে কাতর হয়ে কৃষ্ণকে খুঁজে ফিরে।
রাধাকে আকৃষ্ট করার জন্য সময়-অসময়ে কৃষ্ণ বাঁশিতে সুর তোলে। কৃষ্ণের বাঁশি শুনে রাধার রান্না এলোমেলো হয়ে যায়, মন কুমারের চুলি¬র মতো পুড়তে থাকে, রাত্রে ঘুম আসে না, ভোর বেলা কৃষ্ণ অদর্শনে রাধা মূর্চ্ছা যায়। বড়ায়ি রাধাকে পরামর্শ দেয়, সারারাত বাঁশি বাজিয়ে সকালে কদমতলায় কৃষ্ণ বাঁশি শীয়রে রেখে ঘুমায়। তুমি সেই বাঁশি চুরি কর, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। রাধা তাই করে। কৃষ্ণ বুদ্ধিমান। বাঁশি চোর কে তা বুঝতে তাঁর কোনো কষ্ট হয় না। রাধা কৃষ্ণকে বলে, বড়ায়িকে সাক্ষী রেখে কৃষ্ণ কথা দিতে হবে যে, সে কখনো রাধার কথার অবাধ্য হবে না ও রাধাকে ত্যাগ করে যাবে না, তাহলেই বাঁশির সন্ধান মিলতে পারে। কৃষ্ণ কথা দিয়ে বাঁশি ফিরে পায়। এবার কৃষ্ণ রাধার উপর উদাসীনতার ভাব দেখায়। কৃষ্ণ নিয়মিত দেখা দেয় না। রাধা বিরহ অনুভব করে। কৃষ্ণকে এনে দিতে রাধা বড়ায়িকে অনুরোধ করে। দই-দুধ বিক্রির ছল করে রাধা নিজেও কৃষ্ণকে খুঁজতে বের হয়। অবশেষে বৃন্দাবনে বাঁশি বাজানো অবস্থায় কৃষ্ণকে খুঁজে পাওয়া যায়। কৃষ্ণ রাধাকে বলে, ‘তুমি আমাকে নানা সময় লাঞ্ছনা করেছো, ভার বহন করিয়েছো, তাই তোমার উপর আমার মন উঠে গেছে’। রাধা বলে, ‘তখন আমি বালিকা ছিলাম, আমাকে ক্ষমা করো। আমি তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তির্যক দৃষ্টি দিলেও তুমি আমার দিকে তাকাও’। কৃষ্ণ বলে, ‘বড়ায়ি যদি আমাকে বলে যে তুমি রাধাকে প্রেম দাও, তাহলে আমি তোমার অনুরোধ রাখতে পারি’। অবশেষে বড়ায়ি রাধাকে সাহায্য করে এবং রাধা কৃষ্ণের মিলন হয়। রাধা ঘুমিয়ে পড়লে কৃষ্ণ নিদ্রিত রাধাকে রেখে কংসকে বধ করার জন্য মথুরাতে চলে যায়। ঘুম থেকে উঠে কৃষ্ণকে না দেখে রাধা আবার বিরহকাতর হয়। রাধার অনুরোধে বড়ায়ি কৃষ্ণের সন্ধানে যায় এবং মথুরাতে কৃষ্ণকে পেয়ে অনুরোধ করে, ‘রাধা তোমার বিরহে মৃতপ্রায়। তুমি উন্মাদিনীকে বাঁচাও’। কৃষ্ণ বলে, ‘আমি সব সয্য করতে পারি, কিন্তু কটু কথা সহ্য করতে পারি না। রাধা আমাকে কটু কথা বলেছে’। এই সামান্য উসিলা ধরে কৃষ্ণ আর বৃন্দাবনে যেতে চায় না, রাধাকেও গ্রহণ করতে চায় না। দুর্ভাগ্য এই যে- পাঠক, রাধার প্রতি কৃষ্ণের এমন বিতৃষ্ণা অবস্থায় কাহিনী এখানে থেমে যায়। ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে এর পরের পৃষ্ঠাগুলি ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রেমের সমাপ্তি কেমন তা জানা যায়নি। তবে লোকগাঁথা থেকে জানা যায়, কৃষ্ণকে খুঁজতে রাধা মথুরা যায় কৃষ্ণের প্রাসাদে দাসীর ছদ্মবেশে। রাধা দেখতে পান কৃষ্ণ সেখানে ইতোমধ্যে রূপকিনীকে বিয়ে করেছেন। কৃষ্ণ আর রাধার কাছে ধরা দিতে চায় না। কৃষ্ণ রাধার সামনেই আছেন অথচ রাধাকে সময় দিতে অপারগ। অপমানে রাধা প্রাসাদ ছেড়ে আবার বৃন্দাবনে ফিরে গেলেন। কৃষ্ণের বিরহে রাধা মৃত্যুবরণ করেন। রাধার মৃত্যুর ৭দিন পর কৃষ্ণও মারা যান। কৃষ্ণ একটি গাছের তলায় পা ছড়িয়ে অন্য মনস্কভাবে বসেছিলেন। তখন হরিণের পা ভেবে এক ব্যাধ তীর মারে কৃষ্ণের পায়ে। সেই তীরের আঘাতে কৃষ্ণ প্রাণ ত্যাগ করেন।
যদিও রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কটি ছিলো সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে সম্পূর্ণ অবৈধ। তারপরেও হিন্দু সমাজে সম্পর্কটি পবিত্রতার চোখে দেখে যা গবেষণার বিষয়। বর্তমানে কৃষ্ণের সাথে রাধাকে পূজা করা হয়। রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কটি বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। কারো কারো মতে সম্পর্কটি মূলত সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্ক। সে যাই হোক, বর্তমানেও দেখি রাধা কৃষ্ণের প্রেম ।

লেখক ঃ কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক।
arzufeni86@gmail.com

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.