টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বঙ্গোপসাগরের উচ্চতা বছরে বাড়ছে এক সে.মি.

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৩
  • ১২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

bay-of-bangal-সালেহ নোমান :-পরিবর্তন:::::বঙ্গোপসাগরের উচ্চতা প্রতি বছর প্রায় এক সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেরিন সায়েন্স ইনিষ্টিউটের এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত এই গবেষনায় চট্টগ্রাম বন্দর , মংলা বন্দর এবং অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত গত ৪০ বছরের জোয়ার ভাটার ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক প্রফেসার সাইদুর রহমান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত “ইনভেষ্টিগেশন রিলিভেন্ট সী লেভেল চেইঞ্জ ইন দ্য ইষ্টার্ন এন্ড ওয়েষ্টার্ন কোষ্ট অব বাংলাদেশ ফরম টাইডাল রেকর্ড” শীর্ষক গবেষণাটি সম্পন্ন করেন।
২০১২ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে এই গবেষণা কর্মটি পরিচালিত হয়েছে। গত ১৭ জুলাই গবেষণা প্রতিবেদন বিভাগে জমা দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত পরিবর্তন ডটকমকে জানান, “গত প্রায় চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়ের জোয়ার ভাটার ডাটা পর্যালোচনা করে সমুদ্রের উচ্চতা পরিবর্তনের এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অভ্যন্তরীর নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে।”
সংগৃহীত ডাটা, তাত্ত্বিক পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মংলা পয়েন্টে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির হার বছরে ১২ মিলিমিটার এবং হীরনপয়েন্টে এই হার ৮.৪ মিলিমিটার।
“১৯৭৭ সালে মংলায় জোয়ারের উচ্ছতা ছিল ২.০৮ মিটার সেখানে ২০১২ সালে এর পরিমান দাড়িয়েছে ২.৫৮ মিটারে,” উল্লেখ করেন ইয়াসির আরাফাত।
ইয়াসির আরাফাত জানান, “একই সময়ের ডাটা পর্যালোচনা করে দেখা যায় পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলে সমুদ্রের উচ্চতা কিছুটা কমে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উপকূলে উচ্চতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১০ সালে কক্সবাজার উপকূলে জোয়ারের গড় উচ্চতা ছিলো ২.১৭ মিটার সেখানে ২০১১ ও ২০১২ সালে এই উচ্চতা ছিল ২.১৮ মিটার।”
“লুনার ইয়ার অর্থাৎ চন্দ্রবর্ষ ( প্রায় ৮০ বছর) হিসাব করে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিমাপ করার ধারণা প্রচলিত থাকায় পূর্ব উপকূলে মাত্র কয়েক বছরের বৃদ্ধির হার খুব একটা গণনার মধ্যে পড়েনা,” বলেন ইয়াসির।
তিনি জানান, “বঙ্গোপসাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির এই চূড়ান্ত ধারনায় উপনীত হতে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি পয়েন্টের জোয়ার ভাটার ডাটা, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের কক্সবাজার, মংলা ও হীরনপয়েন্টের ডাটা ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল বোর্ড এর ডাটাও ব্যবহার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্টের ন্যাশনাল ওশানিক এন্ড এ্যটোমেসফিয়ার এডমিনিষ্ট্রেশন(নোয়া) যে কোন স্থানের প্রতি ৩০ বছরের তথ্যের গড় হিসাব করে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাস- বৃদ্ধি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
নোয়ার অফিসিয়াল ওয়েব সাইট “টাইড এন্ড কারেন্ট” এ পৃথিবীর সী-লেবেল ট্র্যান্ড শীর্ষক যে মানচিত্র দেয়া আছে তাতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই। একইভাবে বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার এবং শ্রীলঙ্কর উপকূলেরও কোন তথ্য দেওয়া হয়নি সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য এই ওয়েবসাইটে।
তবে বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় উপকূলের চেন্নাই, কোলকাতাসহ মোট চারটি পয়েন্টের তথ্য দেওয়া আছে।
পর্যাপ্ত গবেষণার অভাবে এই সংক্রান্ত অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ উপকূল নিয়ে খুব একটা তথ্য নেই।
এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক সমুদ্র আবহাওয়া বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান বলেছেন, “১৯৯০ সালে যখন আমি ছাত্র ছিলাম তখনও এই নিয়ে কাজ করেছিলাম, এবার আমার ছাত্রকে দিয়ে এই গবেষণা করিয়েছি। দুই গবেষণাতেই সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রবনতা লক্ষ্য করা গেছে।”
“১৯৯০ সালে দেশের পশ্চিম উপকূলে বছরে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা আধা সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধির প্রমান পাওয়া গিয়েছিলো, এবার এই বৃদ্ধির হার এক সেন্টিমিটারের মত ক্ষেত্রবিশেষে তা আরো বেশি। আমরা মংলা ও হীরনপয়েন্টের ডাটা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এই ধারনায় উপনীত হয়েছি,” উল্লেখ করেন তিনি।
সাইদুর রহমান বলেন,“ আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এক ফুট এবং ২১০০ সাল নাগাদ তিন ফুট পর্যন্ত বাড়বে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন। এই বৃদ্ধির বিষয়টি এখন অনেকটা দৃশ্যমান এবং আমাদের ডাটাও তা প্রমাণ করে।”
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্ছতা কেন বাড়ছে গবেষনায় এই বিষটি আনা হয়নি উল্লেখ করে গবেষনা পরিচালনাকারী ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, শুধু উচ্চতা বৃদ্ধির বিষটি পর্যবেক্ষন ছিলো গবেষনার বিষয়। কারন অনুসন্ধান করতে গেলে এর সময় ও ব্যাপ্তি আরো অনেক বৃদ্ধির প্রয়োজন হতো।
বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান বলেন, এর অনেকগুলো কারনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রিলেভেন্ট সী লেবেল চেইঞ্জ, অর্থাৎ অনেক স্থানে পলি পড়ে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে ভূমি ঘনীভুত অথবা অন্য কারনেও আকার পরিবর্তন হতে পারে।
ধারনা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের উপকূলের ভু- প্রকৃতি পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার চেয়েও দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। কারন বাংলাদেশের ব্রহ্মপূত্র- গঙ্গা – মেঘনা বিজিএম বেসিন একসাথে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পলি বহন করে থাকে। ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্যমতে, এই অববাহিকায় বছরে পরিবাহিত পলির পরিমান ১৬০ বিলিয়ন টন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT