টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

bangabandhuজাতির জনকের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীর বাণীতে বুধবার এই তাগিদ দেন আবদুল হামিদ, রাজনৈতিক জীবনে যিনি বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শ পেয়েছিলেন।

শোকাবহ স্মৃতির দুয়ারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে।

জাতীয় শোক দিবসের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতি গভীর শ্রদ্ধায় পালন করবে স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ককে হারানোর দিন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি বঙ্গবন্ধু নামেই বাঙালির মনে জাগরুক।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের জন্য বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি। ১৫ অগাস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

৩৮ বছর আগে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের।

ধানমণ্ডির বাড়িতে পুলিশের বিশেষ শাখার সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

সেই রাতে আরো নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু।

এবার শোক দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যেসব ঘাতক আজো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাতে হবে। জাতি জানবে, হত্যাকারীদের ঠাঁই পৃথিবীর কোথাও নেই।”

স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যার বিচার দেশের মাটিতে শুরু হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর। বিচারিক আদালতে রায় হলেও এরপর বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় গেলে উচ্চ আদালতে তা ঝুলে ছিল।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচার সম্পন্নের উদ্যোগ নেয়। বিচার শেষে চূড়ান্ত রায়ের পর পাঁচ আসামির ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন এখনো বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন, যাদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

১৫ অগাস্ট বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার বাণীতে জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে তার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আহ্বান জানান।

দেশব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগেরও বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি স্মরণ করে।

সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সশস্ত্র বাহিনী অনার গার্ড প্রদান। এসময় বিশেষ মোনাজাত ও কোরআন তেলাওয়াত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে ১৫ অগাস্ট নিহতদের কবরে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে সকাল ১০টায় ফুল দেবেন।

টুঙ্গীপাড়ায় সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অফ অনার প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সারাদেশে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

এছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালনের জন্য আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর‌্য তুলে ধরে কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকারি কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একই সময়ে আওয়ামী লীগ প্রধান হিসাবে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, বনানী কবরস্থানে এবং টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দেবেন।

শোকদিবসে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে।

জাতীয় শোক দিবসে দিনের শুরুতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে এ কর্মসূচির শুরু হবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ অগাস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দল যোগ দেবে।

বিকালে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

১৬ অগাস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় শোক দিবস যথাযথভাবে পালনের জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

’৭৫ এর পর থেকেই আওয়ামী লীগসহ সমমনা রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো ১৫ অগাস্ট শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই দিনের স্মরণে কোনো আয়োজন ছিল না। আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে থাকে, উল্টো বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার সব চেষ্টাই চালিয়েছিল পরবর্তী শাসকরা।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৫ অগাস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করে।

তবে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এরপর থেকে আবার আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়েই দিনটি পালিত হয়ে আসছিল।

২০০৮ সালে হাই কোর্ট এক রায়ে ১৫ অগাস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। এরপর পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা আওয়ামী লীগ ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রবাদপুরুষ বলে পরিচিত শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন তিনি। তার নেতৃত্বে রক্তাক্ত সংগ্রামেই অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। আর স্বাধীনতার চার বছরের মাথায় নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয় বঙ্গবন্ধুকে।  বাংলাদেশের আরো খবর

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT