টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রধান কারণ ছিল বাঙালির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৩
  • ২০৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Pic-236x300kaboriযারা ভেবেছিল ১৫ই আগস্ট জাতির জনককে হত্যা করে ইতিহাসের স্রোতস্বিনী নদীর পথ বদলে দেবে তারা ভুল করেছিলো। যারা ভেবেছিল দেবশিশু রাসেলকে হত্যা করে এদেশের ভবিষ্যৎ এর মুখে কুলূপ এঁটে দেবে তারা ভুল করেছিলো। যারা ভেবেছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এদেশের নিয়মকানুনের ধারার পায়ে বেড়ি পেরিয়ে দেবে তারাই’ তারা সকলে ভুল করেছিল। ইতিহাসের শাখা প্রশাখা ঘুরে মহাত্মা গান্ধীকে দেখতে পেয়েছিলাম যিনি অহিংসার পুজারী ছিলেন। নাথুরাম গডস নামক একজন ঘৃণিত মানুষ তাকে হত্যা করেছিল। রোম সম্রাট জুলিয়াস সিজার এর সাথে নিরস্ত্র অবস্থায় বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাকে হত্যার মাধ্যমে। সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দ্রেকে কুচক্রীরা হত্যা করেছিল। পাবলো নেরুদার মতো দেশপ্রেমিক যার হ্রদয় ছিল স্বদেশ, স্বদেশেরই করুণ ট্রাজেডির শিকার তিনিও। এভাবে পৃথিবীর অসংখ্য সূর্যসন্তানদের উচ্চাভিলাষী দুর্বল সংকীর্ণ মানুষগুলো হত্যা করলেও এই ভালবাসার মানুষগুলো দেশ হয়ে উঠে।  ১৯২০ সালে টঙ্গিপাড়ায় যে ছেলেটির জন্ম হয়েছিল পরাভূত বাঙালির মুক্তির জন্য যিনি দীর্ঘজীবন কারাগারে অন্তরীন থেকেও মুক্তির নেশায় উব্দেলিত ছিলেন যারা লালিত স্বপ্ন একদা মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্মদান সম্ভব হয়েছিল সেই অসম সাহসিক ভালবাসার মানুষটিকে নির্মমভাবে ষড়যন্ত্রের বেড়ায় আবদ্ধ করে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। এদেশপ্রেমিক মানুষটিকে হত্যার মাধ্যমে তিনি দেশ কেন বাঙালির হৃদয়ে পরিণত হয়েছিলেন।  তাঁর আত্মার স্পন্দন জাতির বিবেকের কাছে অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়েছে। বিচ্ছেদ ও বিষাদে ঢাকা তার বত্রিশ নম্বর ধানমন্ডি প্রতিটি বাঙালির দীর্ঘশ্বাসে উপজীব্যতা পেয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মুখে সেঁটে গেছে এক রাসেলের নিষ্পাপ মুখ।  পৃথিবী যতদিন থাকবে’ ততদিন যেমন বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ভালবাসা, দেশপ্রেম, ৭ই মার্চ থাকবে। তেমনি থাকবে খন্দকার মোশতাকসহ সমস্ত মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী মানুষগুলোর নাম ব্র“টাস্ মীর জাফরদের কলঙ্কিত অধ্যায়ে। ওরা পশু ছিলানা কারণ পশুরা প্রকৃতির নিয়মে চলে। ওরা মানব নামে দানব ছিল। ছিল বলেই রাতের আলো আধারীতে ষড়যন্ত্রে বেড়াজাল বুনতে ভালবাসতো। একাত্তরে যারা জেনারেল ইয়াহিয়া, জুলফিকার আলী ভূট্টোর পা চেটেছিল, ১৯৭১ সালে যারা নিক্সন কিসিঞ্জারের বিদেশনীতিতে উষ্কে উঠেছিল, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ছিল তারাই ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সমূলে উৎপাটনের প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। ভাবতে অবাক লাগে তৎকালীন সেনা অফিসার জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর ৭ দিনের মধ্যেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশের সূর্য সন্তান স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অর্ন্তভূক্তি ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারী করেছিলেন। বাঙালির ইতিহাস বিভ্রান্তি অবাক করে, সঠিক ইতিহাস দিনের পর দিন বিকৃত করা হয়েছে। মুছে দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারা।  স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে ১২১ টি দেশ স্বীকৃতি দান করেছিল অথচ, কেন ১৯৭৫ সনে এসে ১৬ই আগস্ট সৌদিআরব ও ৩১ শে আগষ্ট চীন স্বীকৃতি দেয়? এবং লিবিয়া কিভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দান করে? কেন বৈদেশিক অর্থের যোগান ঘটে ? কিভাবে সি.আই.এ বঙ্গবন্ধুর খুনের সথে চক্রান্তে ছিল ?। কেন পরাজিত পাকিস্থান বাহিনী ১৫ই আগষ্টকে অভ্যূত্থান বলে ঘোষনা দিয়েছিল ? সেই আগস্ট মাসেই কিভাবে পাকিস্থান ৫০ হাজার টন চাল দেড় কোটি গজ কাপড় বাংলাদেশকে তৃপ্তিভরে উপঢৌকন দেয়। তারজন্য একদিন আর্ন্তজাতিকভাবে তাদের ক্ষমা চাইতেই হবে। কারণ যেখানে বঙ্গবন্ধুর শরীরে দেশের মাটি উর্বর হয়েছে, সেখানে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের রক্তে স্রোতস্বিনী নদীতে বান ডেকেছে। যেখানে জাতীয় চারনেতার নিঃস্বার্থ দেন ও সর্বোচ্চ মানে বাংলার পাহাড় উপত্যকা সমৃদ্ধ হয়েছে, সেখানে কোন চক্রান্ত ও দূরভীসন্ধিকারী পালাবার পথ খুঁজে পাবেনা।  ১৫ই আগষ্টের পর ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত পুরো বাংলাদেশকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল। রাতের ঢাকাতে ছিল আর্মির হুইসেল, ট্যাংকের ঝমঝম দানবের শব্দ, নিষ্ঠুর, কৃপন, কপট, ধূর্ত মানুষগুলোর আভ্যন্তরীন ও আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের ফিসফিস রঙ্গালাপ। আমাদের চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মনছুর আলী ও তাজউদ্দিন আহমেদকে তাদের মন্ত্রী পরিষদের শপথ করিয়ে তাদের আইনের কঠোর বেড়াজালে বাঁধতে চেয়েছিল। মাথানত করেনি আমাদের নেতৃবর্গ। সংবাদপত্রের উপর ষড়যন্ত্রকারীরা সেন্সরশিপ দিয়ে রাজনৈতিক কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড স্থবির করে অগনীত রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গুপ্ত হত্যা করা হয়েছিল। যার কোন হিসাব নেয়। জাতীয় চারনেতার বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের সম্ভার, অমোঘ দেশপ্রেম কুচক্রীদের যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারারুদ্ধ অবস্থায় তাদেরকে ৩রা নভেম্বর হত্যা করা হয়। তারপর দীর্ঘ অরাজকতা, ভোটের নামে ভোট ডাকাতি। ইতিহাসের সব মহৎ মানুষগুলোকে হত্যার পেছনে কারণ ছিল ভালবাসা ও দেশপ্রেম।  ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আগমন ৩২ নং ধানমন্ডিতে পদচারনে পুরো বাংলাদেশ যেন কেঁদেছিল সেদিন। অঝোর ধারায় সেই বর্ষার বাদল আর মানুষের কান্না এক হয়েছিল। যেন হারানো এতিম সন্তানটা ঘরে ফিরল। কোন প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় পুরো পৃথিবীর দুয়ারে পিতৃহত্যার বিচার চাইতে চাইতে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলকরণের মাধ্যমে পিতৃহত্যার বিচারে তিনি সফল হয়েছিলেন। ধণ্যি শেখ হাসিনা।  আমাদের বোন, শেখ হাসিনাকে বলছি, তোমার স্বপ্নই আমাদের আলোদীপ্র, তোমার আনন্দ আমাদের উৎস, তোমার অনুভব আমাদের অনুভূতি, তোমার ত্যাগ আমাদের দেশপ্রেম, তোমার বুকজুড়ে দেখ আমাদের ভালবাসা, আমাদের চোখে দেখ তোমারই ‘সোনার বাংলা’ কতটা কাছে, হাতবাড়াও তোমারই চৌহদ্দীতে।

লেখক- নাজনীন সরওয়ার কাবেরী,সাংস্কৃতিক সম্পাদক,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ককসবাজার জেলা শাখা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT