হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়া

ফুটবল ছাড়ছেন ম্যারাডোনা!

undefined

ফুটবলের পেশাদার জগৎ খুবই কাঠখোট্টা। পেশাদারি ক্লাবগুলোর ম্যানেজমেন্টের কাছে নিট ফলাফল ছাড়া যেন আর সবকিছুই গৌণ। এখানে ব্যক্তির সুনাম, প্রতিভা—কোনো কিছুরই কোনো মূল্য নেই। ফল এনে দিতে না পারলে সেই খ্যাতিমান ব্যক্তিই হয়ে উঠবেন অচ্ছুত। তাঁকে ছুড়ে ফেলে দিতে বিন্দুমাত্র দেরি হবে না ওই কঠিন ম্যানেজমেন্টের।
ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রসঙ্গেই এই অবতারণিকাটি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফুটবল-জগতেই আর থাকবেন না। নেপথ্য কারণ, ফুটবলের পেশাদার জগতের ওই কাঠখোট্টা ব্যাপার-স্যাপার। রেডিও ন্যাশিওনালকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কোচদের সঙ্গে ক্লাবের ম্যানেজমেন্টের এ ধরনের ব্যবহারের প্রতিবাদ জানাতেই ফুটবলে আর না থাকার ঘোষণাটি দিয়েছেন ম্যারাডোনা।
ম্যারাডোনা আর ফুটবল সমার্থক শব্দ—এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুটবল শব্দটি উচ্চারিত হলেই যেন ক্রীড়ামোদীদের মানসপটে ম্যারাডোনার মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। সেই ম্যারাডোনা আর ফুটবলেই থাকবেন না—এমন সংবাদ সত্যিই স্তব্ধ করে দেয় ফুটবলপ্রিয়দের।
কোচ হিসেবে ম্যারাডোনা আর্জেন্টাইন জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাছাইপর্বে খাদের কিনারায় থাকা আর্জেন্টিনাকে কোচ হয়ে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে। কিন্তু আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর সেই ম্যারাডোনা পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠলেন দেশটির ফুটবল-কর্তাদের কাছে চরম অসহনীয়। ত্যক্ত-বিরক্ত ম্যারাডোনা বাধ্য হয়েছিলেন পদত্যাগে। আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর বিশ্ব ফুটবলের প্রেক্ষাপটে অনেক পিছিয়ে থাকা অথচ ধনী দেশ আরব আমিরাতের আল-ওয়াসল নামের একটি ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু সেখানেও ১৪ মাসের বেশি টিকতে পারেননি তিনি। ক্লাবের বাজে পারফরম্যান্সে আল-ওয়াসলের ম্যানেজমেন্ট ম্যারাডোনার মতো এক ব্যক্তিত্বকেও ছুড়ে ফেলতে দ্বিধাবোধ করেনি।
নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্প্রতি তিনি মিলিয়েছেন রিভারপ্লেটের কোচের ভাগ্যকে। রিভারপ্লেটের কোচ আলমেইদাকে সম্প্রতি বরখাস্ত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ব্যাপারটি একেবারেই ভালো লাগেনি ম্যারাডোনার। তিনি বলেছেন, ‘আলমেইদাকে বরখাস্ত করে রোববারের মধ্যে নতুন কোচ র্যামন ডায়াজকে নিয়োগ দেওয়া হলো রিভারপ্লেটে। এটা কোনো কথা হলো! নাহ! আর ফুটবলেই থাকব না।’
৫২ বছর বয়সী ম্যারাডোনার জীবন তো নানা উত্থান-পতনে ভরা। প্রায় এক প্রচেষ্টাতেই আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি। ভাঙা দল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন আর্জেন্টিনাকে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের দুটো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে দলকে জিতিয়ে শেষ ম্যাচের আগেই ডোপ পাপে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সিরিয়াস কোচিংয়ে অনেকটা শখ করেই আসা। ‘ঈশ্বরতুল্য’ সুনাম তাঁকে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বানিয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ। কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা নেহাতই মন্দ ম্যারাডোনার। আল-ওয়াসল থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি তাঁর ইরাকের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ারও কথা উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। গোল ডটকম।