টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন ২ নারী,প্রথম হয়েছে ১৩ বছরের সাঁতারু রাব্বি ১০ দিনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দল ভাসান চরে যাচ্ছে ‘ চকরিয়ায় সৌদিয়া বাসে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ডাকাত আটক : বন্দুক ও লুল্টিত মালামাল উদ্ধার টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিল ৪৩ সাঁতারুঃ প্রথম পৌঁছেন ১৩ বছরের রাব্বি ওষুধ ছিটিয়ে রোদে শুকালেই টকটকে লাল হয়ে যাচ্ছে সবুজ টমেটো তিন মাস পর আবারও একদিনে শনাক্ত আড়াই হাজার ছাড়ালো আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল রোহিঙ্গা, ইসলামোফোবিয়া ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্বেগ নেটং পাহাড়ে ৮০ বছরের বাঙ্কার- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক মোঃ আমিন আর নেই:টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটি ও মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের শোক

ফরেনসিকের নেই জবাবদিহিতা, ঘুরে যায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন: কেন ভুল?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ বের করতে সুরতহাল রিপোর্টের পর ফরেনসিক প্রতিবেদনই পুলিশের ভরসা। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। অথচ এই ময়নাতদন্ত করা ও প্রতিবেদন তৈরিসহ পুরো প্রক্রিয়ায় চলছে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাতেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ভুল হয়। ঘুরে যায় মামলার তদন্ত। পার পেয়ে যায় অপরাধীরা।

পুলিশ বলছে, সাধারণত ফরেনসিক বিভাগকে কারও কাছে তেমন জবাবদিহি করতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মামলারও দায়সারা প্রতিবেদন দেয় বিভাগটি। এতে তদন্ত ঠিক পথে এগোতে পারে না।

পুলিশের দাবি সরাসরি অস্বীকার করেননি ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, নানান সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় ফরেনসিক বিভাগকে। অবহেলিত এই বিভাগে যেসব যন্ত্রপাতি আছে তার সর্বোচ্চটুকুই ব্যবহার করে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

সুমাইয়া-মিজানুর হত্যাকাণ্ড
ঘটনা ২০১৬ সালের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমান ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া নাসরিনের মৃতদেহ পাওয়া যায় রাজশাহীর নাইস ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে। সুমাইয়ার মৃতদেহ বিছানায় চিত করা অবস্থায় মুখে বালিশ চাপা দেওয়া ও কম্বলে ঢাকা ছিল।

মিজানুরের হাত বাঁধা ছিল। মৃতদেহ ছিল সিলিং ফ্যানে ঝোলানো। ভিকটিম সুমাইয়ার বাম চোখের ভ্রুর ওপর গভীর কাটা দাগ এবং দুই বুকে কামড়ের দাগ ছিল। মিজানুর রহমানের গলায় ফাঁসির চিহ্নের পাশাপাশি গলার দুই পাশের চামড়ায় জমাটবাঁধা রক্তের লালচে দাগও ছিল।

তখনকার অফিসার ইনচার্জ বোয়ালিয়া থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত সেলিম বাদলের ওপর মামলার দায়িত্ব পড়ে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠান সেলিম। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। সন্দেহ হয় এমন লোকদের জিজ্ঞাসাবাদও করেন।

কয়েকদিন পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। সেখানে মিজানের মৃত্যুর কারণ বলা হলো আত্মহত্যা। রিপোর্টে লেখা ছিল, ‘Death was due to asphyxia as a resulting from hanging. The Ligature mark was ante mortem in nature and consistent with Suicidal Nature.’

অন্যদিকে সুমাইয়ার মৃত্যুর কারণ দেখানো হয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। ‘Death was due to shock and intracranial hemarage resulted from injures which were ante mortem and consistent with suicidal nature.’

প্রতিবেদন দেখে মনে হতে পারে সুমাইয়াকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন মিজানুর। তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হননি আদালত। সেটা গ্রহণও করেননি। নতুন করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহী জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নিবিড়ভাবে সুরতহাল রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন। সিসিটিভির ফুটেজ, ভিকটিমদের ফোনকল রেকর্ড পর্যালোচনা করে পিবিআই। সন্দেহ থেকে আসামি আহসান হাবিব রনিকে (২০) চিহ্নিত করে আটক করা হয়। পিবিআই’র জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেন হাবিব রনি।

হাবিব জানান, মিজানুর রহমানকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। তার সঙ্গে ছিল রাহাত, আলামিন ও উৎস। সবাই মিলে মিজানুর ও তার প্রেমিকা সুমাইয়াকে হোটেলে খুন করে।

রনি, রাহাত, আল আমিন পূর্বপরিচিত। ভিকটিম সুমাইয়ার সঙ্গে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল রাহাতের। পরে সে রাহাতকে ছেড়ে মিজানুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। এর ফলে রাহাত মিজানুরের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ঘটনার দিন মিজানুর ও সুমাইয়া হোটেলে উঠেছে এমন তথ্য পায় হাবিব। পরে হোটেলের পূর্ব পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে ৩০৩ নম্বর কক্ষে ঢুকে সুমাইয়াকে হোটেল কক্ষে একা পায় তারা। এরপর সুমাইয়াকে জিম্মি করে মিজানকে ডেকে আনা হয়।

ওঁত পেতে থাকা রাহাত ও অন্যরা মিজানকে মারধর করে একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর সুমাইয়াকে ধর্ষণ করে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে সুমাইয়ার ওড়না দিয়ে মিজানুরকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় সিলিংয়ে। হাবিবের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলামিন, রাহাত, উৎসকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও নিজেদের দোষ স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয়।

পুলিশের বিশেষায়িত এই তদন্ত সংস্থা বলছে, এমন ১০টি মামলা বছরখানেক আগে গবেষণা করে দেখা গেছে, ময়নাতদন্ত সঠিক হচ্ছ

কেন ভুল?
কী কারণে ময়নাতদন্তে এমন ভুল প্রতিবেদন এসেছিল? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে যোগাযোগ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে সময় রামেক’র ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন ডা. এনামুল হক। যিনি ২০১৯ সালের শুরুতেই অবসরে গেছেন।

ভুল ময়নাতদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। ভুলও তুলনামূলক কমছে। আমি যখন এই বিভাগে ছিলাম, অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। আমার অবসরে যাওয়ার আগে প্রায় ৩৫০টির মতো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা ছিল। যেগুলোর প্রতিবেদন দিয়ে আসতে পারিনি।’

সাবেক এই প্রধান আরও বলেন, ‘এমনও হয়েছে লাশকাটা ঘরে বাল্ব জ্বলতো না। টর্চলাইটের আলোয় লাশ কাটতে হতো। মৃতদেহ কাটা সহজ নয়। ডেডবডির ভেতর অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকে। অথচ মোমবাতি জ্বালিয়ে যন্ত্রপাতি ছাড়া ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এমন পরিবেশে কাজ করলে ভুল হতেই পারে। এখনও রামেক’র মর্গের অবস্থা বেশ নাজুক।’

পিবিআই যা বলছে
পিবিআইয়ের পক্ষে এসব ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেন বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা বলা হলেও আসলে খুন করা হয়েছে, এমন ঘটনা অনেক। আমরা অনেক ঘটনা পুনঃতদন্ত করেছি। অধিকাংশ প্রতিবেদনে ভুল ধরা পড়েছে। ফরেনসিক ডাক্তারদের সরাসরি কোনও জবাবদিহি করতে হয় না। সেক্ষেত্রে একটা অবহেলা কাজ করেই।’

বিশেষ এই পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা আগামী এক মাসের মধ্যে ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার মামলা-ময়নাতদন্ত-কারণ এসব নিয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতরে জমা দেবো। সেখানে দেখানো হবে আরও কত অবহেলা থাকে। তবে মূল কথা, এই ফরেনসিক বিভাগকে আধুনিক করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণও দিতে হবে।’

ফরেনসিক চিকিৎসকরা যা বললেন
ভুল হওয়া ময়নাতদন্তের বিষয়টি একেবারেই অস্বীকার করেননি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদর্শ মর্গে ময়নাতদন্ত না হলে প্রতিবেদন ভুল হতে পারে। শুরু থেকেই এটি অবহেলিত বিভাগ। সে কারণে নতুনরা এই বিভাগের প্রতি আগ্রহ দেখায় না। ডোমদের সঠিক প্রশিক্ষণও নেই। মেশিন নেই, লাইট নেই। সঙ্কটগুলো থেকেই যাচ্ছে। এই বিভাগের প্রতি আলাদাভাবে নজর দেওয়া উচিত।

ভুলের যত কারণ
পিবিআই বলছে, বেশকটি কারণেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ভুল হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের যথাযথ ফরেনসিক প্রশিক্ষণ না থাকা, পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকা, সহায়তাকারী ডোম নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকা, ডোমদের ওপর ডাক্তারদের অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ক্ষেত্রে বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত না করা, প্রভাবশালী কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেওয়া এবং ডাক্তারদের প্রণোদনার অভাব ইত্যাদি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT