টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রেমের আড়ালে নারী পাচারের ফাঁদ সনজিদার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৩
  • ২০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

38365_1_1 copyপিরোজপুর থেকে পালিয়ে যাওয়া কথিত দুই সমকামী তরুণী সানজিদা ও শিলাকে মঙ্গলবার ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পরে পিরোজপুর থানা পুলিশের কাছে তাদের সোপর্দ করা হয়।

বুধবার সকালে পিরোজপুর সদর থানায় তাদের আনা হয়। এরপর সমকামী প্রেমের আড়ালের রহস্য উন্মোচন হতে থাকে।

বেশ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সানজিদা ও শিলার গ্রেপ্তার খবর মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত হলেও পিরোজপুরে সাংবাদিক ও পুলিশের জেরায় তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় নেপথ্যের অভিনব প্রতারণার কৌশলের তথ্য।

অভিযুক্ত সানজিদার নামে গত ২০ জুলাই নারীপাচার ও অপহরণ আইনে মামলা করেন অপহৃত শিলার বাবা কৃষ্ণকান্ত শীল। গত বছর রমজানেও একই অভিযোগে থানা ও আদালতে মামলা করেন চাঁদনী নামের এক মেধাবী ছাত্রীর ভাই রেজাউল করিম মাসুদ।

সানজিদা ও শিলাকে থানায় উপস্থিত করার সময় মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, আমি বিদেশে থাকার সময় এই সানজিদাই আমার বোন চাঁদনীকে অপহরণ করেছিল। পরে বোনকে উদ্ধারের জন্য দেশে ফিরে আসি। মামলা করার পর পুলিশের সহায়তায় আমার বোনকে বরিশাল থেকে উদ্ধার করি। বিদেশে থাকার সময় বোনকে অনেক স্বর্ণাঙ্কার পাঠিয়ে ছিলাম। যার পুরোটাই ওই সানজিদা হতিয়ে নেয়। চাঁদনী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া সত্ত্বেও এই সানজিদার কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।

এ কথা বলে সবার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাসুদ। একই সঙ্গে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন অপহৃত শিলার বাবা কৃষ্ণ কান্ত শীলও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক মেয়ের বাবা সানজিদার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, সানজিদা তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলেন। এরপর জিম্মি করেন ওই সব তরুণীর পরিবারকেও। হাতিয়ে নেন টাকা-পয়সা ও স্বর্ণাঙ্কার।

শিলা অপহরণের পর সানজিদা মোবাইলে ফোনে শিলার বাবা-মার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এরপর দেড় লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এ সূত্র ধরে গ্রেপ্তারের ফাঁদ পাতে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাদল কৃষ্ণ শিলার বাবা সেজে মুক্তিপণের দেড় লাখ টাকা নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় সানজিদাসহ শিলাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ের ৫ নম্বর রোডের ১১ নম্বরের ময়না ভিলায় সুখেরঠিকানা নামে বাস থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেন।

এদিকে, ঘটনার মূলহোতা সানজিদা সম্পর্কে এলাকাবাসী দিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া হলেও গত সাত/আট বছর ধরে পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে এসব কাজে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সানজিদা নারী পাচারকারি দলের সদস্য। তিনি কিছুদিন পর পর ঠিকানা পরিবর্তন করেন। বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।

অপহৃত দশম শ্রেণীর ছাত্রী শিলা রাণীর মা কনক রাণী জানান, গত দুই মাস আগে সে আমার বাসার পাশেই একটি রুম ভাড়া নেয়। এরপর থেকে ঘনিষ্টভাবে আমার মেয়ের সাথে মিশতে শুরু করে। আমাকে বলে, শীলা অনেক বড় হবে। আমাকে বিনা পয়সায় পড়ানোর সুযোগ দেন। আমার মেয়েটি ছোট আর সেও একজন মেয়ে তাই তার কথা মেনে নেই। কিন্তু সে যে এমন কাজ করতে পারে তা ভাবতে পারিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সানজিদার পরিবার থাকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। তার বাবা চাঁদপুরে চাকুরি করেন। এ প্রসঙ্গে তার বাবা সোবাহান ওরফে বিএসসি জানান, মেয়েকে শাসন করেছি কোনো ভাবেই তাকে ঠিক করতে না পেরে ওকে ওর নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের সাথে ওর কোনো যোগাযোগ নেই। মহিলা কলেজের হলে থাকা অবস্থায় একই অভিযোগে তাকে হল থেকে বহিস্কার করা হয়।

ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর সানজিদা র‌্যাবকে জানিয়েছিলেন, শিলা ও আমি একে অপরকে দীর্ঘ দিন ধরে ভালোবাসি। ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে আমরা ঢাকায় এসেছি। হিন্দুশাস্ত্র মতে সোমবার সন্ধ্যায় ওই বাসায় সিঁদুর পরিয়ে আমি শিলাকে বিয়েও করেছি।

শিলাও বলেছিলেন, একটা ছেলে যদি একটা মেয়েকে ভালোবাসতে পারে, তবে একটা মেয়ে কেনো আরেকটা মেয়েকে ভালোবাসতে পারবো না?

তবে তাদের পিরোজপুরে আনার পর দুজনেই নতুন কথা বলতে শুরু করেন। তারা বলেন, শুধুমাত্র বন্ধুত্বের কারণেই আমরা ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। এসময় সানজিদা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে। সানজিদা দাবি করে বলেন, একটি মেয়েও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। শিলাও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবে না।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সমকামীতার আড়ালে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয় জড়িত। পুরোপুরি তদন্ত শেষে মূলরহস্য উন্মোচিত হবে। সানজিদার বিরুদ্ধে আগেও মামলা হয়েছে। তবে অপহৃত মেয়েরা সানজিদার পক্ষে অবস্থান নেয়ায় তার বিপক্ষে শক্তিশালী কোনো পদক্ষে নেয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, সানজিদা পিরোজপুর সরকারি সোহাওয়ার্দী কলেজের বাংলা অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্রী এবং শিলা পিরোজপুর করিমুন্নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। শিলাকে পটিয়ে রাজি করিয়ে পালাবার একদিন আগে সানজিদা শিকারপুরের সবার কাছ থেকে ঢাকায় যাবার কথা বলে বিদায় নেয়। এসময় তিনি বেশ কান্নাকাটি করেন। এর পরেরদিনই সকাল ১০টার দিকে শিলাও নিখোঁজ হয়। শিলার পরিবার থেকে খোঁজ নিতে গেলে শিলার বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন সানজিদা। তার হুমকি ও মুক্তিপণের সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে সন্দেহ করে। এছাড়া শিলার বইখাতা খুঁজে সানজিদার লেখা প্রেমের চিঠিও উদ্ধার করা হয়। এ থেকে ধারনা করা হয় শিলার সাথে সানজিদার সমকামিতার সম্পর্ক ছিল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT