প্রিয়,টেকনাফবাসী আসসালামু আলাইকুম, “ঈদ মোবারক ”

প্রকাশ: ২২ মে, ২০২০ ৩:৩২ : অপরাহ্ণ

প্রিয়,টেকনাফবাসী আসসালামু আলাইকুম, আপনাদের সকলকে জানাই ঈদ মোবারক ও ঈদের শুভেচ্ছা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি করোনাভাইরাস চিন্তা করে ঘরে অবস্থান করুন, ঈদ মানেই আনন্দ ও খুশির উৎসব। ঈদের আনন্দ ঘরে পরিবারের সাথে উপভোগ করুন।
ঈদ শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ হলো ফিরে আসা। মুমিনের জীবনে প্রতি বছর নব নব আনন্দের বার্তা নিয়ে এটি আগমন করে বিধায় একে ঈদ বলা হয়। সব জরা-জীর্ণতা ও পংকিলতাকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে ঈমানদারের জীবনে নব প্রাণের সঞ্চার করে ঈদ। আর ফিতর শব্দের অর্থ হল ভাঙ্গা বা খ- বিখন্ড করা।

এ জন্য এ ঈদ হলো ঈদুল ফিতর। এ ছাড়াও প্রকৃত রোজাদার নিজের মধ্যকার সকল আমিত্ব, বড়ত্ব, গর্ব-অহংকার, মন্দ কথা-কাজের যে বেড়াজালে আবদ্ধ ছিল সিয়াম সাধনা দ্বারা এ জাতীয় হীন অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করে অন্যায়-অশ্লীলতার সব দেয়ালকে চূড়ান্তভাবে ভেঙ্গে চুরমার করার দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। সমাজে চলতে গিয়ে আমরা অন্যায়ভাবে সৃষ্টি করেছি ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নীচু, কালো-ধলো ও আশরাফ-আতরাফ বিভেদ; যা শ্রেষ্ঠতম জীবন ব্যবস্থা ইসলামে তো বটেই কোনো মানব রচিত জীবন ব্যবস্থাতেও কাম্য নয়। আজকের এই ঈদের দিনে, মহা আনন্দ-খুশির পবিত্র লগ্নে মানুষে মানুষে এই ভেদাভেদের দেয়ালকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার সময় এসেছে। তবেই ঈদুল ফিতর নামের যথার্থতা ও সার্থকতা পরিষ্ফুটিত হবে। সিয়াম সাধনার দ্বারা প্রথমত নিজকে অতঃপর পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করে ধনী-গরিবের মধ্যকার সকল বাধার প্রাচীর ভেঙ্গে দেহ-মন পাক-সাফ, পুত-পবিত্র করে রোজাদার জান্নাতি এক আবেগ-অনুভূতি নিয়ে ঈদের ময়দানে হাজির হয়। কালো-ধলো, আশরাফ-আতরাফ এক কাতারে দাঁড়িয়ে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে এক আল্লাহর দরবারে সিজদাবনত হয়। ঘোষণা করে বিগলিত চিত্তে ‘নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার সাধনা, আমার জীবন-মরণ বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য’ (সূরা আল আনআম-১৬২) আমাদের জাতীয় কবি নজরুল তাইতো গেয়ে উঠেছেন, আজ ভুলে গিয়ে দোস্ত দুশমন হাত মিলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব কর নিখিল ইসলামে মুরীদ। মুমিনের জীবনে ঈদ আগমন করে ত্যাগের মহিমা নিয়ে। ভোগ সর্বস্ব জীবন মুমিনের নয়। অপরের জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেয়াতে কি পরমানন্দ তা শুধু অনুভব করা যায়, ভাষায় প্রকাশ করার নয়। ঈদের আনন্দ যাতে ধনী-গরিব সবাই ভাগ করে নিতে পারে আমাদের সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল তাইতো গেয়ে উঠেছেন, ‘রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ+ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ’। সত্যিই আজ নিজকে বিলিয়ে দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ। কি অপূর্ব দৃশ্য হবে সে সমাজের যে সমাজে কোনো দরিদ্র থাকবে না। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়ে সমাজ হবে শান্তিপূর্ণ। দান-সদকা-যাকাত গ্রহণ নয় বরং দেয়ার জন্য সবাই হবে প্রস্তুত। আমরা যেন ভুলে না যাই আমাদের সমাজের নিরন্ন-অসহায়দের কথা। ঈদে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। বিভিন্ন বাক্য দ্বারা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

নুরুল হোসাইন
সাধারন সম্পাদক
টেকনাফ সাংবাদিক ইউনিটি।


সর্বশেষ সংবাদ