টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা আতসাতের অভিযোগ টেকনাফে এতিম ও বিধবার হক কুক্ষিগত করে মিজানের বিলাসিতা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:::: টেকনাফ টেকনাফ সাবরাং’এ দেবর নির্যাতনে এক গৃহবধু নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। স্বামীর অট্টালিকা ধন-সম্পদ  থাকার পরও তার কোন সুফল পাচ্ছে না। দেবরের নির্যাতন ও কুক্ষিগত করে রাখা ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে পেতে প্রশাসনের শরাপন্ন হয়েছে উক্ত গৃহবধু। এব্যাপারে টেকনাফ থানায়  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্যারবিল গ্রামের মৃত ইব্রাহিম টাইগারের স্ত্রী বেবি ইব্রাহিম তার দেবর মৃত মোঃ হাছানের ছেলে মিজানুর রহমান প্রকাশ দরিয়ার মিজান ভাই ইব্রাহিম টাইগার ২০০৯ সালের মার্চ মাসের ১৭ তারিখ বড় স্ত্রীর হাতে চট্টগ্রামে নিমর্মভাবে নিহত হয়। স্বামীর মৃত্যুকালে ছোট ছেলে আবু ইব্রাহিম ও স্ত্রী বেবি ইব্রাহিমের নামে চট্টগ্রাম জুবলী রোডস্থ ষ্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ২২ লক্ষ টাকা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫’শ ৯ টাকার ২টি চেক দিয়ে দেয়। মৃত্যুর কয়েকদিন পর বিবাদী মিজান প্রলোভন দেখিয়ে চেক দুটি নিয়ে টাকা উত্তোলন করে বিলাসিতা করছে এবং একটি টাকাও ভাবীকে বুঝিয়ে দেয়নি। উক্ত টাকা ফেরত চাইলে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি পিতৃহারা শিশু আবু ইব্রাহিমসহ ভাবী বেবি ইব্রাহিমকে অদ্যবদি কোন টাকা তো দূরের কথা স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত অর্জিত সম্পদের বাড়ীতেও ঠাই হয়নি। তার নির্যাতনের বিচার চেয়ে ২০১১ সালের মে মাসের ১১ তারিখ টেকনাফ থানায় মিজানকে বিবাদী করে প্রথম একটি এজাহার দায়ের করে। এজাহার দায়েরের পর বিবাদী মিজান স্বামীর সকল সম্পদ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রভাবশালীদের চাপে মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে। সরল বিশ্বাসে বেবি ইব্রাহিম মামলা তুলে নিলে এপর্যন্তও কোন ওয়াদা রক্ষা করেনি দেবর মিজান। এব্যাপারে ২০১১ সালের ৭ ডিসেম্বর সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ ৯ মেম্বার স্বাক্ষরিত শালিশী রোয়েদাদ প্রদান করেন।  তাতে বিবাদী মিজানুর রহমানকে পর পর ৩ বার নোটিশ প্রদান সত্ত্বেও আসামী হাজির না হওয়ায় বাদীর প্রাথমিক জবানবন্দী শ্রবন করে স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি সংযুক্ত খতিয়ান নং এবং স্বামীর ঘরবাড়ি ও ব্যাংক একাউন্টের সম্পূর্ণ টাকা জব্দ করে আতœসাত করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে তারা স্বাক্ষর করেন। এদিকে ২০১১ সালের ১২ মে টেকনাফ মডেল থানা বরাবরে লিখিত এজাহারে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিক মিয়া, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হামিদুর রহমান মামলার ব্যবস্থা গ্রহনের জোর সুপারিশ করেন। এজাহারের প্রেক্ষিতে টেকনাফ থানা বিবাদী মিজানকে পর পর ৩ বার নোটিশ প্রদান করেন। অবশেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর অধিকার আদায়ে স্বামীর নিজ বাড়ীতে সন্তান আবু ইব্রাহিমসহ গেলে বিবাদী মিজানুর রহমান আবার মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এসময় তার আতœচিৎকারে এলাকার মেম্বার ছব্বির আহমদসহ প্রতিবেশী লোকজন তার নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ এসআই মোঃ ইয়াছিনকে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়। এসআই ইয়াছিন ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক দ্বিতীয় পক্ষ মিজানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় থানায় হাজির হওয়ার নোটিশ প্রদান করেছেন। অপরদিকে ইব্রাহিম টাইগারের টাকা ও ধন সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখা ইয়াবা আসক্ত মিজানকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও টেকনাফ থানা বার বার নোটিশ প্রদান করা সত্ত্বেও কিভাবে বছরের পর বছর আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, এ প্রশ্ন এলাকাবাসীসহ জনমনে ক্ষোভের সঞ্চালন হয়েছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এতিম ও বিধবার হক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT