টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

প্রায় ১ যুগেও চালু হয়নি টেকনাফ বাস টার্মিনাল, বছরে ২০ লাখ টাকা আয় বঞ্চিত : টার্মিনালটি কোন উপকারে আসছেনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৩
  • ৩৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ ::::‡v‡প্রায় দীর্ঘ ১ যুগেও চালু হয়নি টেকনাফ বাস টার্মিনাল। টেকনাফবাসীর প্রয়োজনে ২০০২ সালের ২২ আগষ্ট ৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে পৌর এলাকার নাইট্যং পাড়ার নাফনদী ঘেষে এ বাস টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। পরের বছর তিন কিস্তিতে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করে জায়গাটিতে বালু ভরাট করা হয়। বর্তমানে আধুনিক এ বাস টার্মিনালের শতকরা ৬০ ভাগ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও  বাকি কাজের অর্থ  বরাদ্দ না পাওয়ায় চালু হয়নি বাস টার্মিনালটি।  ফলে পৌরসভা প্রতি বছর ২০ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে ষ্টেশন থেকে  থেকে ৩০ বছর ধরে টেকনাফ বাস চলাচল করে আসছে। জানা গেছে, সরকার ২০০২ সালে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ বিশেষ প্রকল্পটি পাশ করে। ২০০২ সালের ২২ আগষ্ট  ওই বছরের আগষ্ট মাসে বিএনপির নেতৃত্বধীন চারদলীয় জোটের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এর ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করেন। নিজস্ব টার্মিনাল থাকলে ও কর্তৃপ বছর বছর টেন্ডারের মাধ্যমে বরাদ্দ  দিয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকা করে লাভবান হতে পারতেন। সে সঙ্গে আবার  অতিরিক্ত যানজটও কমে যেতো। সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ ও রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রাপ্ত টাকার মধ্যে ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত টাকা ছিল না। টাকা ছাড় না পাওয়াতেই কার্যক্রম শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি শেষ না হওয়ায় অর্ধনির্মিত টার্মিনালের বিল্ডিংগুলো যতেœর অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে। লোকজন নিজেদের প্রয়োজনে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও দখলেরও পায়তারা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনাল ও সংযোগ সড়কটি অদ্যবদি সম্পন্ন হওয়ায় কোন কাজই হচ্ছেনা বরং সরকারি টাকা ও সম্পদের অপচয় হচ্ছে। উদ্বোধনের প্রায় ১১ বছর পরও চালু হয়নি বাস টার্মিনাল। পৌর কর্তৃপ ও বাস মালিক সমিতির গাফিলতির কারণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনালটি। কোনো কার্যক্রম না থাকায় ভবনটি পড়ে আছে অরতি। টার্মিনাল ভবনে টিকেট কাউন্টার, যাত্রী বিশ্রামাগার ও টয়লেটসহ সব রকমের সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কোনো দিন তালাই খোলা হয়নি টার্মিনাল ভবনের। শুধুমাত্র টোল আদায় ছাড়া আর কোনও কাজ নেই টার্মিনালের। ভবনটির নির্মাণ ও উদ্বোধনের পর একটি দিনের জন্যও বাস চলাচল করেনি এ টার্মিনাল থেকে। অথচ টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও প্রধান সড়কের পাশ থেকে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠা-নামা করা হচ্ছে নিয়মিতই। এতে যাত্রী দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনাও। একই এলাকার আকতার হোসেন বাবলু অভিযোগ করে বলেন, ‘টার্মিনালটি লোক দেখানোর জন্য বানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন,  বাস টার্মিনাল হলেও এর কোনও কার্যক্রম নেই। ষ্টেশনই থেকে বাস টার্মিনালের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আমাদের এখানে টার্মিনাল থাকলেও কোনও বাসই এখানে থামে না। বাস টার্মিনাল নির্মাণ হওয়ার পর থেকে ষ্টেশন মোড়কে বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে রিকশা শ্রমিকদের প্রতিবাদে সরানো হলেও পূনরায় একই স্থান দিয়ে  বাস ছাড়ে। এ রকম ব্যাপার স্যাপার দেখে মতো অনেকেরই প্রশ্ন, ‘টার্মিনাল থাকার পরও অন্য জায়গায় যাত্রী ওঠা-নামানো নিয়ে এত দৌড়ঝাপ কেন বুঝি না’ বামাকা টেকনাফ উপজেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান- শহরের ভিতর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। এসময় কথা হয় হাফেজ আহমদ নামক এক ব্যক্তির সাথে সে জানায় – একটি বাসকে সাইড দেওয়ার সময় হাফেজ আহমদ নিজেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমার একটি পা ভেঙে যায় ও শরীরের নানা জায়গায় ব্যথা পাই।’ এ ব্যাপারে জেলা বাসমালিক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক শামসুল হুদা টাইটেল ও  রকিকুল হুদা সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  জানায়-  পরিবহন ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। তাই এ ব্যবসায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে অনেকেই। টাকা থাকলেও কেউ পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করছে না। নিজের ২২ বছরের পরিবহন ব্যবসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন- অনেকেই গাড়ি কিনে আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কেউই টিকে  থাকছেন না। এ কারণেই গত পাঁচ বছর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও টেকনাফ বাস টার্মিনালকে চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। টেকনাফে একটি টার্মিনাল নির্মাণ হলেও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে এ উদ্যোগ সফল হচ্ছে না। এর মধ্যে বাস মালিকের সঙ্কটই প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে জানান তিনি। টেকনাফ দিয়ে প্রায় ১’শ টি বাস যাতায়াত করছে। এরমধ্যে  উপজেলায় ৯ জন মালিকের বাসের সংখ্যা ১৫টি। টার্মিনালটি চালু করার জন্য বাস, মিনিবাস, দূরপাল্লার কোচ ও সব ধরনের যানবাহন সম্মিলিতভাবে টার্মিনালে নিতে পারলে হয়তো টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব বলে মনে করছেন টেকনাফ পৌরবাসী। সচেতন নাগরিক কমিটির  পে কাইছার পারভেজ চৌধুরী বলেন এর জন্য পৌর মেয়রকে উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে শুধু টোল আদায়ই সার হবে। এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র হাজী মুহাম্মদ ইসলাম জানান- টার্মিনালটির নির্মাণ শেষ না হওয়ায় পৌরসভা বিশাল আয় থেকে বঞ্চিত ও শহরে যানজটের কথা স্বীকার করে  বলেন- সকল পরিবহন মালিক শ্রমিক বরাবর চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।  বাস টার্মিনাল সংস্কারের নামে টাকা নেয়া হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। যে কারণে সামান্য বর্ষায় কর্দমাক্ত হয়ে যায় এ বাসস্ট্যান্ডটি। এতে করে চরম দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রী ও পথচারীরা। সূত্র জানায়, বিপুল পরিমান টাকা আদায় করা হলেও পৌর কর্তৃপকে টার্মিনালটি উন্নয়নে কোন ব্যবস্থা নেয় না। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাসস্ট্যান্ডটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের অতি বর্ষার স্ট্যান্ড জুড়ে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পুরো স্ট্যান্ডটি কর্দমাক্ত হওয়ায় যাত্রী ও শ্রমিক হেঁটেও চলাচল তো দূরের কথা বাস গুলো রাখতে পারছেন না। তাছাড়া যাত্রীদের বাসে উঠা নামায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। টেকনাফ পরিবহন সংস্থার নেতা নবী হোছাইন বলেন- এ ব্যাপারে বলেন, গত দু’মাস আগে পৌর মেয়রকে বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়। তিনি ১৫ দিনের ভেতর টার্মিনালের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্র“তি দেন। অথচ দু’মাস অতিবাহিত হলেও টার্মিনালে কোন কাজ করা হয়নি। সংস্কার কাজ না হলেও পৌরসভায় চাঁদা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনাল নির্মাণ করা হলেও ১১ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ২শ’ ট্রাক বছরের পর বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে, অথচ টেকনাফ জুড়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রাক। জানা গেছে, টেকনাফ থেকে ছোট-বড় মিলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার বাস ট্রাক চলাচল করে। চালকেরা রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে বাস, ট্রাক দাঁড় করিয়ে বিভিন্ন গ্যারেজে মেরামতের অজুহাতে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে।  টার্মিনালটি সর্ম্পূণরুপে চালু করতে কয়েকবার আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে আলোচনায় বসেও কোন লাভ হয়নি। আইনশৃংখলা বাহিনীর নিরব ভূমিকা টার্মিনালটি চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এদিকে নানা জটিলতার কারণে টার্মিনালটি চালু করতে না পারলেও টার্মিনালের জায়গায় নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে যানজটমুক্ত রাখতে এবং মানুষের দুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছে টেকনাফবাসী।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT