হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়সাহিত্য

প্রার্থীদের প্রতি খোলা চিঠি

ddসাইফুল ইসলাম::::সংসদ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সাংগঠনিক নির্বাচনে বিবিধ পদপ্রার্থীদের প্রতি এ খোলা চিঠি। মানুষ সাধারণত পাঁচ উদ্দেশ্যে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ঃ ক. পরিচিতির জন্য, খ. সম্মানের জন্য, গ. ক্ষমতার জন্য, ঘ. অর্থের জন্য, ঙ. সেবার জন্য। আপনি কোন উদ্দেশ্যে প্রার্থী হয়েছেন? যদিও প্রত্যেক প্রার্থীই বলে থাকেন যে, সেবার জন্যেই প্রার্থী হয়েছেন। তা হলে সেবার জন্য রিক্সে যাওয়ার দরকার কী? মানুষকে জানিয়ে দিলেন যে, আপনি তাদের সেবার জন্য প্রস্তুত আছেন। বাকী তাদের পছন্দ হলে সমর্থন করবে, না হলে করবে না। এতে জান, মাল, ইজ্জত সবকিছু বিলীন করে দিয়ে বিজয়ী হলে কী লাভ বা না হলে কী ক্ষতি? এ পর্যন্ত যারা বিজয়ী হয়েছে তাদের কেউ কি ভোটারদেরকে পরিপূর্ণ তুষ্ট করতে পেরেছে? যারা বিজয়ী হতে পারেনি তাদের জীবন কি ব্যর্থ হয়ে গেছে ? আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যেই করেন, এ কথার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকলে কারো অহংকার করার বা হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। আল্লাহ অনেককে দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার অনেককে না দিয়ে পরীক্ষা করেন। অতএব কোন অবস্থাতেই যেন আপনার কারণে কারো জান মাল ইজ্জতের বিন্দু পরিমান ক্ষতি না হয়, সে দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে দুনিয়া আখেরাত উভয় প্রান্তেই। আপনি যে ব্যয় করবেন তা যেন কোন অবস্থাতেই অপচয়ের পর্যায়ে না পড়ে। এমন ভাবে এমন খাতে ব্যয় করবেন না যাতে আপনি নির্বাচিত হলে উসূল করার প্রয়োজন হয় বা নির্বাচিত না হলে আফসূস করার কারণ হয়। আপনার পোস্টার-লিফলেট যেন দাওয়াতীমূলক ও জনহিতকর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিকারী হয়। আপনার মিছিল-মিটিং যেন নামাজের পথে প্রতিবন্ধক না হয়ে সহায়ক হয়। আপনার কর্মীরা যেন অপর পক্ষের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের প্রতি যথাযত সম্মান প্রদর্শন করে। বিজয় বা পরাজয় উভয় অবস্থায় আপনিই যেন হন অপর পক্ষের কাছে সর্বপ্রথম দোয়াপ্রার্থী বা শুভেচ্ছা জ্ঞাপনকারী। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, শুধু এ দিন দিন নয়, আরো দিন আছে। আজকে আপনি ছাড়্ না দিলে কালকে আপনি ছাড়্ পাওয়ার আশা করতে পারেন না।

ভোটাররা সাধারণত পাঁচ কারণে প্রার্থী পছন্দ করে। ক. ব্যক্তি দেখে, খ. দল বা মার্কা দেখে, গ. অঞ্চল বা সম্পর্ক দেখে, ঘ. অর্থ বা প্রভাব দেখে, ঙ. ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখে। তাই প্রার্থীকে অবশ্যই ভোটারদের মনে এ বিশ্বাস জমাতে হবে যে, আমি অবশ্যই এ পদের যোগ্য। আমার প্রতি অধিকাংশের সমর্থন আছে। আমি অবশ্যই আপনাদেরই একজন। আমি অবশ্যই স্বনির্ভর, অন্তত জনসম্পদ চুরি করার প্রয়োজন নেই। আমার দ্বারা আপনার সৎস্বার্থ অবশ্যই সিদ্ধ হবে, অন্তত কারো বৈধ স্বার্থের কোন ক্ষতি হবে না। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এমন প্রার্থীকে পছন্দ করি, যিনি সমাজের নেতৃত্বের পাশাপাশি নামাজের ইমামতীরও যোগ্যতা রাখেন। কারণ তিনি জাগতিক বিষয়াদির সাথে সাথে ঐশ্বরিক বিষয়াদিরও জ্ঞান রাখেন, যা অবশ্যই সমাজসেবার জন্য উপকারী এবং প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ লোকেরও এমন প্রার্থীকেই পছন্দ করা উচিত। কারণ প্রকৃত ধার্মিক লোক প্রত্যেক ধর্মের লোকদের জন্যেই উপকারী হয়। তবে প্রত্যেক এলাকায় এ রকম প্রার্থী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। পক্ষান্তরে ইমাম ও খতীব হিসেবে এমন আলেমই পছন্দ হওয়া উচিত যিনি সমাজেরও নেতৃত্ব দিতে পারেন। মুসলিম সমাজে যিনি অমুসলিমদের নিরাপত্ত্বা দিতে পারেন না, তিনি মুসলিমদের নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। কারো যোগ্যতা আগে থেকেই দেখা যায় না, কাজ দিয়েই দেখতে হয়। তাই যিনি পূর্বে কাজ করার সুযোগ পাননি এমন কারো সম্পর্কে অযোগ্যতার অভিযোগ আনা চরম মিথ্যাবাদিতা এবং সন্দেহ করাটা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির প্রমান। প্রত্যেক নেতা অন্যদের সাথে নিয়ে হযরত আদম (আ.)-এর সুন্নাতের অনুসরণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের কাজ করতে পারেন। সময় ও সমাজের প্রয়োজন, আত্মবিশ্বাস ও যোগ্যতা থাকলে হযরত ইউসূফ (আ.)-এর সুন্নাতের অনুসরণে দায়িত্ব চেয়েও নিয়া যায়। হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাতের অনুসরণে প্রচলিত নিয়মে ছাফা-মারওয়া পাহাড়ে চড়ে পরকালীন জনকল্যাণের দিকে আহবানের মত এখনো প্রচলিত মঞ্চে উঠে ইহকালীন জনকল্যাণের দাওয়াত দেয়া যায়। নবীগণের সুন্নাতের বাস্তবায়ন ও ঈমান-আমলের হেফাজত নবীর উত্তরাধীকারী আলমেগণই ভালভাবে পারার কথা। তাই আলেমদের ক্ষমতায়ণ দরকার। তবে ইজ্জত ও ক্ষমতা দেয়া-নেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। সৃষ্টির সেবার মাধ্যমেই স্রষ্টাকে পাওয়া যায়। সেবাখাতসমূহ হতে পারে যথাক্রমে ঃ-

১. খাদ্য ও কৃষিঃ কৃষক প্রশিক্ষণ। উপকরণের সহজলভ্যতা, দ্রুত পরিবহন ও সংরক্ষণ, উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করণ। জমিতে আইল ও ভরাট নিরুৎসাহিত করণ। তে-ভাগা আন্দোলন। অনাহারীকে আহার দান। লবন, চিংড়ি, ঝিনুক, চুটকি, তুলা, কাঠ, কৃষিশ্রমিক প্রভৃতি রপ্তানী করণ।

২. বস্ত্র ও চামড়াঃ কাপড়-সুতা-চামড়া উৎপাদন-সংগ্রহ-বিতরণ-রপ্তানী। সেলাই-চুমকি-বুটিক প্রশিক্ষণ, কিস্তিতে উপকরণ প্রদান। গ্রামে গার্মেন্টস্ কারখানা স্থাপন। ক্রেতা সংগ্রহ। পর্দা রক্ষাকারী ফ্যাশন ইত্যাদি।

৩. আবাসন ও নগরায়ণঃ বাস্তুহারা আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন-পরিচালন। পাকা বাড়ী নির্মাণে ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান-ফাউন্ডেশন উৎসাহিত করণ। কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসন এ্যারিয়া চি‎িহ্নত করে এলাকার মাস্টার প্লান তৈরী ও বাস্তবায়ণ। পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ণ। কিস্তিতে প্লট ও ফ্ল্যাট বিতরণ ইত্যাদি।

৪. শিক্ষা ও মিডিয়াঃ প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষালয়ে প্রেরণ। প্রয়োজনীয় স্থানে মক্তব, মাদ্রাসা, টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শুণ্যতা পূরণ। গণশিক্ষা, প্রতিভা বিকাশ ও বৃত্তির আয়োজন। শিক্ষা উপকরণ প্রদান। আরবী, ইংরেজী, পালি, সংস্কৃত চর্চার ব্যবস্থা করণ। মিডিয়াকে বিদ্যালয়ে রুপান্তর ইত্যাদি।

৫. স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাঃ রোগ ও অগ্নি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি। প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান। চক্ষু শিবির, খৎনা ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন। ডাক্তারের শ্রেণীবিন্যাস, চিকিৎসা ফান্ড গঠন। শরীরচর্চা ও বিনোদনের জন্য সময়-অর্থ-পর্দা হরণকারী নয় এমন খেলাধুলা উৎসাহিত করণ ইত্যাদি।

৬. কর্মসংস্থান ও দেশবিদেশঃ উপযুক্ত কর্ম ও বৈদেশিক ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তর এবং বৈধ পথে বিদেশ প্রেরণ। ক্ষুদ্র পুঁজি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপকরণ ও বাজারজাতের নিশ্চয়তা প্রদান। বৈদেশিক কর্ম ও দেশীয় পর্যটনের সঠিক ইনফরমেশন ইত্যাদি।

৭. বিবাহ ও পরির্বাঃ যৌতুকমুক্ত বিয়ের আয়োজন। মোহরানা, উত্তরাধীকার সম্পদ ও এতীমের অধিকার আদায়। অধিক মুহরানা, বৈরাত-অপচয় নিরুৎসাহিত করণ। ইভটিজিং, বেহায়াপনা ও অসামাজিকতা প্রতিরোধ। বিধবা বিয়ের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ। এতীম নাতি-নাতনিকে পিতার অংশ দান নিশ্চিত করণ। প্রত্যেকের বাড়ী গাড়ী নারী সমস্যার সমাধানকারী পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ ইত্যাদি।

৮. নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষাঃ দুর্নীতি, ভেজাল, মিথ্যা সংবাদ, হয়রানী, নির্যাতন ও রাতে মাইক ব্যবহার বন্ধ করণ। জান-মাল-ইজ্জত-বংশ-বিবেকের নিরাপত্তায় সামাজিক প্রতিরোধ সৃষ্টি ও চরিত্র সংশোধন। সর্বত্র বিনা বিচারে হত্যা প্রতিরোধ করা এবং প্রত্যেকের আত্মরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

৯. ন্যায় বিচার ও আদালতঃ মৃত্যুর সাথে সাথে উত্তরাধিকার সম্পদের বন্টন। গ্রাম আদালতের মত আইনবিদ, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয়নেতার সমন্বয়ে মসজিদ, মন্দির, কিয়াং, গির্জা কেন্দ্রিক নৈতিক আদালত সৃষ্টি। ফৌজদারী মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করণ। সালিশের মাধ্যমে আদালতের চাপ হ্রাস ইত্যাদি।

১০. ধর্ম ও দর্শনঃ প্রত্যেককে নিজ ধর্ম জানতে ও মানতে উৎসাহিত করণ। সম্প্রীতি রক্ষায় পরস্পরকে জানতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন। মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিরোধ হ্রাস ইত্যাদি।

১১. প্রযুক্তি ও জালানীঃ প্রত্যেকের জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় আইডি নম্বর, মোবাইল ও একাউন্ট নম্বর, ই-মেইল ঠিকানার ব্যাবহার নিশ্চিত করণ। ই-ভোট, ই-কমার্স, ই-টেন্ডার, ই-গভর্মেন্ট, বায়ো গ্যাস ও বিকল্প জ্বালানী উৎপাদন ও ব্যবহার জনপ্রিয়করণ। বিজ্ঞান প্রতিভা অন্বেষণ ও উৎসাহিত করণ ইত্যাদি।

১২. অর্থ ও বাণিজ্যঃ বাণিজ্যিক নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করণ। স্বনির্ভরতা অর্জন। আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের পথ অন্বেষণ। ট্যুরিস্ট ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন। যাকাত ব্যাংক চালুর চেষ্টা, দাতা-গ্রহিতার লিস্ট তৈরী। হিসাব সংরক্ষণ ও রিপোর্ট প্রকাশ। জমি-পুঁজি-শ্রমের সমন্বয়ে এবং পিপিপি ভিত্তিক উন্নয়ণ ইত্যাদি।

১৩. পর্যটন ও পরিবহনঃ যার যখন যেদিকে ইচ্ছে যাওয়ার স্বাধীনতা ও বাহন নিশ্চিত করণ, হরতাল-অবরোধ-ধর্মঘট-মিছিল-মিটিং ইত্যাদি গণতান্ত্রীক অধিকারের নামে গণঅধিকার হরণ প্রতিরোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাস্তা থাকলে উন্নয়ণ, পরিবহন থাকলে পর্যটন, বাড়ী থাকলে নারী, এ তিনে শান্তি।

১৪. রাজনীতি ও সমন্বয়ঃ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও উপস্থিত সমস্যার সমাধান। প্রত্যেক দায়িত্বশীল এবং উর্ধ্ব ও অধঃস্থনদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। কাজ সম্প্রসারণ। প্রকাশনা ও প্রোগ্রামের আয়োজন ইত্যাদি।