টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রাইম ব্যাংকে জালিয়াতি- ১ ১২১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন কর্মকর্তারা!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ২০৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঢাকা: ভুয়া বিনিয়োগ দেখিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি শাখা থেকেই জালিয়াতি করে ১২১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের ৩১ কর্মকতা জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত ঐ তদন্ত প্রতিবেদন বাংলানিউজের কাছে রয়েছে।

জানা গেছে, প্রাইম ব্যাংকের এই ইসলামী ব্যাংকিং শাখাটিকে দুর্নীতি, অনিয়ম আর জালিয়াতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে এর কর্মকর্তারা। বিষয়টি ব্যাংকের ইসলামী শরীআহ বোর্ডের বৈঠকে আলোচনাতে আসে। সেখানে বোর্ডের সদস্যরা ব্যাংকের শাখাটি ইসলামী ব্যাংকিং করছে না বলে মত দেন।

জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় দিলকুশার ইসলামী ব্যাংকিং শাখার অনিয়মের বিস্তারিত খুঁজে বের করতে। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন, ব্যাংকের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়েদুর রহমান, নির্বার্হী কর্মকর্তা সাইদুল আলম, সাজ্জাদ হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় কালে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের কর্মকর্তারা ৩৬৮ গ্রাহকের ভুয়া হিসাবকে গোপনে এর জন্য ব্যবহার করেছেন। এমনকি যারা ব্যাংকে বিনিয়োগের জন্য কখনো আবেদন করেননি। কিন্তু তাদের নামে বিনিয়োগ প্রস্তাব তৈরি করে টাকা তুলে নিয়েছেন এসব কর্মকর্তা।

জানা যায়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এই জালিয়াতচক্র ৭১টি ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তুলে নেয় সরাসরি। যেসব হিসাব করপোরেট গ্রাহক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি একক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে জালিয়াতির জন্য। ২৭৩টি ভুয়া একক হিসারের মাধ্যমে চক্র তুলে নিয়েছে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

আবার কোনো কোনো প্রকৃত গ্রাহকের হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত বিনিয়োগ দেখিয়ে তার অংশ নিজেরা নিয়ে নিয়েছেন এসব কর্মকর্তারা।

জালিয়াতির জন্য ব্যাংকের জেনারেল লেজারের ২২ কোটি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরো কিছু হিসারের মাধ্যমে চার লাখ টাকা থেকে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে এতো বড়ো জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পর্যায় থেকে কর্মকর্তা পর্যায় পর্যন্ত ৩১ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা বেরিয়ে এসেছে। যারা অনেকেই এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আবার অনেকে এর আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

জড়িত কর্তকর্তারা হলেন:
প্রাইম ব্যাংকের ডিএমডি ইসবাহুল বার চৌধুরি, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শামসুল হক, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার ইকবাল হোসেন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) আব্দুল মাতলুব ভুইয়া, আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন, গোলাম হায়দার  এভিপি সাদিকুল ইসলাম, মো. বাকি বিল্লাহ, নির্বাহী কর্মকর্তা (ইও) কামরুল আহমেদ ফেরদৌস, নাজিম উদ্দিন, মো. শফিকুল ইমলাম, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাসির হোসেন, সালেহ মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন, মোতাহার হোসেন, মো. শফিকুজ্জামান,  এসইও কামরুল ইসলাম ভুইয়া, আশরাফুল হক, মো. ইমতিয়াজ সোহেল, মেজবাহ উদ্দিন কাজী, এস এম এ মজিদ আনসারি, মো. মিরান হোসেন, রফিকুল ইসলাম, কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন, শহিদুল ইসলাম, জুনিয়র অফিসার আতিকুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার আমিনুল ইসলাম খান, মো. হাসান জোবায়ের, ট্রেইনি অফিসার আরিফুর রহমান।

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের কেউ সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি। তবে ব্যাংকের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকতা বলেন, ‘ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দুঃখজনক। ব্যাংকের জন্য মানহানিকর। এতে করে গ্রাহকদের আস্থায় চিড় ধরবে।‘

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ব্যাংকের ভিতরে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে।‘

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT