টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন: প্রয়োজন সমীক্ষা ও সমন্বিত পরিকল্পনা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয় প্রথম আলো:: পর্যটকদের অবাধ যাতায়াতে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য যে মারাত্মক হুমকির মুখে, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সে বিবেচনা থেকেই সম্ভবত এ বছর সরকার সেখানে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত রাখার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু এর আগেই কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন সরাসরি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ থেকে আরও অন্তত আটটি জাহাজ অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বোঝা যায়, কোনো সমন্বিত পরিকল্পনার অধীনে কাজটি হচ্ছে না।

প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যান, তাঁদের একটি অংশ সেখানে রাত যাপন করেন। সামনের মৌসুমে দ্বীপটিতে দিনে ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিবেশ অধিদপ্তর এরই মধ্যে সেন্ট মার্টিনে বেড়াতে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের জন্য অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছে।

সেন্ট মার্টিনে গেলেই প্রবাল পাথর খুঁজতে হবে বা কিনতে হবে—এমন একটি মনোভাব পর্যটকদের মধ্যে এখনো আছে। ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নাল–এ প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে। এই দ্বীপে প্রবাল ছাড়াও রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় জলপাই রঙের কাছিম, চার প্রজাতির ডলফিন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা ধরনের প্রাণীর বাস।

সেন্ট মার্টিনের এখনকার সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে একেকজনের ব্যাখ্যা একেক রকম। কেউবা সীমিত পর্যটনের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, কেউবা বলছেন, সরকারের উচিত পুরো দ্বীপ অধিগ্রহণ করে সেটিকে জীববৈচিত্র্যের জন্য সংরক্ষণ করা। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন নিষিদ্ধ করা এবং হোটেল সরিয়ে নেওয়ার মতো নানা উদ্যোগের কথা বলেছে। কিন্তু সবকিছুই ঝুলে থেকেছে।

সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় এই দ্বীপে ১২০টি হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেছে। কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ চলাচল করে। এ অবস্থায় সেন্ট মার্টিন রক্ষার জন্য কার্যকর যেকোনো উদ্যোগ নিতে হলে এসব বিনিয়োগকারী এবং পর্যটনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জীবন-জীবিকার কী হবে, সেই ভাবনাও থাকতে হবে। প্রায় আট বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করে। তারা নিয়মিত মূল ভূখণ্ডে আসা-যাওয়া করে। পর্যটন নিয়ন্ত্রণ করা হলে কে বাসিন্দা এবং কে পর্যটক, তা চিহ্নিত হবে কীভাবে?

সেন্ট মার্টিন নিয়ে করণীয় সম্পর্কে সরকারের স্বল্প, মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো ভাবনার কথা জানা যায় না। যে কারণে দ্বীপটি ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত হচ্ছে। সেখানে কী পরিমাণ পর্যটক যাওয়া পরিবেশের জন্য সহনীয়, তা সবার আগে সমীক্ষা করে বের করা উচিত। আমরা মনে করি, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ব্যাপারে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং সেগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT