টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একে আজাদের সমঝোতায় তৎপর ব্যবসায়ীরা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

AK-Azatপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদের দূরত্ব বেড়েছে। সম্প্রতি এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তার গাড়ি বহরে পুলিশি বাধার জন্য একে আজাদ প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্মীয় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়ী করায় এ দূরত্ব তৈরি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এফবিসিসিআই’র বিদায়ী এই সভাপতির শীতল সম্পর্কের বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন তারা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তার আস্থাভাজন ক’জন ব্যবসায়ীর কাছে বলেছেন, একে আজাদকে আর কাছের ভাবা যাবে না। তাই তাকে ছাড়া আপনাদের চলতে হবে। সে এখন অন্য একটি দলের নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এ বিষয়ে একে আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।

ঘটনার পর ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা কোন যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোন ধরনের যোগাযোগ করিনি। তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তার কার্যালয়েও আমি যাইনি।

প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটিও হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ঘটনায় সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তারা আগামী রোববার অতি গোপনে ফায়সালায় বসতে যাচ্ছে। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পুলিশ মহাপরিদর্শক সহ ব্যবসায়ী নেতারা থাকবেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বুধবার বলেন, আমরা চাই না মোশাররফ সাহেবের সঙ্গে আজাদ সাহেবের কোন গোলমাল লেগে থাকুক। হয়তো ভুল বোঝাবুঝি থেকে এহেন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছি। হয়তো আমরা বসবো।

কবে কোথায় বসছেন জানতে চাইলে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে বলেন, বৈঠকে পুলিশের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করা হতে পারে।

সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করছেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটাতে পারেন একে আজাদ। তিনি হয়তো অন্য একটি দল থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। তার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে হয়তো এই ঘটনার সূত্রপাত করেছেন তিনি।

তাই তার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এমন পরিস্থিতিতে একে আজাদ কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন তা ব্যবসায়ী-রাজনীতি মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি সূত্র দাবি করছে, ফরিদপুর সদর থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী একে আজাদ। গত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নিকট আত্বীয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হয়ে লড়েন ওই আসনে। এবারও হয়তো তিনিই থাকছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

উল্লেখ্য, গত রোববার ফরিদপুরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদের গাড়ি বহরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ফরিদপুর পৌরসভার সামনে তার গাড়ির সামনের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় আকস্মিকভাবে এই লাঠিচার্জ চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের নেতৃত্বে কোতয়ালী ও ডিবি পুলিশের অর্ধশতাধিক সদস্য মুজিব সড়কের পৌরসভার সামনে প্রথমে গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। এত উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে অতর্কিতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ।

ওই দিন শহরের চরটেপাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ. কে আজাদের গণসংবর্ধনার আয়োজন করে সদর আসনের চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়ণের সাধারণ মানুষ। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথেই এ ঘটনা ঘটে। পরে সংবর্ধনা স্থলে উপস্থিত হন আজাদ।

এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে আজাদের সমর্থকদের মোটরসাইকেল আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গাড়ি বহরে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বাংলানিউজকে বলেন, সংবর্ধনা সভার আয়োজকরা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করে। এতে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বলেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

একে আজাদ অভিযোগ করেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে লক্ষ্য করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আপনি মন্ত্রী। আপনার অনেক ক্ষমতা। আপনার সঙ্গে আমরা পারব না। আগামী দিনে আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোন, আরও বেশি লাঠিপেটা করে রক্তের বন্যা বইয়ে দিন।

আজাদ বলেন, আমি ভোটে দাঁড়াইনি। একটি সংবর্ধনা তথা সামাজিক কাজে অংশ নিতে এসেছি মাত্র। সেখানে যাওয়ার পথে এ লাঠিপেটা কেন?

এ. কে. আজাদ আরও বলেন,  এ লাঠিপেটা আমাকে নয়, ফরিদপুরবাসীকে করা হয়েছে।

তবে ওই ঘটনার দায়-দায়িত্ব অস্বীকার করেন মন্ত্রী

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT