হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদরোহিঙ্গা

প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে

টেকনাফ নিউজ ডেক্স::   প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কক্সবাজার টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে সাক্ষাৎকার শুরু করা হবে। এজন্য সোমবার ক্যাম্প ইনচার্জের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফের জাদিমোরা শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে মঙ্গলবার থেকে। এজন্য ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসের পাশে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ৩১০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। সাক্ষাৎকারের সময় ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবিরের সামনের দোকানে রোহিঙ্গারা জড়ো হয়ে রাখাইন ভাষার লিফলেট পড়ছেন। প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের কী করা হবে সেই বিষয়ে লেখা আছে ওই লিফলেটে। এছাড়াও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে আলাদাভাবে নারী ও পুরুষদের সঙ্গে বৈঠক করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাখাইন ভাষায় প্রচারিত লিফলেট

ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর বশর বলেন, ‘লিফলেটে লেখা আছে, প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের প্রথমে এনভিসি কার্ড নিতে হবে। তারপর নাকফুরা শিবিরে রাখা হবে। সেখান থেকে ছয় মাসের আইডিবি ক্যাম্পে নেওয়া হবে। তাই কোনও রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ফেরত যাবে না। কারণ মিয়ানমার সরকার মিথ্যাবাদী। তাদের কোনোভাবে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।’

রাখাইন ভাষার লিফলেট প্রসঙ্গে টেকনাফের শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা বদলুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত ন্যাশনাল ভ্যারিফিকেশন কার্ড (এনভিসি)-কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেখানে। যেসব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে, তাদের প্রথমে এনভিসি কার্ড দেওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। কারণ আগেও রোহিঙ্গাদের এনভিসি কার্ড দেওয়ার নামে বিতাড়িত করা হয়েছিল।’

প্রত্যাবাসনের জন্য বোঝানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের

জানা যায়, ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের জন্য সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজন্য কাজ করছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’ এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়।

তবে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিষ্কারভাবে কিছু না বললেও প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়

 

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.