টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

প্রতারক যুবকের ফাঁদে নিঃস্ব জীবন, অসহায় মহিলার কান্না থামাবে কে?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ৮৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

123ইমাম খাইর, কক্সবাজার। মহিলাটির নাম দিলোয়ারা বেগম। বয়স ২৩ বছর। বাপের বাড়ি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল কুলিয়াপাড়ায়। পারিবারিক কলহে তার মা-বাবার সংসার ভেঙে যায় অনেক আগে। এ কারণে সে ফুফুর বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো। খুরুশকুল এস.কে মডেল হাইস্কুলে সে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত পড়েছে। এ সময়েই বিদেশ ফেরত এক প্রতারক যুবকের ফাঁদে পড়ে যায় দিলোয়ারা। আড়াই বছর আগে ঘটনাচক্রে বিয়ে। এরপরে তাকে নেয়া হলো শ্বশুর বাড়িতে। গিয়ে দেখলো ওই ঘরে স্বামীর ৫ সন্তানসহ আগের স্ত্রী রয়েছে। ছলনা আর প্রতারণায় আশ্রয় নেয়া এ বিয়ে সে মেনে নিতে পারলোনা খুব একটা। তারপরও মা-বাবা ও স্বজনহারা মেয়েটি জীবনের শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে মেনে নিল ৫ সন্তানের বাবার সাথে তার কচি জীবনের শুভ পরিনয়। থাকলো স্বামী-স্ত্রী হিসাবে। তাদের ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে যায় তার স্বামীর উপর ১ম স্ত্রীর চাপ। শেষমেষ চাপটি গিয়ে পড়লো দিলোয়ারার গায়ে। শুরু হলো স্বামীর অমানবিক-বর্বর নির্যাতন। এ ফাঁকে প্রথম স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে গেলো স্বামী শামশুল আলমকে। এ আক্রোশটা দ্বি-গুন বেগে বিদ্ধ করলো দিলোয়ারাকে।

দিলোয়ারা অঝুর ধারায় কান্নাজড়ি কন্ঠে প্রতিবেদককে বলেছে, আগের স্ত্রীর ছেলে পেলেদের লালন পালনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হলো তাকে। স্বামীর কথামতো সতিনের ৫ সন্তানকে লালন পালন ও পরিচর্জা করেছে সে। ইতিমধ্যে আসমা নামে আরেকটা মেয়ের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে যায় তার স্বামী। এর পর থেকে পাশবিক কায়দায় নির্যাতন শুরু হয় তার উপর। ঘর থেকে বের করে দেয়া হলো দিলোয়ারাকে। এর আগে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তার গহনাপাতি বিক্রি করে দিয়েছে স্বামী শামশু। শেষ পর্যন্ত তাকে নিঃস্ব করে দিলো। এমনকি একমাত্র গর্ভের ধন সন্তানটি ছাড়া তাড়িয়ে দেয়া হলো তাকে। এভাবে স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে কক্সবাজার শহরের এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে অসহায় দিলোয়ারা। অবশ্যই পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সন্তানটি তার কোলে ফিরে পায়।

দিলোয়ারা অভিযোগ করে আরো জানায়, তাকে ৫ লাখ টাকা কাবিন ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দেয়ার কথা বলে তাকে বিয়ে করেছে প্রতারক শামশু। পরে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তার স্বর্ণালঙ্ককারগুলোও বিক্রি করে দিয়েছে তার স্বামী। এমনকি কাবিন নামার কোন কপি তাকে দেখতেও দেয়া হয়নি। কপি খুঁজলে তাকে উল্টো ধমক দেয়া হয় বলে সে অভিযোগ জানায়। সে জানায়, বিভিন্ন সময় অচেনা নাম্বার থেকে তাকে অপহরণসহ নানা রকম হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সে আরো জানায়, ৫ ভরি স্বর্ণের গহনা, ৮০ হাজার নগদ টাকা ও ঘরের আলমিরা ভেঙে আনুমানিক ১ লাখ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে তার স্বামী তাকে উকিল নোটিশ দিয়েছে। যা পেয়ে সে রীতিমতো হতবাক বনে যায়।

এ বিষয়ে স্বামী শামশুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে জানান, ৭০ হাজার টাকা কাবিন নামা দিয়ে ঘর সংসারের উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে বনিবনা না হওয়ায় তাকে আইনের মাধ্যমে তালাক দেয়া হয়। চাইলে সে মোহরানা বাবদ বকেয়া ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যেতে পারে।

একটি সুত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত শামশু তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার কথা প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করলেও বাস্তবে কোন তালাক দেয়া হয়নি। তালাকের কথা বলে সে আরেকটি বিয়ে করেছে। তবে বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রীও পালিয়েছে বলে জানা গেছে।   এদিকে নিরীহ মহিলাদের জীবন নষ্টকারী প্রতারক যুবক শামশুকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানিয়েছে ভূক্তভোগী মহিলা ও এলাকাবাসি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT