টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পৌর কাউন্সিলার রফিক-মিজানের অশ্লীল কান্ডে হতবাক পৌরবাসী!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

rofiqসমুদ্রকন্ঠ রিপোর্ট  :::মধ্যরাতে গানের আসরে মদ্যপ অবস্থায় অশ্লীল আচরণ করে জনতার ধাওয়ায় কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পর্ণোগ্রাফী মামলার আসামী মিজানুর রহমান পালিয়ে আসার ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছে কক্সবাজার পৌরসভার মানুষ। গতকাল দৈনিক সমুদ্রকন্ঠে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনাসহ প্রধান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে শহরজুড়ে তোলপাড় হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পত্রিকা গায়েব করতে মাঠে নামে সংঘবদ্ধ চক্র। সকাল ১০ টার মধ্যেই তারা দৈনিক সমুদ্রকন্ঠের বেশীরভাগ কপি গায়েব করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে শত শত পাঠক ঘটনার খবর শুনে পত্রিকা খুঁজতে এসে বিফল মনোরথে ফিরে যান বলে জানা গেছে। আলোচিত এই ঘটনার সাথে জড়িতদের একজন হলেন কলেজ ছাত্রীর সাথে যৌন মিলন করে পর্ণোগ্রাফী নির্মাণকারী ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শহর আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে। ধাওয়া খাওয়া অন্য কাউন্সিলার হলেন আবাসিক হোটেল কেন্দ্রিক নানা অপকর্মের অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্য ৩ পৌর কাউন্সিলারের সামনেই বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। শহরের সমিতিপাড়া বাজারে রবিবার রাতে আয়োজিত এক গানের আসরে এই অভিনব ঘটনা ঘটে। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে অতর্কিতে এক মাদকাসক্ত প্রকাশ্যে এক নারী শিল্পীকে জড়িয়ে ধরলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা মঞ্চে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়। ফলে অনুষ্ঠানটি পন্ড হয়ে যায়।  এদিকে আলোচিত কাউন্সিলার ও শ্রমিকদল নেতা রফিকুল ইসলামের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে খোদ তার দলের লোকজনের মাঝেই ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদল-যুবদলের একাধিক নেতাকে সমুদ্রকন্ঠের মঙ্গলবারের রিপোর্টটির ফটোকপি কর্মীদের মাঝে বিলি করতে দেখা গেছে। কাউন্সিলার রফিকের বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত একাধিক মুখরোচক ঘটনা লোকমুখে শুনা যায়। কক্সবাজার শহরের একাধিক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সংসার তার কারণেই ভেঙ্গে গেছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো বাহারছড়ার জনৈক জসিম ও এন্ডারসন রোডের ইউছুপ নামের জনৈক ডাক্তারের সংসার নিয়ে তুলকালাম হওয়ার ঘটনা। অবস্থা এতোটাই ভয়াবহ হয় যে, শেষ পর্যন্ত ডাক্তার ইউছুপ স্বস্ত্রীক ঢাকা পাড়ি দেন। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কাউন্সিলার রফিকুল ইসলাম প্রচন্ড প্রতাপ নিয়ে শহরের পশ্চিম অংশে বিচরণ করতেন। সেই সময় শহরের ঝাউতলা হতে লাবণী পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেলে তার জন্য বিনা ভাড়ায় একাধিক কক্ষ প্রস্তুত করে রাখতো মালিক পক্ষ। তার কথায় রাজী না হলে নির্যাতনের শিকার হতেন হোটেল মালিকরা। তার অনুগত বাহিনী ওই এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি করতো বলে অভিযোগ আছে। বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় যৌথ বাহিনীর তালিকাভূক্ত ছিলেন। সেই সময় তাকে ধরার জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। সর্বশেষ শহরের বাহারছড়ায় বাসা ঘেরাও করেছিলো সেনাবাহিনী। সেবার কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান বলে জানা গিয়েছিলো। ওই সময় সূত্র জানিয়েছিলো, তার বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর কাছে অভিযোগের পাহাড় জমেছিলো। ফলে সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তিনি ক্রসফায়ারের শিকার হতে পারতেন। বর্তমানে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকায় তিনি ঘাপটি মেরে থাকলেও আগামীতে ফের বিএনপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকায় ফের তার অত্যাচারের শিকার হওয়ার আশংকায় ভূগছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ ব্যবসায়ীসহ নিরীহ লোকজন।  অপরদিকে আরেক আলোচিত কাউন্সিলার মিজানের সাম্প্রতিক নারী কেলেংকারীর ঘটনা কারো অজানা নয়। কলেজছাত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও তার ভিডিও ধারণ করার কারণে পর্ণোগ্রাফী আইনে দায়ের করা মামলায় আসামী হয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে বড় অংকের টাকায় মেয়ের পরিবারকে ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। তার লাম্পট্যের কারণে প্রথম স্ত্রী সংসার ছাড়তে বাধ্য হয়েছে অনেক আগে। এলাকাবাসী জানায়, তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিলেন ওই কাউন্সিলর! অবশেষে তিনি সংসার ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রীও তার এসব অপকর্মে অতিষ্ট। শুধু নারী কেলেংকারীই নয়, পৌরসভার ইউজিপ প্রকল্পে দুর্নীতি করার অভিযোগও রয়েছে কাউন্সিলার মিজানের বিরুদ্ধে। আলোচিত দুই কাউন্সিলারকে নিয়ে বর্তমানে পৌর পরিষদ খুবই বিরক্ত ও বিব্রত বলে জানা গেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT