টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পেকুয়ায় বিভিন্ন ছড়া থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের ধুম

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এম. কফিল উদ্দিন, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ধুম পড়েছে। আর এসব নিয়ন্ত্র করছে আওয়ামী, বিএনপি ও জামায়াতের একটি সিন্ডিকেট। টৈটং ইউনিয়নের বটতলী ছড়া থেকে বেশ কয়েক মাস আগে থেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে জামায়াতের কয়েকজন নেতা এক হয়ে এই অবৈধ বালি উত্তোলন করে যাচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বটতলী জুম ছড়া থেকে প্রভাবশালী মহল পাম্প মেশিন বসিয়ে সরকারি আইনকে তোয়াক্কা না করে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে ভারসাম্য হারাতে বসেছে পরিবেশ। উক্ত বালি উত্তোলন করে এক ফুট বালির মূল্য ১৪ থেকে ১৮ টাকা নির্ধারণ করে ট্রাক আথবা পিকআপ ভর্তি বালি ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা ধরে বিক্রি করছে। এই অবৈধ বালি পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলা পেকুয়া-চকরিয়ার বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা নির্মান কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে। এতে বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট প্রতি মাসে অর্ধলক্ষাধিক ফুট বালি উত্তোলন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ এনেছে এলাকাবাসীরা।
স্থানীয়রা আরো জানান, টইটং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল¬াহ বিএ, আওয়ামীলীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, টইটং ইউপির ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য আবদুল জলিল, সাবেক ইউ পি সদস্য মনজুর আলম, নুরুল কবির, বারবাকিয়ার পাহাড়িয়াখালী এলাকার ইছমাইলের পুত্র মোঃ ইলিয়াছ প্রকাশ সুমন, ধনিয়াকাটার আমির হোসেন, টৈইটং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্টার জয়নাল।
এছাড়া জামায়াতের একটি সিন্ডিকেট বালি উত্তোলন করে আসছে। এই সিন্ডিকেটটি টৈটং ইউনিয়নের ইজারা না নিয়ে ধনিয়াকাটা ছড়া, জুম ছড়া, বনকানন ছড়া, মধুখালী ছড়া, যাদুখালী ছড়া টৈটং বাঁশখালীর সীমান্ত খালের বালির ছড়া সহ মোট ৮টি ছড়া থেকে শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করছে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ছড়াগুলোতে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলনের ফলে ছড়ার মিটা পানি ঘোলাট হয়ে যাওয়ায় ওই ছড়াগুলোর পানি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ছড়ার পাশে বসবাসরত অসংখ্য পরিবার কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করছে। পাশাপাশি মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ আর হুমকীর সম্মূখীন হচ্ছে ছড়ার তীরবর্তী গ্রামীন সড়ক ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর রবিবার বালি উত্তোলন কালে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি বনবিট কর্মকর্তা এসে বাঁধা দেয়। তাহাতে ক্ষিপ্ত হয়ে বালি উত্তোলনকারী প্রভাবশালী মহলের সাথে বন বিট কর্মকর্তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুঁইছড়ি বনবিট কর্মকর্তার নেতৃত্বে টৈটং এলাকায় ্অভিযান ছালিয়ে ছড়া থেকে একটি পাম্প মেশিন ও পাইপ সহ বালি উত্তোলনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টৈটং বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, উদ্ধারকৃত সরাঞ্জামাদিগুলো জুমপাড়া এলাকার হেডম্যান নুরুল আলমের জিম্মায় ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পুঁইছড়ি বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোন করলে তিনি বলেন, বালি উত্তোলনের বি¯ী—র্ন ছড়াটি জঙ্গল পুঁইছড়ি মৌজার আওতায় থাকার কারণে আমি অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছি।
এলাকাবাসীরা জানান, টইটংয়ের বটতলীর জুম ছড়া নামক এলাকা থেকে সরকারীভবে কোন প্রকার অনুমতি না থাকা সত্বেও সিন্ডিকেটটি বালি উত্তেলন দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবৈধ বালি উত্তোলনের কারবার সরকারী দলের মদদেই হচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ জনগন।
এতে সরকারি দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে সরকারীভাবে ইজারায় রয়েছে টৈটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি বালি মহাল ও বটতলী বালি মহাল। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই-খাজা আল আমীন বলেন, শিগগিরই এসব ছড়া থেকে বালি উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এম. কফিল উদ্দিন
পেকুয়া
মোবাইল: ০১৮১৫-৩৬৩৮০৮/০১৬৭৬-২৫৩৮৪৬
তাং: ৩০,০৯,২০১২

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT