টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

পেকুয়ায় জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল পালিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১১৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শহিদুল ইসলাম হিরু,পেকুয়া    পেকুয়ায় কোন ধরণের সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ন ভাবে জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতাল পালিত হয়েছে। জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা হরতালের ডাক দিয়ে উধাও এবং আওয়ামীলীগ এর নেতাকর্মীরা হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ সাংঘঠনিক কোন কার্যক্রমে না থাকায় শান্তিপূর্ন ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।   জানা যায়, মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজীব্বন প্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাসির আদেশ করায় ৪৮ ঘন্টা হরতালের ডাক দেয় জামায়াত ইসলামি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে পেকুয়ায় ৪৮ ঘন্টা হরতালের ১ম দিন গত ১৮ সেপ্টম্বর ও ২য় দিন ১৯ সেপ্টম্বর কোন ধরণের সংঘাত ছাড়াই টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল পালিত  হয়েছে। টানা হরতালের সকল থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল কম থাকলেও দুপুর ১১ টার পর সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল  ছিল স্বাভাবিক। হরতাল চলাকালে পেকুয়ার ব্যাংক, বীমা, ও সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্টান গুলোর লেনদেন ছিল স্বাভাবিক। পেকুয়া বাজার ও চৌমহনী এবং অন্যন্য বাজারে দোকান পাড় ছিল খোলা। অন্যদিকে জামায়াত শিবিরের যে কোন ধরণের নৈরাজ্য ঠেকাতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ  পয়েন্টে পুলিশ মোতায়ত করা ছিল চোখে পড়ার মত। কিন্ত হরতালের ডাক দিয়েও হরতাল আহবানকারীদেরকে কোথাও পিকেটিং করতে দেখা না যাওয়ায় সাধারণ জনগনের মাঝে এক প্রকার স্বস্তি পরিলতি হচ্ছে।    এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি মাঈন উদ্দিন আহমেদ জানান পেকুয়ার কোথাও কোন ধরণের সংঘাত হয়নি। আইনশৃংখলা রার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া মোবাইল ০১৮১৫-২৩৫০২০ তারিখ ১৯-০৯-১৩

 

পেকুয়ায় বদিউজ্জামান হত্যার ঘটনায় ১ থেকে ১৫ আসামী বাদ, বাদীর নারাজি দাখিল শহিদুল ইসলাম হিরু ,পেকুয়া  পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামান হত্যার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাটির মূল আসামীদের বাদ দিয়ে উল্টো বদিউজ্জামানের নিকটাত্মীয় ও পাড়া-প্রতিবেশীদের আসামী সাজিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পপাতদূষ্ট চার্জশীট দাখিল করেছে পুলিশ। এ অভিযোগ নিহতের পরিবার থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের। আর এঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে চাঁপা ােভ ও উত্তেজনা। যার ফলে ওই মামলার বাদী নার্গিস আকতার উক্ত চার্জসিটের বিরোদ্ধে গত আগষ্ট মাসে আদালতে নারাজি দাখিল করেছেন বলে বাদী জানিয়েছেন। জানা যায়, গত ২০১২সালের ২০ মে সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে খুন হন মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামান(২৮)। এজহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন টৈটং ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান যুবদল নেতা জেড. এম. মোসলেম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বদিউজ্জামান হত্যা মামলার প্রধান আসামী মৃত ফজল করিমের পুত্র নেতা ডাক্তার ফরিদুল আলমসহ প্রায় শতাধিক লোক টৈটং বাজারে জড়ো হন। এসময় তাদের হাতে ধারালো দা, কিরিচ, লোহার রড, দেশীয় বন্ধুক ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র এবং লাঠিশোটাও ছিল। সে সময় খুনীদের স্বশস্ত্র মহড়ায় জনাকীর্ণ টৈটং বাজারসহ আশেপাশে সৃষ্টি হয় ভীতিকর পরিস্থিতি। সেখানে উপস্থিত আতংকিত লোকজন দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাওয়া শুরু করার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র ক্যাডার সন্ত্রাসীরা যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামানের বসতঘর ঘেরাও করে। খুনীদের উপস্থিতি টের পেয়ে যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামান তার বসতঘরের উপরের কুঠুরিতে লুকিয়ে পড়ে। খুনীদের হাকাবকা ও ডাকাডাকিতে বদিউজ্জামান ঘর থেকে বের না হলে চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন আহমদের নির্দ্দেশে হত্যাকারীরা যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামানকে ঘরের উপরের কুটুরি থেকে ধরে এনে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে নির্দয় পিটাতে শুরু করেন। আক্রান্ত বদিউজ্জামান তখন প্রাণভয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে দূর্গম পাহাড়ের দিকে পালাতে চেষ্টা করে। হামলাকারীরা তখন বদিউজ্জামানের পিছু ধাওয়া দিয়ে প্রায় ২কিলোমিটার পর্যন্ত দূর্গম পাহাড়ের নির্জনে নিয়ে যায়। সেখানে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড দিয়ে বদিউজ্জামানকে পূনরায় কুপিয়ে ও পিঠিয়ে অর্ধ মৃত করেন। একপর্যায়ে খুনীরা তার গোপনাঙ্গ কর্তন, চোখ উপড়ে নেওয়াসহ বর্বর আচরনের ঘটনাও ঘটায়। খবর পেয়ে বদিউজ্জামানের মা ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী খুনীদের কাছে ছেলের প্রাণ ভিায় অনুনয় বিনয় জানাতে শুরু করলে হামলাকারীরা বদিউজ্জামানের মাকেও শীলতাহানী ও মারধরের ঘটনা ঘটান। পরে, ঘটনার সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চতুর্দিক থেকে সাধারণ মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হলে হামলাকারী খুনীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে, স্থানীরা আহত যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী নার্গিস বেগম ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্য নায়ক চেয়ারম্যান জেড. এম. মোসলেম উদ্দিন আহমদ, জামাত নেতা ডাঃ ফরিদুল আলমসহ ২৬জনের নামোলেখ করে পেকুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন। তৎকালীন কর্তব্যরত অফিসার ইনচার্জ(প্রশাসন) মোঃ মুনিরুজ্জামান একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। যার নং-০৬/১২। পরে ওসি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেন এস.আই শফিকুর রহমান ভুঁইয়াকে। মামলার চিহ্নিত আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিলেও নিু আদালতে আত্মসমর্পনের বিষয়টিকেও সর্বদা পাশ কাটিয়ে চলতে থাকে। এরই ফাঁকে এক পর্যায়ে আসামীরা মামলার বাদীকে অপহরন ও গুম করে সাদা কাগজে স্বার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটান। যা বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করাও হয়। আদালত তৎবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দ্দেশনা প্রদান করলে তাতেও উপো এবং অবজ্ঞা দেখায় সংশিষ্টরা। শেষমেষ যুবলীগ নেতা বদিউজ্জামান খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পেকুয়া থানার এস.আই শফিকুর রহমান ভুঁইয়া যুবলীগ কর্মী বদিউজ্জামানের নিকটাত্মীয় ও ঘটনা বহির্ভুত নিরহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়ে ও হত্যার নেপথ্য নায়ক যুবদল নেতা চেয়ারম্যান জেড. এম মোসলেম উদ্দিন, ঘটনার মূল নায়ক জামায়েত সমর্থক ফরিদুল আলমসহ প্রকৃত ২৬ আসামীর প্রধান ১ থেকে ১৫ নং আসামীর সকলকে বাদ দিয়ে মামলটির চূড়ান্ত চার্জশীট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। জনমনে ছড়িয়ে পড়ে চাঁপা উত্তেজনা ও ােভ। এবিষয়ে বাদী নার্গিস আকতার জানান, আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিরোদ্ধে মামলা করলেও মূল আসামীদের বাদ দিয়ে পেকুয়া থানা আদালতে চার্জসিট প্রেরন করলে আমি আদালতে নারাজি দাখিল করি। প্রশাসন সুষ্ট তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা ও মূল আসামীরা আবারো অভিযুক্ত হবে। আমি উর্ধতম কর্তৃপরে কাছে হস্তেপে কামনা করছি। এস.আই শফিকুর রহমান ভুঁইয়ার কাছে মোবাইলে গত ১৯ আগষ্ট রাত ৯ টায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তে আমি যা পেয়েছি তাই দিয়েছে।  মামলা এখন আদালতে চলে গেছে। বিষয় আদালতে বুঝবে।

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT