হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

আর্ন্তজাতিকপ্রচ্ছদ

পৃথিবীর একটি প্রাচীনতম মসজিদ আল বিদিয়া

মুহম্মদ নূরুল ইসলাম … আল-ফুজাইরা সংযুক্ত আবর আমিরাতের একটি আমিরাত। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পঞ্চম বৃহত্তম আমিরাত। আল ফুজাইরার আয়তন ১,১৬৬ বর্গকিলোমিটার (৪৫০ বর্গ মাইল)। ২০১৬ সালের জরীপ অনুযায়ী আল ফুজাইরার লোকসংখ্যা ২,২৫,৩৬০ জন। গালফ অব ওমানের তীরেই আল ফুজাইরার অবস্থান।

আল ফুজাইরার একটি প্রাচীন মসজিদ আল বায়দিয়া বা আল বিদিয়া। মসজিদ আল বায়দিয়া বা আল বিদিয়া (ঞযব অষ ইধফরুধয গড়ংয়ঁব (অৎধনরপ: مسجد البدية‎, ংড়সবঃরসবং ঃৎধহংষরঃবৎধঃবফ অষ ইরফুধয ড়ৎ অষ ইরফুধ) পৃথিবীর একটি প্রাচীনতম মসজিদ। এটি সমগ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ ও প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন।

শেষ নবী, আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মভূমি মক্কা থেকে ইয়াসরিবে (পরবর্তীতে মদিনা মোনাওয়ারা নামকরণ করা হয়) হিজরত করার আগেই ইসলামের আলো মক্কা ছাড়িয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করে আফ্রিকার খ্রীস্টান রাষ্ট্র আবিসিনিয়ায় (ইথিওপিয়া) পৌঁছে। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তীতে ইয়াসরিবে হিজরত করার পরে মদিনা মোনায়ারাকে ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষণার পরেই ইসলামের আলো, ইসলামের আহবান পাশর্^বর্তী বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে পারস্য, ইয়ামেনসহ আরব বিশে^র রাজ্যসমূহে পৌঁছে যায়।

আরব বিশ্বের দেশ হওয়ার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে ইসলামিক ঐতিহ্য। আল্লাহর রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওফাতের পরেই মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে দূর প্রাচ্যেও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যায়। এমন কি ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশ, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের উপকূলে এবং ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে, আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়ে চীন সাগরের তীরে মালাক্কাতেও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে যায়। আল্লাহর রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জনৈক সাহাবী সুদূর মালয়েশিয়ার মাল্লাকাতে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যান। ফলে আল ফুজাইরা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য আমিরাতগুলোও ইসলামের দাওয়াতের বাইরে ছিলো না। বরঞ্চ আরব বিশে^র এলাকা হওয়ার কারনে যে অঞ্চলগুলোতে প্রথম দিকে ইসলামের বিস্তার লাভ করে তার মধ্যে আল ফুজাইরা অন্যতম। তৎকালীন সময়ে সড়ক পথের চেয়ে পানি পথেই ইসলামের দাওয়াত বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাতে খুব সহজেই পৌঁছেছে।

আল ফুজাইরার একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন আল বাইদা বা আল বিদিয়া মসজিদ। আল বিদিয়া মসজিদের একই নির্মাণ শৈলি, একই নক্সা, একই নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সমসাময়িক সময়ে নির্মাণ করা আরো তিনটি মসজিদ ইয়ামেন, কাতার ও ওমানের সমুদ্র উপকূলে রয়েছে বলে জানা যায়। তবে কোনো কোনোটি আল বিদিয়া মসজিদের চেয়ে বড়। ওমান উপকূলের মাটি ও পাথরের সংমিশ্রণে নির্মিত জালান বনি বু আলী মসজিদটি অনেক বড়। সুলতানাত অব ওমানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের জালান বনি বু আলী মসজিদটিতে (ঔধধষধহ ইধহর ইঁ অষর গড়ংয়ঁব) ৫১টি ডোম রয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেক ডোম ভেঙ্গে গেছে।

গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে আল বাইদা মসজিদটি প্রায় ছয়শত বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম আমিরাত ফুজাইরার কেন্দ্র তথা রাজধানী ফুজাইরা সিটি থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ওমান উপসাগরের উপকূলের আল বাইদা বা আল বিদিয়া (অষ ইরফুধ) গ্রামেই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত।

আল বাইদা গ্রামের নামানুসারেই মসজিদের নাম। আল ফুজাইরা আমিরাতের ওমান উপসাগরের উপকূলের আল ফাই, আল জুবাইল, হাকেল, তোয়াই বিন সা’দা, আল হারা ও আল তিলাই (অষ ঋধর, অষ ঔঁনধরষ, ঐধয়ববষ, ঞধির ইরহ ঝধধফধ, অষ ঐধৎধ ধহফ অষ ঞবষধব) গ্রামগুলোর চেয়ে আল বাইদা গ্রামটি অনেক বড়। হয়তো সে কারণে ওই গ্রামেই এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে মসজিদটি ওসমান মসজিদ (ঙঃঃড়সধহ গড়ংয়ঁব) হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় অধিবাসীদের ধারণা ইসলামের তৃতীয় খলিয়া হযরত ওসমান ইবনে আফ্ফান রা.-এর খেলাফতকালে কোনো সাহাবী ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আল ফুজাইরাতে এসেছিলেন। ওটোমান সংস্কৃতি, স্থাপত্যশৈলিতে প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে একই ধরনের নক্সা ও স্থাপত্যশৈলি অনুসরন ও অনুকরণ করে আল বাইদা মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কারো কারো মতে ওসমান নামের স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন বলেই এর নাম ‘ওসমান মসজিদ’ (ঙঃঃড়সধহ গড়ংয়ঁব) হয়েছে। এই শেষের যুক্তিটি বেশি গ্রহণযোগ্য। কারণ ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফ্ফান রা.-এর খেলাফতকাল ছিলো ৫৮০Ñ(জুন ১৭) ৬৫৬ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফ্ফান রা.-এর খেলাফতকালে হয়তোবা ফুজাইরার উপকূলে ইসলামের দাওয়াত এসে পৌঁছেছিলো কিন্তু তখন বা তারও প্রায় আটশত বছর পরে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদটি গালফ অব ওমানের তীর ঘেঁষেই নির্মাণ করা হয়েছে। গালফ অব ওমানের তীর এবং মসজিদের মাঝখানে উপকূলীয় প্যারাবন ছিলো, কিন্তু বর্তমানে উক্ত প্যারাবন কেটে উজাড় করে ফেলেছে। প্যারাবন ছাড়িয়ে উপকূল বেষ্টনীতে রয়েছে একটি সড়ক। এরপরেই পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে মসজিদটির অবস্থান। ১৯৯৭-৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় ফুজাইরা প্রতœতত্ত¡ ও ঐতিহ্য ডিপার্টমেন্ট (ঋঁলধরৎধয অৎপযধবড়ষড়মু ধহফ ঐবৎরঃধমব উবঢ়ধৎঃসবহঃ) সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ১৪৪৬ খ্রিস্টাব্দেই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। দরজা ছাড়া মসজিদের কোথাও কাঠ ব্যবহার করা হয়নি। পাথর ও মাটির সংমিশ্রণে মসজিদটি নির্মিত। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য নির্মাণ সামগ্রী পাহাড়ের ছোট বড় পাথর এবং সংলগ্ন এলাকার মাটির সংমিশ্রনেই সমজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। অজুখানা, পানির কূপসহ অন্যান্য কিছু মিলে মোট ৫৩ বর্গমিটার (৫৭০ বর্গ ফুট) আয়তন ভূমির উপর মসজিদটি নির্মিত। প্রায় ছয়শত বছরের প্রাচীন আল বিদিয়া মসজিদটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। এর আকর্ষণীয় স্থাপত্যশৈলী সবাইকে মুগ্ধ করে। যাতে অত্যন্ত দক্ষ প্রকৌশলী ও আর্কিটেকচারের ছোঁয়া সহজেই নজর কাড়ে। মসজিদটি যেখানে অবস্থিত সেই জায়গাটিও এক অনন্য পরিবেশ- একদিকে পর্বতশ্রেণী দ্বারা বেষ্টিত, অপরপাশে সাগর। গালফ অব ওমানের দিকে মসজিদের মূল দরজা তথা মসজিদের পূর্ব দিকে দরজা সাগরের দিকে।

সম্পূর্ণ কাদামাটি ও পাথরের সংমিশ্রনে আল বিদিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ সেসময় পৃথিবীতে সিমেন্টের ব্যবহার ছিলো না, এমনকি সিমেন্টের আবিস্কারও হয়নি। ১৭২০ সালের পরেই পৃথিবীতে সিমেন্টের ব্যবহার এসেছে বা সিমেন্ট আবিস্কার হয়েছে। ফলে আল ফুজাইরার এই উপকূলে সিমেন্টের ব্যবহার কল্পনারও অতীত। পাথরের সাথে কাদা মাটি দিয়েই পুরো মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। চারপাশের দেয়াল ছাড়া একটি মাত্র মাটির পিলারের উপর ভর করে আছে আল ফুজাইরা আমিরাতের ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন আর্কিটেক্ট সংরক্ষিত প্রায় ছয়শত বছরের প্রাচীন এই মসজিদ। পিলারটি উপরের দিকে .৪২ মিটার গিয়ে চারটি সমান আয়তনের বর্গাকৃতির কলাম করে মসিজদের চার কোণায় গিয়ে ঠেকেছে। এই পিলারকে ভর করে মসজিদের ছাদের উপরে চারটি ডোম নির্মাণ করা হয়েছে। তবে মসজিদের চারটি ডোম একসমান নয়। একটি বেশ উঁচু। অবশিষ্টগুলো ক্রমে নিচু থেকে নিচু হয়েছে। পুরো মসজিদের ছাদ, ডোম সবকিছু শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রীয় পিলারের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে বা নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের একমাত্র পিলারের চারপাশের্র্^র বেদ হচ্ছে নয় ফুট। কাঁচা মাটি দিয়ে পলেস্তারা করা হয়েছে দেয়ালে। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও বর্তমানে দেয়ালের কিছু কিছু জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে কয়েকবার দেয়ালের রঙও পরিবর্তন করা হয়েছে। মূল মসজিদটি ৬.৮ী ৬.৮ মিটারের হলেও তাকে দুইটি পৃথক অংশে নির্মাণ করা হয়েছে। পরে ছাদের উপর থেকে কাদা মাটির পলেস্তরা দিয়ে সংযোগ করা হয়েছে।

বাইর থেকে সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের জন্য রয়েছে ছোট ছোট দৃষ্টিনন্দন ছয়টি বর্গাকারের জানালা। ছোট হলেও মসজিদের বাইর থেকে তা দেখতে খুবই চমৎকৃত। দেখা যায় প্রকৌশলীর আর্কিটেচারাল নির্দশন। পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবেশ করার জন্য মসজিদের মিহরাবের উপরেই রয়েছে একটি ছোট্ট বৃত্তাকারের ফটক, তাকে গর্তও বলা যায়। মসজিদের ছাদে ভিন্ন রকমের চারটি গোল গম্বুজ, ছোট মেহরাব ও একটি মিম্বার ভেতরের দেয়ালের কারুকাজ- সব কিছুতেই রয়েছে মনোমুগ্ধকর নির্মাণশৈলী। কুরআন কারীম রাখার জন্য দেয়ালের চারপাশে বক্স করা আছে। ৫৩ বর্গমিটার ভূমির উপরে মসজিদটি নির্মিত হলেও মূল মসজিদটি ৬.৮ী ৬.৮ মিটার ভূমির উপর বর্গাকৃতি করে নির্মিত। যদিও বিভিন্ন স্থানের মসজিদ বা বসতবাড়ি আয়তাকৃতির হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই মসজিদ বা বসতবাড়ি উত্তর-দক্ষিণে একটু লম্বা হয়, আর পূর্ব-পশ্চিমের দৈর্ঘ একটু কম হয়। আল বিদিয়া মসজিদের মিহরাব সর্বোচ্চ ১৮০ সেন্টিমিটার (৩০ সেন্টিমিটারে এক ফুট) বা ৬ ফুট উঁচু আর পাশের্^ উচ্চতার অর্ধেক তথা ৯০ সেন্টেমিটার বা ৩ ফুট। মিহরাবের পাশের্^ রয়েছে মিম্বার। মিম্বারের সিঁড়ি রয়েছে যথারীতি তিনটি। মসজিদের দেওয়ালগুলো উচ্চতা ১.৫ মিটার। আর দেওয়ালগুলোর প্রসস্থতা হচ্ছে প্রায় তিন ফুট।

মসজিদের দক্ষিণ পাশের্^ একটি পানির কূপ আছে। মসজিদের পেছনে পাহাড়ের ওপর রয়েছে দুটি দুর্গ। দুর্গ দুটি সম্পর্কেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। কারো মতে আজান দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো এই দুর্গ, আবার কারো মতে পর্তুগীজরা দুর্গ দুটি নির্মাণ করেছিলো মূলত সমুদ্র পথের বাণিজ্যিক নৌবহরে লুটতরাজ করার উদ্দেশ্যে। পর্তুগীজরা বিশে^র বিভিন্ন দেশের সমুদ্র উপকূলে এধরনের দুর্গ নির্মাণ করে সমুদ্রের বাণিজ্যিক নৌ-বহরে লুটতরাজ করতো। দুর্গের চূড়ায় উঠলে একদিকে আরব উপসাগরের অংশ বিশেষ দেখা যায়। অপরদিকে খেজুর বাগানের নয়নাভিরাম দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে খুব সহজে। মসজিদের সামনে রয়েছে প্রসস্থ সাহান বা উঠোন। সাহান বা উঠান মসজিদের প্রায় দ্বিগুন। মসিজদটি বর্গাকৃতির হলেও মসজিদের সাহান উত্তর-দক্ষিণ আয়তাকারের লম্বা। মূল মসজিদটি ৬.৮ী ৬.৮ মিটার ভূমির উপর নির্মিত কিন্তু সাহান মসজিদের প্রায় দ্বিগুন ভূমি দখল করে আছে। সাহানটি মসজিদের মূল ভিটি অতিক্রম করে আরো দক্ষিণ দিকে লম্বা। সাহানটিও মাটির দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। দেওয়ালটি প্রায় সাড়ে তিন ফুট উঁচু।

বর্তমানে মসজিদের ভেতরে কিছু সংখ্যক কুরআন কারীম রাখার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও চারটি বাতি, দুটি এসি, মাইক, একটি দেয়ালঘড়ি ও একটি বিদ্যুৎ চালিত পাখা আছে। আল বিদিয়া মসজিদে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত না হলেও প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের ভেতরে চার কাতার করে মুসল্লিরা দাঁড়াতে পারেন এবং নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে মসজিদটি ফুজাইরা সরকারের পর্যটন ও প্রতœতত্ত¡ কর্তৃপক্ষের তত্ত¡াবধানে পরিচালনাধীন। মসজিদ প্রাঙ্গনেই রয়েছে পর্যটন ও প্রতœতত্ত¡ কর্তৃপক্ষের কর্মচারী। মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে ফুজাইরাহ আমিরাতের পর্যটন ও প্রতœতত্ত¡ কর্তৃপক্ষ বেতন ভাতা প্রদান করেন।

২০০৩ সালের মার্চে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মাণ করেছে মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদা অজুখানা, বিশ্রাম কক্ষ, পাহাড়ের উপরে দুর্গে যাতায়াতের জন্য পাথরের সিঁড়ি, সীমানা প্রাচীরসহ মসজিদের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি বাগান। এ ছাড়া এখানে দুটি দোকানও রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে আমিরাতের ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এখানে।

প্রতিদিন আল বিদিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়। দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর বিকাল ৫টা পর্যন্ত এটি উন্মুুক্ত থাকে।

আল বিদিয়া মসজিদের অবস্থান ফুজিরাহ শহরের দিব্বা-খোরফাক্কান সড়ক হয়ে শারম থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার ও সানদী বিচ থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দক্ষিণে আল বিদিয়া নামক স্থানে। দর্শণার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি উন্মুক্ত থাকে। এ ছাড়াও এখানে আসা পর্যটকরা ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে ফুজাইরাহ, খোরফাক্কান ও কালবা বিচ। পর্যটকদের জন্য রয়েছে উন্নতমানের খাবার হোটেল, থাকার জন্য রয়েছে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই ফুজাইরাহ রোটেনা, লি মেরডিয়াম ও খোরফাক্কান ওশিয়্যানিক হোটেল।

বিগত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ মসজিদটি দেখার সুযোগ হয়েছে আমার এবং মসজিদে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার জন্য রাব্বুল আলামীন আমাকে তওফিক দিয়েছেন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাক্তন লেবার এটাসে (শ্রম বিভাগের উপদেষ্টা) হাফেজ মীর কামাল মÐলের সহযোগীতায় আমাদের উক্ত মসজিদে যাওয়ার সুযোগ হয়। আমার সাথে ছিলো আমার স্ত্রী কবি হাসিনা চৌধুরী লিলি ও আমার পুত্র আইনজীবী চৌধুরী মুহাম্মদ রাফসান ইসলাম প্রিয়ম। যার কথা না বললেই নয, তিনি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ জেলার হাফেজ জয়নাল আবেদীন। যিনি আজমান আমিরাতের মসজিদে আওকাফের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.