টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পুশব্যাক আর কত, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোন পথে?

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জেড করিম জিয়া: zia_ul_karim_zia_-_coxবাংলাদেশের আপামর জনগণ এখন রোহিঙ্গা শব্দটির সংঙ্গে পরিচিত এ শব্দটি এখন আর সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন পড়ে না। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিদিন কোন না কোন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা পুশব্যাক তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেও প্রকৃত অর্থে এরা কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশে স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে।

র্সব প্রথম ১৯৭৮ সালে জোর পূর্বক অনুপ্রবেশকারী হিসেবে টেকনাফ এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে শুরু করে। পরে তারা উন্নত জীবন যাপনের আশায় বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন অনুপ্রবেশ করছে শত শত রোহিঙ্গা। তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে দখলে নিয়েছে শ্রমবাজার। বর্তমানে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবৈধ চোরাচালান সহ অসামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে আইনশৃংখলাসহ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে। এছাড়া সংঘঠিত করছে চুরি, ডাকাতিসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ড। এ রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু কক্সবাজার জেলার নয়, পুরো দেশ জুড়ে এ সমস্যা দিন দিন ব্যাধী হয়ে প্রকট আকার ধারণ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে মিয়ানমারের ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরনার্থী হিসেবে আসে এবং টেকনাফের দমদমিয়া, মোছনী ও নয়াপাড়া, উখিয়ার কুতুপালং, ঘুমধুম এলাকায় শরনার্থী ক্যাম্পে বসবাস করে। এরপর থেকে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকার ইউএনইচসিআরের সহায়তায় ১৯৯২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় ২ লক্ষ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী স্ব-দেশে ফেরত যায়। অতপর সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৮ জুলাই টেকনাফ শরনার্থী প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে নয়াপাড়া ক্যাম্পে এক পরিবারের ২ সদস্য মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পর থেকে প্রতাবাসন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। তখন থেকে রোহিঙ্গারা সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর টহলদলকে ফাকিঁ দিয়ে দেশীয় দালালচক্রের হাত ধরে ১৮২ কিলোমিটার স্থল ও জল সীমা দিয়ে এসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ঐসমস্ত এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতির পাশাপাশি আর্তসামাজিক অবস্থার চরম বিপর্যয় ঘটেছে। সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিদিন কোন না কোন সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা পুশব্যাক তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করলেও প্রকৃত অর্থে এরা কোন না কোন ভাবে বাংলাদেশে স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। আর এদের সহযোগিতা দিয়ে আসছে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা। সহজ পন্থায় কয়েক’শ টাকার বিনিময়ে সীমান্তের কিছু দালালকে ম্যানেজ করে বাংলাদেশের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। অথচ এসব দালাল চক্ররা জানে না সামান্য টাকার বিনিময়ে দেশের কি পরিমাণ ক্ষতিসাধন করছে। টেকনাফ সীমান্তের প্রায় শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট ছোট নৌকা দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এসমস্ত পয়েন্টে অনুপ্রবেশকারীদেরকে বিভিন্ন সংস্থান নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েকশত টাকার বিনিময়ে সাদর সম্ভাসন জানাচ্ছে দেশীয় ঘাট মালিকরা। মাসিক ও সাপ্তাহিক তোলা মাসোহারা বিনিময়ে একেক ঘাটে ১০/১৫ জনের সমম্বয়ে একেকটি সিন্ডিকেট উপরের সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে যোগসাজসে আদম পাচার ওপেন সিক্রেট ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। এতবাধা বিপত্তি থাকা সত্ত্বে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও সহজে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার আশায় অতি উৎসাহী হয়ে দলে দলে ঠাই নিচ্ছে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে। ধর্মীয়, ভাষাগত ও আচার-আচরণে মিল থাকার কারণে সীমান্তবর্তী এসব উপজেলায় বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় বনাঞ্চল দখল করে গড়ে তুলছে রোহিঙ্গা পল্লী। এসমস্ত রোহিঙ্গারা স্বল্প মূল্যে দখলে নিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় শ্রম বাজার। টেকনাফ স্থল বন্দরের শ্রমিকদের সিংহভাগ কাজ রোহিঙ্গা ধারা পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া রিক্সাচালক ও বাড়ির ঝিয়ের কাজ পর্যন্তও তাদের দখলে। তাদের কারণে লক্ষাধিক স্থানীয় শ্রমজীবী বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পতিতাবৃত্তি থেকে শুরু করে নানান অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি ঘটাচ্ছে এসব রোহিঙ্গারা। স্থানীয় কিছু কুচক্রি সিন্ডিকেট রোহিঙ্গা যুবকদের ব্যবহার করে চুরি, ছিনতাই, সড়ক ডাকাতিসহ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক সুবিধা হাছিলের মাধ্যমে তথাকথিত দেশপ্রেমিক কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন নামে বেনামে সাংগঠনিক ব্যানার দিয়ে রোহিঙ্গাদের পূজি করে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আবার কিছু কিছু শরনার্থী আরবান রিফিউজি কার্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করে দেশের গোপন তথ্য পাচার করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেশের অভ্যান্তরে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় দুইটি ক্যাম্পে থাকা প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ফেরত দেওয়ার তৎপরতা শুরু করে।

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এবং টেকনাফের নয়াপাড়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।  আর এ রোহিঙ্গা প্রর্ত্যাবাসন বিষয়ে ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোর অপতৎপরতায় বন্ধ রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশিষ্টজনরা।

শরনার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের অভ্যান্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েক লক্ষাধিক আনরেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গাদেরকে স্বদেশে ফেরত যেতে উৎসাহিত না করে বাংলাদেশ সরকারকে শরনার্থীর মর্যাদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ায় রোহিঙ্গারা পানির স্রোতের মত বাংলাদেশের অভ্যান্তরে প্রবেশ করছে এমন দাবী করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

জেলার ২৩ লাখ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি কবে চূড়ান্ত হবে।

এ ছাড়া মিয়ানমার-বাংলাদেশ এর সাথে কিছু কিছু বন্দী বিনিময় হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেয়ার বিষয়টি বরাবরই চলে যাচ্ছে হিমাগারে। সচেতন মহল মনে করে এভাবে যদি জলস্রোতের মত রোহিঙ্গারা এদেশে অনুপ্রবেশ করলে একদিন তারা এদেশের শ্রমবাজার দখল সহ আরাকানের অঙ্গরাজ্য হিসেবে দাবী করবে। তাই অবিলম্বে বাংলাদেশের ছড়িয়ে-ছিঠিয়ে থাকা ও ক্যাম্পে রেজিষ্ট্রাড-আনরেজিষ্ট্রাড রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT