হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

পুলিশ কি অপরাধে বেপরোয়া?

লিখেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন (ঢাকা) :: 
বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেয়ার নজির বিরল৷ আর আদালতে মামলা হলেও তার তদন্ত করে ওই পুলিশই৷ ফলে অপরাধের কারণে পুলিশের প্রচলিত আইনে শাস্তি পাওয়ার নজির কম৷এই পরিস্থিতি কেন?

ঢাকায় একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলে সন্ত্রাসীদের সহায়তার অভিযোগে ওয়ারীর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে ২৬ আগস্ট৷বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান কারাগারে৷কারাগারে আছেন সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন৷শুনে মনে হতে পারে বাহ! পুলিশ কোনো অপরাধ করলেতো ব্যবস্থা নেয়া হয়৷কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সহজে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷অনেক সমালোচনা আর চাপের কারণে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয় হয়েছে৷শাস্তি হবে কিনা সেটা এখনো বলার সময় আসেনি৷

খুলনার জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় থানা মামলা নেয়নি৷আদালতে মামলা করার পর ওসি এবং এসআইসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে মাত্র৷ চট্টগ্রামে মাহমুদা খাতুন মিতুকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী এসপি বাবুল আক্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে৷যদি তিনি স্ত্রী হত্যায় জড়িতই থাকেন তাহলে পদত্যাগের সুযোগ কেন?

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত ও বহু ঘটনায় বিতর্কিত এসপি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে এবারও ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের পুরস্কার দেয়া হয়েছে৷এ নিয়ে ষষ্ঠবার তিনি এই পুরস্কার পেলেন৷

১৯৯৮ সালে ডিবি হেফাজতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবেল হত্যায় ডিবির তখনকার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আকরাম হোসেনকেও আইনের আওতায় আনতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে৷বিচারিক আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান৷

পুলিশের সাবেক এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম বলেন, ‘‘এখন পুলিশে কেউ কেউ মনে করেন তার গডফাদার আছে৷ কারুর পলিটিক্যাল ব্যাকিং আছে৷ ফলে সবার ক্ষেত্রে একই ট্রিটমেন্ট হয়না৷ উর্ধতন কর্মকর্তাদের একটি অংশ সন্ধ্যার পরতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বসে থাকেন৷ তারাতো নিজেদের পলিটিক্যাল ভাবেন৷ তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেয়া সহজ নয়৷”

তাঁর মতে, ‘‘পুলিশের লিডারশিপে সমস্যা হচ্ছে৷ চেইন অব কমান্ডে সমস্যা আছে৷ তাই পুলিশ বেপরোয়াভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে৷”
প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে৷ ২০১৮ সালে অভিযোগের ভিত্তিতে ১২ হাজার ৭৩৩ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়৷ তবে এই শাস্তি যারা পেয়েছেন তারা কনেস্টবল থেকে সর্বোচ্চ ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেয়া হয়েছে লঘুদণ্ড – বদলি, প্রত্যাহার ইত্যাদি৷ চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর শাস্তি খুব কম সদস্যকেই দেয়া হয়েছে৷

২০১৭ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় ওই বছর ১৪ হাজার ৩৯৫ জনকে লঘুদন্ড দেয়া হয়েছে৷ চাকরিচ্যুত হয়েছেন মাত্র ২৫জন৷ যারা শাস্তি পেয়েছেন তাদের অপরাধের মধ্যে আছে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা, জমি দখল, ছিনতাই, ঘুস ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার মত অপরাধ৷ তবে আদালত বা থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ সদর দপ্তর৷

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.