টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

পুলিশের ইফতার :অতপর সাংবাদিক অপমান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩
  • ১৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আজাদ মনসুর::: শিরোনামটি দেখে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন! খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের কষ্ট মেনে নেয় মানুষ, কিন্তু কিছুতেই অপমান সহ্য করতে চায় না কেউ। অপমান সহ্য করতে না চাওয়ার ওপর দাড়িয়েই সৃষ্টি হয় আরব বসন্তের খাদ্য। শুরুতেই একজন বিখ্যাত লেখক দিয়ে শুরু করি। নামহীন সেই বিখ্যাত লেখক এক সমাবেশ থেকে বক্তৃতা দিয়ে আসছেন। পথে একজন তরুণের সাথে দেখা। ছেঁড়া ময়লা শার্ট উস্কো খুসকো চুল-দেখে বোঝাই যায় তরুণ দরিদ্র ঘরের ছেলে। তরুণ এসে লেখককে প্রস্তাব দিলো, জনাব, আপনি কি দয়া করে আমাকে আপনার একদিনের রোজগার ধার দেবেন? বিনিময়ে আমি আপনাকে একদিন আমার এক বছরের রোজগার দেব। লেখক সাহায্যের নামে এমনি কিছু ডলার দিলেন। দিয়ে বললেন না পারলে ফেরত দিতে হবে না। তরুণ ধন্যবাদ দিয়ে বলল,  আপনার এই উপকার আমি কোনদিন ভুলবো না। এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। লেখক সেই তরুণের কথা ভুলে যায়। অনেক বছর পর হঠাৎ সেই তরুনের আবির্ভাব। সে তখন যুবক। লেখকের সেই মুহূর্তে অভাব চলছে। তরুণ এসে তাকে কয়েক হাজার ডলার দিয়ে বলল  আপনি একদিন আমাকে আপনার একদিনের রোজগার দিয়ে সাহায্য করেছিলেন আজকে আমার সময় এসেছে-এই নিন আমার একদিনের রোজগার। লোকটার একদিন এর রোজগার ছিল সেই লেখক মানুষটির এক বছর এর রোজগার। লেখকের চোখে পানি চলে এলো এবং তিনি অদ্ভুত দৃষ্টিতে যুবককে দেখতে লাগলেন। সেই যুবকের নাম ছিল ” চার্লি চ্যাপলিন ” !! গল্পটা লেখার কারণ হল, কোন মানুষের দিনই সব সময় এক রকম থাকে না। একারণে কাউকে কোনদিন ঠকাতে ছোট করতে বা অপমান করতে বা ফিরিয়ে দিতে নেই। অত্যন্ত যোক্তিযুক্ত কারনেই কথাটি বলা। গেল ২৪ জুলাই বুধবার ১৪ রমজান। কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদের উদ্যোগে কক্সবাজারে নির্মাণাধীন আন্তার্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে স্থায়ী করণে দাবীতে পূর্বঘোষিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে সেই দিন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চলছিল। স্বাক্ষর সংগ্রহের দুটি বুথের মধ্যে স্টেডিয়ামে ছিল এর একটি বুথ। বিকাল তখন ৩টা। আমার অগ্রজ বড় ভাই মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও আপনকন্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আমানুল হক বাবুল আমাকে বললেন পুলিশের ইফতার পার্টি পুলিশ লাইনে। অবশ্যই তার আগের দিনেও আমাকে আপনকন্ঠ অফিসে বলেছে পুলিশের ইফতার পার্টিতে যেতে। আমি বলেছি ভাই আমি তো কার্ড পাইনি। গেল বার ও তার আগের বার কিন্তু বাই নেমে চিঠি আসছিল। কিন্তু এবারে পাইনি। তিনি নিশ্চিত করেছেন আমাদের সম্পাদক সাহেব পার্টিতে অনুপস্থিত থাকবেন। তুমি যেতে পারবে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে তেমন ভাবিনি। বাবুল ভাইকে বললাম ঠিক আছে চেষ্টা করব। ঠিক ৪টা বাজে। আমাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শেষ, যার যার গন্তব্যে চলে আসলাম। আমি জেলা পরিষদ হয়ে হেঁটে যেতেই কক্সবাজারবাণীর বার্তা সম্পাদক নুরুল আমিন সিদ্দিকীর সাথে দেখা। তিনি আমি কোথায় যাচ্ছি জানতে চাইলেন। বললাম অফিসের দিকে। চলো পুলিশ লাইনে ইফতার পার্টিতে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির আবু মোর্শেদ চৌধুরী গাড়ি নিয়ে এখানে আসবেন একসাথে উঠেই চলে যাবো। যাবো না বলতেই সিদ্দিকী ভাই জোর করলেন। এরই মধ্যেই খোকা ভাইসহ মাইক্রোবাস নিয়ে হাজির আর কিছু বলতে পারলাম না। অস্বস্থির মধ্যেই উঠতে হল রাসেল ভাইয়ের কথার সূত্র ধরে সেই হায়া, শরমের মাথা খেয়ে। আমি ভাই স্বভাবগত অন্য ধরনের ছেলে। কোন বিয়ে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ছাড়া যাই না। কারণ যেখানে আমি সমাদ্রিত হব না, সেইখানে আমি কেন? আমি জানি, যে আসন ছেড়ে দিতে হয় সেই আসনে না বসাটাই শ্রেয়। আর এটিও সত্যি কেউ বড় মন নিয়ে দাওয়াত করলে ওই অনুষ্ঠানে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করি অন্তত উপস্থিত থাকতে। আমি অন্তত যে কোন প্রোগ্রামে গেলে দাওয়াত ছাড়া, প্রশ্নই উঠে না। যাক গেলাম। গাড়ি থেকে না নামতেই একজন পাঞ্চাবি পড়া ভদ্র পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফজলুল আমাকে বললেন আপনি ওই পাশে যান। আমি আর কোন কথা বললাম না। নিজেকে স্বাভাবিক ভাবেই নিতে পারিনি। গিয়ে দেখলাম ওখানে অনেক জনের আসন। সেখানে বসা পুলিশের কয়েকজন লোকজন। বসলাম না। আমার ফোনে কল আসল। কথা বলতে বলতে মাঠে নামতেই বিভিন্নস্থান আসা অতিথিদের গাড়ির ড্রাইভাদের নিয়ে আসছেন সেই এসআই ফজলুল সাহেব। কারণ ফজলুলকে এসপি সাহেব সেখানে নাকি দারোয়ানের দায়িত্ব দিয়েছেন। ভিআইপি ছাড়া যাতে কেউ স্পেশাল কক্ষে ঢুকতে দেয়া না হয়। মাঠে দেখলাম আমাদের বিটিভির সোহেল ভাইসহ কয়েকজন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মী। ফোনে কথাবলা শেষ করলাম। সংবাদকর্মীরা যেখানে যাবে সেখানে তো আমাকেই যেতে হবে। তাই আমি সোহেল ভাইদের সাথে চললাম। কিন্তু ভাই সেই দারোয়ান ফজলুল নাছুরবান্দা। সে কোনভাবেই আমাকে যেতে দিবেনা। বললেন আপনি থেকে যান। সোহেল ভাই বললেন কেন? ওখানে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। অসুবিধা না বলে সোহেল ভাই আমাকে নিয়ে চললেন। গিয়ে দেখলাম ভাই, ওখানে আমার মত কয়েকজন সংবাদকর্মী বসা। অনেক আসন খালি বসার কেউ নেই। বুঝতে পারলাম লোক দেখানো ইফতার পার্টি। আমার ইচ্ছে হয়ছিল ইফতারের আগেই চলে আসি। কিন্তু দারোয়ান ভূল করতে পারে আমি ভূল করতে পারি? বসে রইলাম অনেকের কাছে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে। এনিয়ে তো বাবুল ভাই বেজায় গরম। দারোয়ান ফজলুল কেন জানি আমাদের টেবিলে বসা ছিল। তখন ইচ্ছা মত বলার সুযোগ হয়েছে আমার। সে কেবল পায়ে ধরলনা। অনেক অনুনয় বিনয়েও আমাকে কেউ পুলিশের ইফতার খাওয়াতে পারল না। স্রেফ পানি পান করেই আমি চলে আসলাম। কথা হচ্ছে, পুলিশ সুপার একজন বিবেকমান লোক তাঁর কাছে কি এ ধরণের আচরণ শোভা পাই? তাকে থাকতে হবে সকলের সাথে একটা ঋদ্ধতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে। কেবল শুধু তিনি জানেন ৩-৪ জন সংবাদকর্মী। যেখানে যাবে যাক তাদের কথার বাইরে এক কদম পা বাড়াতে রাজি নয় এই মাননীয় পুলিশ সুপার। বিশেষ করে একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের সংবাদকর্মীর কথা ছাড়া হাঁগতেও যায় না মনে হয়। তা বুঝতে পেরেছি গেল কয়েক মাস আগে কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদের সাংবাদিক সম্মাননা হয়েছিল। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে পুলিশ সুপারকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। দাওয়াত দেয়ার পরে আমাদের নিশ্চিত করেছে পুলিশ সুপারের অনুগত সেই শ্রদ্ধেয় সাংবাদিককে জ্ঞাত করে। এমন হলে তো চলে না জনাব? আপনার দেয়া ইফতার পার্টিতে একজন সংবাদকর্মী ইফতার না করে আসাটা হয়তো আপনাকে নূন্যতম ব্যতিত করবে না জানি। তবে আমাদের সাংবাদিক সমাজকে করার কথা? না করলে আমি মনে করব না তারা প্রকৃত সাংবাদিক নয়। কারণ যে কোন বড় বড় অনুষ্ঠানে সব সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকেনা। কারণ আমন্ত্রণ ছাড়া  একজন পরিপক্ষ কোন সাংবাদিক আমন্ত্রণ ছাড়া যে কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া ইচ্ছে পোষণ করেনা। যদি যেতেই হয় তাহলে আমার মত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে অপারগতা অবস্থায় যেতে বাধ্য হয়। উপরে একটা কথা বলেছি, গত দু’বারে জেলা পুলিশ সপারের কার্যালয় থেকে আমার নেমে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। ঠিক আমার মত আরও অনেক সহকর্মী ভাইয়েরাও পুলিশের আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিল। কিন্তু এবারের ইফতার পার্টিতে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের তালিকা করতে গিয়ে কেন দায়সারা ভাবে করতে গেলেন? আমার সহকর্মী ভাই রাসেল চৌধুরীর দেয়া তথ্য মতে, এসব সাংবাদিকের নামের তালিকা করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার। আর তাকে সহযোগিতা করেছেন নাকি বাম ঘরনার কয়েকজন সাংবাদিক। আর এসপি সাহেব এসব সাংবাদিক-টাংবাদিক নিয়ে মাথা ঘামান না। ভাই, সেই আমার কথা আর রাসেল ভাইয়ের কথা এক নয় কী?। সেই কয়েক জন সাংবাদিকরাই কিন্তু পুলিশ সুপারের মাথা খেয়েছে। কক্সবাজারের জনপ্রিয় বিগত পুলিশ সুপার সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমদ, মতিউর রহমান শেখ, সাখাওয়াত হোসেন কিংবা সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মত পুলিশ সুপারের বড়ই অভাব। যিনি কয়েকজন সাংবাদিক ছাড়া সাংবাদিকদের বড় একটি অংশকে ভয়াবহ ভাবে এড়িয়ে চলেন। কথা বলতে চান না। ফোন করলে খুব সহজ প্রশ্নের উত্তরটিও না দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এটিই তাঁর স্বাভাবিক উক্তি। জনাব কথাগুলো এমনি আসছেনা। কারণ সময়’কে ভুলে যাওয়া চলবে না । কারণ সময়ই নিজের অস্তিত্ব বহন করে । তাহলে বলেন, একজন ভাল সাংবাদিক কখনও অতীতকে ভুলতে পারে? ভালকে ভাল বলাই তো আমাদের কাজ তাই না? একেক মানুষ একেক স্বভাবের আর এটিই স্বাভাবিক। রাসেল ভাই, আপনি বলেছেন, আর ১৫/২০ জন সাংবাদিককে ডাকলে কী এমন অসুবিধা হতো? ভাই পুলিশের অসুবিধে হয়তো হতো না। কিন্তু বাম ঘরনার কিছু সাংবাদিকদের অসুবিধা হতো। পুলিশের হয়তো অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার টাকা বেশী খরচ হতো? এটি মুখ্য বিষয় নয়। প্রতিদিন ট্রাফিক অফিস, থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে যে অবৈধ আয় হয়, পুলিশের নামে বিভিন্ন ¯পটে চাঁদাবাজি হয়, এটি না হয় বললাম না। আমন্ত্রিত না হয়েও হায়া-শরম ফেলে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রশ্নবোধক কথাবার্তা বলে তাদেরকেও বিব্রত করা হয়েছে। সেখানে তো ভাই আমি ও একজন। আমি ধিক্কার পুলিশকে  দিব না। ধিক্কার দিব তাদের, যাদের কারণে নির্দিষ্ট গুটি কয়েক সাংবাদিকদের কাছে জিম্মি রেখেছে পুলিশ সুপারকে। এই মহারথি সাংবাদিকদের বলল, জনাব আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটান। মনে রাখবেন আপনারা উপরের আসনে একদিনেই আসেননি। একারণে কাউকে কোনদিন ঠকাতে ছোট করতে বা অপমান করতে বা ফিরিয়ে দিতে নেই। আপনার অবর্তমানে আপনার শূণ্যস্থান হয়তো তাদের ধারা পূরণ হবে না। তবে পূরণ করতে এরাই এগিয়ে আসতে চেষ্টা করবে। এধরনের অপমান করার জন্য আমরাই তো তাদের সুযোগ করে দিয়েছি। ধরেন সেইদিন যদি ওই স্থানে যে ক’য়জন সংবাদকর্মী ঘটনাটি দেখেছেন তারা যদি অন্তত ঐ ইফতার পার্টি বয়কট করে চলে আসতেন আপনাদের তো ভাই এমন ক্ষতি হতো না বা পুলিশ সুপারের তেমন ক্ষতি হতো না। তবে সাংবাদিকদের জয় হতো জানি। আপনারা যারা ঐ সময় ছিলেন শুধুমাত্র সোহেল ভাইকে রেখেই বাকিরা চলে গেলেন ইফতার পার্টিতে। আমরা সিনিয়র সাংবাদিক দাবী করতে পারি। তবে আমাদের মধ্যে এখনও নূন্যতম মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি। হয়তো হবে, যেদিন সাংবাদিকদেরকে কুকুরের মত ধিক্কার দিবে সেইদিনই বোধগম্য হবে সাংবাদিকদের সম্মান কি জিনিস। পুলিশ সুপারের কাছে কি সিনিয়র সাংবাদিকদের নামের তালিকা নেই? যদি না থাকে সে লজ্জাটা আমার নয়? লজ্জা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের। বেশরমের মাথা খেয়ে আজ অনেক কথায় বলে ফেললাম। আরও আগে লিখতে চেয়েছি। অসুস্থ শরীর ও  কক্সবাজারে নির্মাণাধীন স্টেডিয়াম কে স্থায়ীকরনে দাবীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করাতে একটু বিলম্ব হলো। মাননীয় পুলিশ সুপার, আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থী। আমি অনেক অচেতন কথা আমার লিখায় স্থান দিয়েছি। এটি কি শুধূ ইফতার পার্টি ছিল? জেলার বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবীদের সম্মানে ও সাংবাদিকদের সাথে একটি ঋদ্ধতার পরিচয় বহন করে। সেই চিন্তা থেকেই এই লেখাটা লিখলাম!

লেখক ঃ সভাপতি কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ (সিএসএস), জেলা প্রতিনিধি-এজাহিকাফ অনলাইন টিভি, মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক আপনকন্ঠ। মোবাইল ঃ ০১১৯৫-১০৬০১৮, ধুধফপড়ী৯০@মসধরষ.পড়স

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT