পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গা যুবতীর ৬ মাসের কারাদন্ড

প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০১৯ ৮:৩৪ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ …বিশেষ পেশার কার্ডধারী এক ‘শুভাকাঙ্খী’ নিয়ে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তছলিমা বেগম (২২) নামে এক রোহিঙ্গা নারী ধরা পড়েছেন। তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, আবেদন মতে তার বাড়ি উখিয়া উপজেলার রতœা পালং ইউনিয়নে। তছলিমার সাথে ছিলেন তার কথিত পিতা ছুরত আলম। পিতা অবশ্য বাইরে দাঁড়ানো ছিলেন। পাসপোর্ট প্রত্যাশী তছলিমা ও বিশেষ পেশার কার্ডধারী এক ‘শুভাকাঙ্খী’ আবেদন ফরমসহ পাসপোর্ট অফিসে যান। ১৭ জুন (সোমবার) দুপুরে রিসিভ ডেস্কে বসে নিজেই পাসপোর্ট আবেদন ফরম রিসিভ করছিলেন সহকারী পরিচালক আবু নাঈম মাসুম । কিন্তু পাসপোর্ট আবেদন ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র হাতে কাউন্টারে দাঁড়ানো তছলিমাকে দেখে সন্দেহ হয়। এরপর শুরু হল জেরা। দুইজনকে আলাদা করে কৌশলী জেরার মুখে টিকতে না পেরে অবশেষে গোমর ফাঁস করে দেন কথিত তছলিমা বেগম। কথিত তছলিমা আসলে আশ্রিত রোহিঙ্গা। তার প্রকৃত নাম আমাতুল হালিমা, পিতা নরুল ইসলাম। কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক সি, টু জি, ক্যাম্প- ১ এর বাসিন্দা। ছুরত আলমকে পিতা বানিয়ে তার জাতীয়তা সনদ, আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন সনদ ও অন্যান্য কাগজ পত্রের সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে পাসপোর্ট করতে এসেছিল রোহিঙ্গা যুবতী আমাতুল হালিমা।
এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান বিশেষ পেশার পরিচয়দানকারী যুবক ও পাতানো পিতা ছুরত আলম। ততক্ষনে পাসপোর্ট অফিসে হাজির হন সদর মডেল থানার পুলিশ ফোর্স। এরপর বাংলাদেশী কথিত তছলিমা বেগম ওরফে খাস রোহিঙ্গা যুবতী আমাতুল হালিমাকে সোপর্দ করা হয় ভ্রাম্যমান আদালতে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাখন চন্দ্র সূত্রধর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে রোহিঙ্গা আমাতুল হালিমাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম মাসুম জানান, ‘সন্দেহ হওয়ায় আবেদনকারী তছলিমাকে জেরা করা হয়। জেরার মুখে সে রোহিঙ্গা ও প্রকৃত নাম আমাতুল হালিমা বলে স্বীকার করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভাইয়ের পরামর্শে দালালচক্রের সাথে যোগাযোগ করে পাসপোর্ট করতে এসেছিল বলে স্বীকার করেছেন’। ##


সর্বশেষ সংবাদ