টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

পল্লী বিদ্যুৎ: ‘খুঁটি বাণিজ্য’ ও নিয়মবহির্ভূত বিদ্যুৎ সংযোগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ১৩৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:::  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর আওতায় গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ ‘খুঁটি বাণিজ্য’ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে কমিটি হলেও আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবেদন।

ফলে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। এ ছাড়া ঘরে বসে ভৌতিক বিল করায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

অভিযোগ রয়েছে, গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহায়তায় একটি অসাধু চক্র নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরবরাহ ও সংযোগ দিচ্ছে। বিনিময়ে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারের গৃহীত কর্মসূচির আলোকে মহাপরিকল্পনার বাইরে কোনো বৈদ্যুতিক খুঁটি সরবরাহ কিংবা গ্রাহক ইচ্ছা করলেই টাকা দিয়ে খুঁটি কেনার সুযোগ নেই। যথাযথ প্রক্রিয়া ও ফি জমা নেওয়ার পর সরকার বিনা মূল্যে এসব খুঁটি সরবরাহ করবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গজঘণ্টা ইউনিয়নের জয়দেব এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি গাড়া হয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে যার কোনো তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।

একই ইউনিয়নের জয়দেব খামারটারী এলাকায় ১০ পরিবারে দেওয়া হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। এ জন্য ১১ হাজার কেভি বিদ্যুৎ লাইন থেকে ২২০ কেভি লাইন তৈরি করা হয়েছে ওই এলাকায়, যা নিয়ম বহির্ভূত। তা ছাড়া সেখানে একটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে, যার তথ্য কার্যালয়ে নেই। কর্তৃপক্ষ জানেও না বিষয়টি। অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে সেখানে গ্রাহকপ্রতি আট থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম আছে, কোনো গ্রাহক একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি কিনতে চাইলে তাঁকে আবেদনসহ দেড় হাজার টাকা জমা দিতে হয়। তারপর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করবে। এরপর খুঁটির নির্দিষ্ট মূল্য জমা দিলে ঠিকাদারের মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিয়মনীতির  তোয়াক্কা না করে জয়দেব খামারটারী এলাকায় অবৈধভাবে খুঁটি সরবরাহ করা হয়েছে।

গজঘণ্টা ইউনিয়নের জয়দেব গ্রামের সুলতান মিয়া একটি খুঁটির জন্য দেড় হাজার টাকা সমীক্ষা ফি জমা দেন ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু গত চার বছরেও খুঁটি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আশ্রয় নেন অবৈধ উপায়ের। ওই খুঁটির আওতায় পাঁচজন গ্রাহক মিলে এক যুবককে ৩৩ হাজার টাকা দেন। অবশেষে তিন মাস আগে তাঁরা বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পান। এ রকম আরো ঘটনা ঘটেছে গজঘণ্টা ইউনিয়নের ট্যানপাড়া ও জয়দেব গ্রামে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর পল্ল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে জানায়, গজঘণ্টা ইউনিয়নের জয়দেব গ্রামের সুলতান মিয়া দেড় হাজার টাকার সমীক্ষা ফিসহ একটি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তদন্ত কিংবা জরিপ প্রতিবেদনের কোনো কাগজপত্র নেই। এমনকি গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে এর কোনো নথিপত্র নেই। কিংবা খুঁটির মূল্য জমা দেওয়ারও কোনো কাগজপত্র নেই।

এ ছাড়া গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, ইদানীং রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন গ্রাহকদের ভৌতিক বিল দেওয়া হচ্ছে। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে হঠাৎ কোনো কোনো মাসে নির্ধারিত বিলের সাত থেকে ১০ গুণ বেশি বিল করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

গ্রাহকরা আরো অভিযোগ করে, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কিংবা বেশি বিলের কারণে মিটার পরীক্ষার আবেদন করলে প্রথমত তারা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের তাগিদ দেয়। তা না হলে মিটার পরীক্ষা হয় না। অর্থাৎ ভৌতিক বিলের বেশি টাকা আগে পরিশোধ করতে হবে।

ওই আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন বুড়িরহাট বাহাদুর সিংহ এলাকার গ্রাহক আলবেদা খাতুন অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। প্রতি মাসে তাঁর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু ইদানীং একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো কোনো মাসে দুই থেকে তিনগুণ বেশি বিল দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে বিল দেওয়া হয়েছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে মিটার পরীক্ষা করানোর কথা বলা হলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন আগে বকেয়া পরিশোধ করতে বলেন। ’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর গঙ্গাচড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অখিল কুমার সাহা কৌশলে ভৌতিক বিলের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো সব তদন্তাধীন। ইতিমধ্যে দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। ’

অখিল কুমার গঙ্গাচড়ার খামারটারী এলাকায় অবৈধভাবে ট্রান্সফরমার লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ব্যবস্থাপক (জিএম) সোহরাব হোসেন বলেন, ‘শুনেছি এ রকম ঘটনা প্রায় সব এলাকায়ই ঘটছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সমীক্ষা ফিসহ আবেদন থাকলেও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা জরিপের কোনো নথিপত্র নেই। খুঁটির মূল্য বাবদ কোনো টাকা জমা করার প্রমাণপত্রও পাওয়া যায় না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT