টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

‌ঈদ

আজ হিজরি বর্ষের ১০ জিলহজ বুধবার, পবিত্র ঈদুল আজহা, কুরবানির  ঈদ। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানেরা। হজরত ইব্রাহিম আ:-এর ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এই ঈদ। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তুকে কুরবানি দেয়ার শিক্ষাই এই ঈদের শিক্ষা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে এই শিক্ষাই গ্রহণ করবেন মুসলমানেরা।

ঈদুল আজহার সাথে পবিত্র হজের সম্পর্ক রয়েছে। সোমবার পবিত্রর নগরী মক্কার অদূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান হজ পালন করেছেন। স্থানীয় হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী গতকার মঙ্গলবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।

ঈদুল আজহা মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: ও তার ছেলে হজরত ইসমাঈল আ:-এর সাথে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম আ: স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ছেলে ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি ছেলেকে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে সাথে সাথে ছেলে ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি করার নির্দেশ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কুরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানি করার পর আনন্দ থেকেই উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ।

ইসলামে কুরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সূরা কাউসারে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন এবং কুরবানি করুন।’ সূরা হজে বলা হয়েছে ‘কুরবানি করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’ কুরবানির মূল উদ্দেশ্যই তাকওয়া বা খোদাভীতি। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে ‘এগুলোর গোশত আমার কাছে পৌঁছায় না। কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ রাসূল সা: বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কুরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি দিলো না সে যেন আমার ঈদগাহে না যায়।’ বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে মানব জাতির সূচনা থেকেই কুরবানির প্রচলন। হজরত আদম আ:-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কুরবানি দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে ‘আপনি তাদের আদমের দুই ছেলের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়ে কিছু কুরবানি করেছিল। তখন তাদের একজনের কুরবানি গৃহীত হয়েছিল এবং অন্যজনেরটি গৃহীত হয়নি’ (রূরা মায়েদা-২৭)। তবে ইসলামে যে কুরবানির বিধান তা হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সাথে সম্পর্কিত। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের ঘটনা। ৮৫ বছর বয়সে আল্লাহ তাকে সন্তান দান করলেন। আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সন্তানকেই কুরবানি করার নির্দেশ এলো স্বপ্নযোগে। পরীক্ষায় বাপ-বেটা দুইজনেই উত্তীর্ণ হলেন। একজন নিজ ছেলেকে কুরবানি করার জন্য, আরেকজন নিজে কুরবানির জন্য মাথা নুয়ে দেন আল্লাহর নির্দেশ পালনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনের জন্য। আল্লাহর সন্তুষ্টিই কুরবানির মূল উদ্দেশ্য। তার পথে প্রয়োজনে জীবন ও সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গের জন্য তৈরি থাকার শিক্ষাই এর মধ্যে নিহিত। এ জন্যই পশু জবাইয়ের সময় বলা হয়- ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ্ইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ অর্থাৎ নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কুরবানি আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক।’

গরু, মহিষ, উট, ভেড়া, ছাগল, দুম্বা ইত্যাদি প্রাণী দিয়ে কুরবানি দেয়া যায়। ৯ জিলহজ হাজীদের আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির উচ্চারণ করা জরুরি-‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর আল্লাহ আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ কুরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে একভাগ আত্মীয়স্বজনকে, আরেক ভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন এবং বাকি একভাগ নিজেরা খাওয়া সুন্নত। ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। কুরবানি ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের যেকোনো দিন করা যায়। তবে প্রথম দিন করা উত্তম।

এই ঈদের প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান বিষয় হলো পশু ক্রয়। অবশ্য যারা ঈদের উৎসবে রাজধানী ঢাকা বা অন্য কোনো শহরে কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন, তাদের প্রস্তুতি শুরু হয় যানবাহনের টিকিট সংগ্রহ করা থেকে বাক্সপেটরা গোছানো দিয়ে। ঈদের যাত্রায় ভোগান্তি কম নয়, এবারও তার হেরফের হয়নি।

তবু প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের আনন্দ, আপন ঠিকানায় ফেরার অনুভূতির তুলনায় যাত্রার দুর্ভোগ তুচ্ছ জ্ঞান করেই সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেছেন অসংখ্য মানুষ।

কুরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বুধবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে আসবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজের খুতবায় তুলে ধরা হবে কুরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করবেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে।

নামাজ শেষে অনেকেই যাবেন কবরস্থানে স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। আনন্দের দিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়া স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে করজোড়ে মোনাজাত করবেন তারা।

নামাজ শেষে আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে পশু কুরবানি এই ঈদের প্রধান কর্তব্য।

ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত হবে হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে আটটায়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল নয়টায় জামাত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটা থেকে ঈদের পাঁচটি জামাত হবে।

সরকারিভাবে ঈদুল আজহা উদ্যাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।

বাণী ও শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ঈদুল আজহা মুসলিম জাতির ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুসংহত করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় সবার পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। তার পরও তিনি ঈদুল আজহা সবার জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক-আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT