টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

নিরাপদে ও সাচ্ছন্দে সম্পন্ন হয়েছে দেশের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১১৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত জন সমুদ্রে পরিনত হচ্ছে : বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে জেলার সব প্রতিমা
মোঃ আবছার কবির আকাঁশ, নিজস্ব প্রতিনিধি : পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে বিসর্জনের জন্য একে একে নিয়ে আসা হচ্ছে জেলার সকল মন্ডপের প্রতিমা । প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য আসা বিভিন্ন ধর্মের পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে জন সমুদ্রে পরিণত করেছে । পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও কক্সবাজার জেলা পরিষেদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ওপেন বীচ কনসার্ট । বিকাল ২:৩০ দিকে এই ওপেন কনসার্ট শুরু হয় । এতে প্রধান অথিতি হিসেবে কিছুহ্মনের মধ্য উপস্হিথ হবেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ।

 Cox_Durga Bisorjon pic-2ক্যাপশন: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের মিলনমেলা। লাখো পূঁজারীর অশ্র“সিক্ত নয়নে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেবী দূর্গার বিসর্জন মোহাম্মদ সেলিম, কক্সবাজার, তাং-১৪ অক্টোবর ২০১৩ ইং ॥ পাঁচদিন উৎসবের পর সম্পন্ন হল মহা বিজয়া দশমী। লাখো পূঁজারীর অশ্র“ সিক্ত নয়নে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জেলার ২৫০টি মন্ডপের মা দেবী দূর্গাকে বিসর্জন দিয়েছে কক্সবাজারের হিন্দু সম্প্রদায়। অসাম্প্রদায়িক ও মৈত্রীময় এ অনুষ্টানে লাখো লাখো ভক্ত অনুরাগী আর পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। সোমবার বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জেলা পুজা কমিটি আয়োজিত দেশের বৃহত্তম বিসর্জন অনুষ্ঠান পরিনত হয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায়। প্রশাসনের কড়া নজরদারী ও বিশেষ নিরাপত্তায় নানা আয়োজনের মাধ্যমে নিরাপদে ও সাচ্ছন্দে সম্পন্ন হয়েছে দেশের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান।

পিতৃগৃহ ধরাধামে আগমনের পাচ দিন শেষে মা দূর্গার পতীগৃহ ফেরার দিনে তাই সব পথ যেন মিশেছে সৈকতে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ২৫০টি প্রতীমা নিয়ে আসা হয় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে। পর্যটক, পুজারী ও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে লাখো মানুষের অংশগ্রহনে সৈকতের বিসর্জন অনুষ্ঠান পরিনত হয় সম্প্রীতির মিলন মেলায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় উচ্ছসিত পূন্যার্থীরা।

কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, প্রশাসনের প্রত্য সহযোগিতায় জেলার আড়াইশ পূজা মন্ডপে শান্তিপূর্নভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন করতে পারায় পুলিশ, র‌্যাবসহ প্রশাসনের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এছাড়া সমুদ্র সৈকতে দেশের বৃহত্তম বিসর্জন অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারায় তিনি সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো: আজাদ মিয়া জানান, পাঁচদিন ব্যাপী দূর্গাপূজা ও সমুদ্র সৈকতে দেশের বৃহত্তম বিসর্জন অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত সাদা পোশাকের পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম এই বিসর্জন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা লাখো পূজারী, ভক্ত আর পর্যটনের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ, র‌্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতাও বাড়ানো হয়েছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবারের বিসর্জন উৎসবে রং ছিটানো আর আতশবাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অশুরকে বদ করতে মর্ত্য লোকে এবার মা দূর্গার আগমন ঘটছিল। তার কার্যাদি শেষ করে  লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী মর্ত্য লোক ছেড়ে চলে যাবেন। তাই ধর্মীয় নানা আনুসাঙ্গিকতা সম্পন্ন করে বিদায়ের মুহুর্তে সমুদ্র তটে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নৃত্য ও গানের মাধ্যমে ভক্তরা একে একে সব প্রতিমা বিসর্জন দেয় বঙ্গোপসাগরে।

সনাতম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্টানের দেশের বৃহত্তম আসরে সোমবার বিকেলে মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে বিসর্জন দেয়া হয় জেলার ২৫০ টি প্রতিমা। এর আগে দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানের মন্ডপ থেকে ট্রাক যোগে প্রতিমাগুলো আনা হয় সৈকতের লাবনী প্রয়েন্টে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে সৈকতে স্থাপিত বিজয়া মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও মন্ত্র পাঠ। কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক বাবুল শর্মার সঞ্চালনায় দেশের বৃহত্তম বিসর্জন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার-রামু আসনের সাংসদ মো: লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: নুরুল বাসির, পুলিশ সুপার মো: আজাদ মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একে আহমদ হোসাইন, সাবেক মহাজোটের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো: আব্দু রহমান, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। এসময় বত্তারা বলেন, জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সকল সম্প্রদায়ের ব্যাক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন,“ কক্সবাজার হচ্ছে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতীর তীর্থ স্থান। এখানে ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এই প্রতিপাদ্যকে বুকে ধারন করে যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়ীক ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু, খুরুশখুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দু রহিম, ঈদগাও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীসহ ধর্মীয় ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । ……………………………………………………………………………… মোহাম্মদ সেলিম, কক্সবাজার। তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০১৩ইং। মোবাইল-০১৮১৮৫৮৭০৪৪, ০১৭৫২০৪১১৩৭।

 

 

Click here to Reply, Reply to all, or Forward

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT