টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফে বিএমএসএফের কমিটি অনুমোদন সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগর থেকে ৫ লাখ ইয়াবাসহ ৭ জন আটক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ শীতে করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, প্রস্তুতি নিন: প্রধানমন্ত্রী বিদায় শতাব্দীর মহাজাগরণের প্রতীক: মাদ্রাসা পরিচালনায় নতুন কমিটি আল্লামা আহমদ শফী হুজুরের জানাজা সম্পন্ন, লাখো মানুষের ঢল ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ আসছে পৃথিবীতে: ক্ষুধায় মরবে কোটি মানুষ শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া বাজার কমিটির উদ্যোগে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত আল্লামা শাহ শফীর জানাজা শনিবার দুপুর ২টায় হাটহাজারীতে টেকনাফে গোদারবিলের জাফর আলম ও ফারুক ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার-৪

নারী নাহি হতে চায় শুধু একা কারো, এরা লোভী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০
  • ৬৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হারুনুর রশিদ আরজু::    আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীদের নিয়ে অনেক ভালো ভালো গান কবিতা লিখেছেন। নারীর প্রেম বিরহ যন্ত্রণা মান-অভিমান ভালোবাসা সব গান এবং কবিতায় তুলে ধরেছেন। এতে তিনি তাদের এতো এতো প্রশংসা করেছেন যে, বলা যায় তাদের একেবারে মাথায় তুলে নিয়েছেন।

এখনও বাংলাদেশে নারীর অধিকার নিয়ে আ‌লোচনা করতে গেলে নজরুলের কবিতা দিয়ে শুরু করতে হয়। এখনও নারীর ভালোবাসা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে নজরুলের কবিতা দিয়ে শুরু করতে হয়।
এখনও নারীর বীরত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে নজরুলের কবিতা দিয়ে শুরু করতে হয়। তা নাহলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নারীকে নিয়ে লেখা নজরুলের এমন একটা গান কবিতা পাওয়া যাবে না যেটাতে নারীর প্রতি কোনো প্রকার অসম্মান করা হয়েছে। নজরুল “নারী” নামক এমন একটা কবিতা রচনা করলেন। যেখানে নারীকে জগতের সবকিছুতেই পুরুষের সমান মর্যাদা দিয়েছেন। বলা যায় নজরুলের “নারী” কবিতাটি নারী সম্পর্কিত একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা। যে কবিতাটির মধ্যে একজন নারীর পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ পায়। নজরুলের আগে-পরে আর কোন লেখক এর নারী সম্পর্কিত এমন একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা পাওয়া যায় না। তাই নারী সম্পর্কে যে কোনো আলোচনা করতে গেলে লিখতে গেলে নজরুলের এই নারী কবিতাটি থেকে পংক্তিমালা তুলে ধরতে হয়। কবিতাটির অনেক পংক্তি সর্বমহলে বিখ্যাত। প্রসঙ্গক্রমে নজরুলের বিখ্যাত নারী” কবিতার কয়েকটি জনপ্রিয় লাইন তুলে ধরছি।

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত ফল,
অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।
রাজা করিতেছে রাজ্য-শাসন, রাজারে শাসিছে রাণী,
রাণীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত গ্লানি।
পুরুষ হৃদয়-হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে অর্ধেক হৃদয় ঋণ।
কবিতাটি শেষ করেছেন তিনি এই আশাবাদ বলে-
সেদিন সুদূর নয়-
যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!

যে নজরুল নারীদের নিয়ে তার কবিতায় এতো মহৎ প্রশংসা করেছে সেই নজরুল তার বিখ্যাত “পূজারিণী” কবিতায় কয়েকটি লাইনে নারী চরিত্রের ভিতরের সব রূপ তুলে ধরেছেন। বিশ্বাসই করা যায় না নজরুল নারীদেরকে নিয়ে এমন চরম কথা বলতে পারেন। বলা যায় নজরুল এই কয়েকটি লাইনে নারী জাতিকে কুমড়ার মতো টুকরো টুকরো করে কেটে ফালাফালা করেছেন। তিনি বলেছেন-

নারী নাহি হতে চায় শুধু একা কারো
এরা দেবী, এরা লোভী,
যত পূজা পায় এরা চায় আরো।
ইহাদের অতি লোভী মন
একজনে তৃপ্ত নয়, এক পেয়ে খুশি নয়,
যাচে বহুজন।….

যদিও শুনতে ভালো লাগছে না তবুও বলি, নারীর চরিত্র সম্পর্কে কবির এই উপলব্ধি নিতান্ত চরম সত্য। কবি মূলত নারীদেরকে লোভী চরিত্র অধিকারী বলে আখ্যায়িত করেছেন। নারীদের মন যে লোভী সেটা ইতিহাস সাক্ষী দেয়। আমরা যদি দেখি সৃষ্টির আদি মাতা হাওয়া(আ:) বেহেশতের অসংখ্য নাজ নেয়ামত ভোগ করার পরও, সামান্য একটি গন্ধম ফল ভোগ করার লোভ সামলাতে পারেননি। মূলত নারীদের লোভী চরিত্র হওয়ার আদি কারণ হাওয়া (আ:) থেকে।

সম্প্রতি একটা ঘটনা আমাদের দেশে সবার চোখে পড়েছে, বলা যায় সারাদেশে এটা আলোচিত ঘটনা। একজন শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত নারী যার স্বামী ছিলো, সংসার ছিলো, ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো, অর্থ-সম্পদ ছিলো। এতো কিছু থাকার পরেও তিনি একজন সংসদ সদস্যের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান। শুধু তাই নয়, তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে তিনি এই কথিত প্রেমিক সংসদ সদস্যকে বিয়ে করেন।

দীর্ঘ আট বছর এই নারীকে মাননীয় সংসদ সদস্য উপভোগ করেন ভোগ করেন স্বাদ গ্রহণ করেন। তাদের একটি সন্তান পেটে আসলে সেটি নষ্ট করেন। এই মহিলার পেটে তিনি কিছুতেই সন্তান দিতে রাজি ছিলেন না। এই নিয়ে দর কষাকষি করে মহিলা হেরে যান। অবশেষে বিয়ের আট বছর পর তার সংসার ভেঙ্গে যায়। মাননীয় সংসদ সদস্য তাকে তালাক দেন।

কিসের অভাবে কিসের প্রয়োজনে এই নারী স্বামী থাকা সত্ত্বেও আবার একজন বিবাহিত ব্যক্তিকে বিয়ে করেন? সহজ উত্তর “লোভ”। এই নারী চেয়ে ছিলেন তিনি একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রী হয়ে নিজেকে আরও বেশি গৌরবান্বিত করতে। শেষ পর্যন্ত সব হারালেন। আগের স্বামী পরের স্বামী সন্তান সংসার যৌবন। এখন এই লোভী নারী কেঁদে কেঁদে প্রেমিক স্বামী মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতারণার বিচার চাইছেন। যদি বলি দোষটা কার? বিচার কার হওয়া উচিত?

নজরুলের কবিতার চরণগুলি একশত ভাগ সত্যে পরিণত হয়েছে এই নারীর ঘটনার মাধ্যমে। যা একজন নারীর লোভী চরিত্র এবং একাধিক পুরুষ কামনার বাস্তব উদাহরণ।

নারীদের লোভী চরিত্র নিয়ে বহু সাহিত্য রচিত হয়েছে। তাই এজন্য নজরুলকে আলাদাভাবে দায়ী করা যাবে না। তবে অন্যান্য লেখকদের সাথে নজরুল তার কবিতার এই কয়েকটি লাইনে নারী চরিত্রের একটি নতুন প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তা হলো, নারী এক পুরুষে সুখি হয় না, তারা বহু পুরুষ কামনা করে। অন্য সবার সাথে এটুকুই নজরুলের চিন্তার ব্যবধান। নজরুলের চিন্তা দর্শন এজন্য সব সময় ব্যতিক্রম, সবার থেকে এগিয়ে থাকে। এজন্য বলা যায়, নজরুল সর্বযুগের জন্য আধুনিক কবি। নজরুলের চিন্তা চেতনা দর্শন শত বছর পরেও সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

লেখক: কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক কর্মী।
[email protected]

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT