হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

সাহিত্য

নারীর প্রতি অসম্মান কার বেশী- মিডিয়া কবি না হুজুরের?

harunহারুনুর রশিদ আরজু….ইউটিউবে ফেজবুকে কুড়িয়ে পাওয়া হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফির একটি ওয়াজের বক্তব্য ইদানিং দেশের মিডিয়ার প্রধান আলোচ্য বিষয়। প্রচার হচ্ছে যে, এই ওয়াজে তিনি পর্দার গুরুত্ব বর্ণনা দিতে গিয়ে নারীদেরকে ‘তেঁতুলের’ সাথে তুলনা করেন। নারীদের অসম্মান করে এমন কথা অতীতে কেউ নাকি আর বলেননি। আর এ কারণেই আমাদের দিদিমনিরা রেগে গিয়েছেন। গত ০৯ জুলাই অনলাইন পত্রিকা ‘আমাদের সময় ডট কম’ শফি হুজুরের সেই ওয়াজের পূর্ণ বিবরণ প্রথম প্রচার করে। অভিযোগটির ময়না তদন্ত করতে ওয়াজে তিনি কী বলেছেন প্রথমে সেটি জানা দরকার। সেই ওয়াজের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো ঃ “এই মহিলারা, ঘরের চার দিউয়ারির মধ্যে তোমরা থাকো। ঘরের বাহিরে ঘুরাফেরা করিও না। কে বলছে, আল্লাহপাক বলছে। উলঙ্গ অবস্থায় ঘুরাফেরা করিও না রাস্তা-ঘাটে, হাটে-মাঠে। ছেলে আছে, স্বামী আছে এদেরকে বলবা মার্কেটিং করার জন্য, তোমরা কেন যাইবা? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা স্বামীর আসবাবপত্র এগুলার হেফাজত কইরবেন। ছেলে-মেয়ে, ছেলে সন্তানকে লালন পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনে বাহিরে কেন যাবেন? আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে চাকরী করার জন্য? ফজরে ৭/৮ টা বাজে চলে যায়, রাত ৮/১০/১২ টায়ও আসেনা। জেনা কইরা কইরা টাকা রোজগার করতেসে, কি বরকত হবে? আপনারই মহিলা মেয়েদের স্কুলে, কলেজে, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করছে। আরেহ, কাস ফোর ফাইভ পর্যন্ত লেখাপড়া করান। বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা পয়সার হিসাব কইরতে পারে মত, অতটুকু দরকার। মহিলাদেরকে কাসের সামনে বসানো হয় কলেজে ভার্সিটিতে, পুরুষরা কি লেখাপড়া কইরতেছে? মহিলা তেঁতুলের মত-তেঁতুলের মত-তেঁতুলের মত। ছোট্ট একটা ছেলে তেঁতুল খাইতেসে, আপনে দেখতেছেন, আপনার মুখ দিয়া লালা বাইর হবে। সত্য না মিথ্যা বলেন তো? মহিলা তাঁর থেকেও বেশি খারাপ! মহিলাদেরকে দেখলে দিলের মইধ্যে লালা বাইর হয়, বিবাহ করতে ইচ্ছা হয়। লাভ ম্যারেজ/ কোর্ট ম্যারেজ করতে ইচ্ছা হয়। হয় কিনা বলেন? এই মহিলারা তেঁতুলের মত। দিবারাত্র মহিলাদের সাথে পড়ালেখা করতেছেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হোক না কেন, এই মহিলাকে দেখলে, মহিলার সাথে হ্যান্ডশেক করলে, আপনার দিলের মধ্যে কুখেয়াল আইসা যাবে, খারাপ খেয়াল। এইটা মনের জেনা, দিলের জেনা হইতে হইতে আসল জেনায় পরিণত হবে। কেউ যদি বলে একজন বুড়া মানুষ হুজুর মহিলাকে দেখলে আমার দিল খারাপ হয় না, কুখেয়াল দিলের মধ্যে আসে না। তাহলে আমি বলব ভাই, হে বুড়া তোমার ধ্বজভঙ্গ বীমার আছে। তোমার পুরুষত্ব নস্ট হয়া গেসে। সেজন্য মহিলাদের দেখলে তোমার মনে কুভাব আসে না। মাইয়া লোকের বাইশ তাল। এজন্যই পর্দা ফরজ, পর্দা করবা, পর্দা করাবা। এই মেয়েরাই একজন দুজন ছেলে পেলেই, এমনিতে তো হয় না, তাদের বীর্য শেষ করে দেয়, মেয়েরা বীর্য শেষ করে দেয়। এরকম মেয়ে-ছেলেরা প্রতিদিন এসে বলে, হুজুর আমার তো ছেলে-মেয়ে হচ্ছে না পাঁচ বছর আট বছর, আমাকে একটা তাবিজ দাও। সন্তান হবে না কেন, সন্তান হবার জিনিস, বীর্য। তোমরা মেয়েরা স্কুল কলেজে পড়বার সময় সব নষ্ট করে ফেলেছো, আর সন্তান কেন হবে? একেবারে শেষ করে ফেলেছে তাই সন্তান হচ্ছে না। বার্থ কন্ট্রোল কেন করছ য়ে বার্থ কন্ট্রোলের মানে বুঝেছ তো? পুরুষদের মরদ থাইকা খাসী বানিয়ে দেয়া আর মহিলাদের জন্মদানী সেলাই করে দেয়া, সেখানে আর বীর্য প্রবেশ করবে না, এটি হচ্ছে বার্থ কন্ট্রোল। মেয়েদের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে, গর্ভপাতের জায়গায়, শরমের জায়গায় বাচ্চাদানী বেঁধে দিচ্ছে, বীর্য না যাবার জন্য, সন্তান না হবার জন্য। বার্থ কন্ট্রোল করলেও ডেথ তো কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছোস না, করতে পারবি? হতে পারে তোমার প্রথম ছেলে অন্ধ, দ্বিতীয়জন ল্যাংড়া কিন্তু তৃতীয়জন এমন ছেলে হতে পারে যে দুনিয়া চালাতে পারে। তুমি যদি অন্ধ আর ল্যাংড়া ছেলে পাবার পর জন্মনিয়ন্ত্রণ কর তাহলে হতে পারে তোমার বীর্যের মধ্যে এমন ছেলে ছিল যে দুনিয়া চালাতে পারতো। পারলে চারটা পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি আছে উম্মতের জন্য। নবী তো এগারোটা পর্যন্ত করেছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ করবা না,বড় গুনাহ। ’’

শফি হুজুর কোথায় কখন এই বক্তব্য দিয়েছেন তা কেউ জানে না। আল্লামা শফি কমপক্ষে গত তিন বছর যাবত বহুল আলোচিত ব্যক্তিত্ব। উনি একটা ওয়াজ করলেন আর নারীদের অবমাননা করে বক্তব্য দিলেন অথচ সেটা দেশের কেনো সংবাদ মাধ্যমে ‘নিউজ’ হলো না। এটাকি বিশ্বাস করা যায়? দেশের এতোগুলো মিডিয়ার সাংবাদিককে ফাঁকি দিয়ে তিনি এই বক্তব্য দিয়ে বেঁচে গেলেন কীভাবে? তাছাড়া এটা এতোদিন পর প্রচারিত হলো কেনো? আর ইউটিউব বা ফেসবুকে যা পাওয়া যায় তা কি সব সত্য বলে বিশ্বাস করা যায়? এসব স্থানে কত বড় বড় স্টারকে ব্যক্তিত্বকে সেলিব্রেটিকে কেটে সেঁটে কত নোংরা এবং অশ্লীলভাবে  প্রচার করা হয় তাতো ব্যবহারকারীদের জানা। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিষয়কে কি সবসময় তথ্য নির্ভর বলা যায়? এই বক্তব্যগুলিতো তিনি কোনো মিডিয়ায় দেননি। তারপরও এগুলোকে এতো গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্য কী? অনির্ভরযোগ্য উৎসে পাওয়া একটি ওয়াজের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমসমূহ নারী জাতিকে সম্মানিত করলো না শফি হুজুরকে বাঁশ দিলো কেনোটাই মাপা যাচ্ছে না। বিটিভিতে রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের পর একটা বিশেষ টকশো দেখানো হয় কেবল আল্লামা শফির এই বক্তব্যের নোংরা ঘেটে বের করার জন্য। এতে ‘নারীরা তেঁতুলের মতো’ এই সত্যটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় লাভ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু টিভি টকশোতে নয় পত্রিকায় নয় শফির এই বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদেও কঠোর সমালোচনা হয়। গত ১৪ই জুলাই জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য বেবী মওদুদ হেফাজতের আমির আল্লামা শফীর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘আল্লামা শফীর এই বক্তব্য নারীর অধিকার ও স্বাধীনতাবিরোধী। তিনি কী নারীদের ঘৃণ্য ও পশু বলে মনে করেন? তার মাকেও কী তিনি ঘৃণ্য বলে মনে করেন? তিনি যখন হজ্ব ও ওমরাহ করতে যান, সেখানে তো নারীদের দেখেন, তখন কি তার জিভে জল আসে?’’ কত বড় কথা! কিসের সাথে হজ্বের তুলনা? এই কথায় কি ধর্মের প্রতি অবমাননা করা হয়নি? বিতর্কে অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘‘নারী সমাজের অপমানের প্রতিবাদ করা একজন নারী হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব। আল্লামা শফী ধর্ম সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। কিন্তু আল্লামা মানে আল্লাহ নয়, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ধর্মের নামে নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর কথা বলেছেন। উনি গা ঘিন ঘিন করা বক্তব্য দিয়েছেন। বেশিণ নারীদের দিকে তাকিয়ে থাকলে আহমদ শফীর কী হয়, তা আমি অনুমান করতে চাই না। তার বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে, কেউ আমার গায়ে বমি করে দিয়েছে।’’ আবার ১৬ই জুলাই সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিএনপি নেত্রী কীভাবে ওনাকে সমর্থন করেন? উনি যদি মাওলানা শফীর তেঁতুল হতে চান। তাহলে আমার কিছু বলার নেই।’’ এসব বক্তব্যের পর আমাদেরও কিছুই বলার নেই। দেখা যাচ্ছে আল্লামা শফির চাইতেও একশ’গুণ অশ্লীল ভাষায় ‘তথাকথিত প্রতিবাদ’ জানিয়েছেন মাননীয় মন্ত্রী-এমপিরা। বক্তব্যগুলির মধ্যে যে রাজনৈতিক জিদ জড়িত তা বলাই বাহুল্য। অথচ যিনি প্রকৃত নারীবাদী সেই তসলিমা নাসরিন গত ১৬ জুলাই ‘মুক্তচিন্তা’ নামের একটি ব্লগে শফির বক্তব্যে তার প্রতিক্রিয়া জানান অত্যন্ত ভদ্রভাবে এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে। তিনি লিখেন-‘‘তবে আল্লামা যা বলেছে, তা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের মনের কথা। অধিকাংশ লোকই মেয়েদের তেঁতুলই ভাবে। কেন, কত পুরুষ-কবি মেয়েদের কত ফুল-ফলের সঙ্গে তুলনা করেছে, পড়োনি? কমলা, ডালিম, আপেল, পেয়ারা, আনারস, গোলাপ, বেলি আরও কত কিছু বলে ডেকেছে মেয়েদের শরীরের নানা অংশকে। কেবল তেঁতুল বললেই রাগ হয়? তেঁতুল খুব সস্তা ফল বলে? দামী ফলের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো এত রাগ হতো না। শুধু ফুল ফল! সবজিও তো আনা হয়েছে তুলনায়। পটলচেরা চোখ! কেন আল্লামাকে নিন্দা মন্দ করছো?’’ ব্লগারদের লেখা যখন ‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ করলো তখন মিডিয়ার টকশোওয়ালারা প্রশ্ন করলো- এটা যদি সত্যিই ব্লগে লিখা হতো তাহলে এতোদিন প্রচারিত হয়নি কেনো? তাদের আরো মন্তব্য ছিলো এই রকম- কোথাকার কোন ব্লগার কী লিখলো তা না হয় বড়জোর এক-দুইশ’ পাঠক জানার সুযোগ ছিলো, কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত করে তা দেশের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত দেয়া হয়েছে। তাহলে আজকে কেনো একথা বলা হচ্ছে না, শফি হুজুর কোথায় কখন কোনো এক পাড়া গাঁয়ে কীসব মন্তব্য করেছে তা জানতো দুইশ’ জন। কিন্তু সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন মিডিয়া এটাকে দিনের পর দিন ‘প্রচার-প্রপাগান্ডা’ দিয়ে জানার সুযোগ দিলো দেশের কোটি কোটি নারী-পুরুষ-শিশুকে। তাহলে এই অশ্লীলতায় ব্যাপক প্রচারে কার ভূমিকা বেশী? শফি হুজুর না মিডিয়া?

ইতোপূর্বে অসংখ্য কবি সাহিত্যিক নারীদের অশ্লীল তুলনা বা উপমা দিয়েছেন কবিতায়-গানে। জীবননান্দ দাশের কবিতায় শুনুন নারীর তুলনা-‘‘এই পৃথিবীর ভালো পরিচিত রোদের মতন তোমার শরীর / তুমি জল, তুমি ঢেউ, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন তোমার দেহের বেগ/ডালিম ফুলের মতো ঠোঁটে যার / রাঙা আপেলের মতো লাল যার গাল’’। শামসুর রাহমানের কবিতায় শুনুন নারীর তুলনা ‘‘আমার মুঠোর ভেতর তোমার স্তন পায়রার মতো ছটফট করে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য / তোমার শরীর তখন বরফ- গলা নদী  ।’’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় ‘‘বুক ভরা মধু বঙ্গের বধু জল লয়ে যায় ঘরে’’। আজ থেকে বহুকাল আগে ‘হৈমন্তী’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ নারী সম্পর্কে যে কঠিন অশ্লীল কথা লিখেছেন তা কি আমাদের দিদিমনিদের পড়া হয়নি? ‘‘আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদবেগ থাকে না। নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয় স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে। অবস্থা যেমনি ও বয়স যতই হউক স্ত্রীর অভাব ঘটিবামাত্র তাহা পূরণ করিয়া লইতে তাহার কোনো দ্বিধা থাকে না। আমার এ লেখা যদি টেকস্টবুক কমিটির অনুমোদিত হইবার কোনো আশঙ্কা থাকিত তবে সাবধান হইতাম।’’ কী জঘণ্য উপমা। বাঘে মাংস খাওয়ার সাথে নারীর দেহ উপভোগ করার তুলনা! কিন্তু এই অশ্লীল গল্পটি আমাদের দেশে ‘ইন্টারমেডিয়েট কাশে’ পাঠ্য রয়েছে। আমাদের দিদিমনিরা ‘হৈমন্তী’ গল্পটির এই উপমায় লজ্জিত হননি কিংবা কেনো এটি পাঠ্য করা হয়েছে তার প্রতিবাদও করেননি। এমনিভাবে নারী দেহের প্রতিটা অঙ্গের নোংরা উপমায় ভরপুর হাজার হাজার গান-কবিতা রয়েছে। যা মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে ব্যাপক সম্মানের সাথে। তাতে আমাদের দিদিমনিরা কখনো অপমানিত হতে দেখা যায়নি। শুধু ‘নারী তুঁতুলের মতো’ এই একটি তুলনা আজ অশ্লীলতার দোষে দুষ্ট হলো। আর দিদিমনিরা প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে দেওয়ায় পুরো ব্যাপারটির মধ্যে যে বিশেষ  ‘মতলব’ কাজ করছে তা এখন আর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। শত নোংরা উপমা দিলেও দাড়িওয়ালা রবীন্দ্রনাথকে দিদিমনিদের খুব পছন্দ কিন্তু দাড়িওয়ালা শফি হুজুরকে পছন্দ না। মূলত হুজুরদের প্রতি নারীদের রাগের প্রধান কারণ হচ্ছে হুজুররা নারীদের  বেহায়াপনা পছন্দ করে না। একটা গল্প বলে শেষ করছি। এক মহিলা ৪০তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গেলেন। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার। ৩০তলার জানালা দিয়ে এক আমেরিকান লেখক হাত বাড়িয়ে তাকে রক্ষা করলেন। মহিলাটি তাকে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ধন্যবাদ জানালো। কিন্তু লোকটি মহিলাটিকে বিছানায় চাইলেন। মহিলাটি প্রস্তাব শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে গালি দিতে লাগলো। লোকটি মহিলাটিকে আবার জানালা দিয়ে ফেলে দিলো। আবার বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার। এবার ২০তলার জানালা দিয়ে এক ভারতীয় কবি তাকে বাঁচালো। এখানেও একই ঘটনা ঘটলো। এবার মহিলাটি নীচে পড়তে পড়তে সিদ্ধান্ত নিলো- মরে যাওয়ার চাইতে এবার যে আমাকে বাঁচাবে তাকে নিয়ে বিছানায় যাবো। এবার ১০তলার জানালা দিয়ে এক বাংলাদেশী হুজুর তাকে বাঁচালো। মহিলাটি সরাসরি হুজুরকে বিছানায় যেতে আমন্ত্রণ জানালো। হুজুর একথা শুনে মহিলাটিকে কোলে তুলে ‘আসতাগফিরুল্লাহ্’ বলে নীচে ফেলে দিলেন।  -হারুনুর রশিদ আরজু, লেখক ঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার এবং নজরুল গবেষক। তারিখ ঃ ০৬-০৮-২০১৩ইং।