টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

নাফ নদীতে ৩০ বাউন্ডারি পয়েন্ট প্রটোকল, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন আজ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৭৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমানায় নাফ নদী অংশে নতুন করে বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কার (বিআরএমএস)
নির্মাণ হতে যাচ্ছে। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে ‘সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকল’ স্বাক্ষরের একটি প্রস্তাব আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠছে। বেলা সাড়ে ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে শুরু হওয়া এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ- মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমানার নাফ নদী অংশে বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কার নির্মাণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত করা খসড়া সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকল উভয় দেশের প্রতিভূদের দিয়ে স্বাক্ষরের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৪-৬৫ সালে সাবেক পাকিস্তান ও বার্মা হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের মাধ্যমে নাফ নদীর গভীরতম চ্যানেল বরাবর ৩০টি বাউন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করে নাফ নদীর অংশের পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক সীমানায় স্থির সীমানা নির্ধারণ করে। বাউন্ডারি পয়েন্টগুলো সহজে শনাক্ত করার জন্য নাফ নদীর উভয় পাশে ৪২টি বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কার (নির্দিষ্ট ডিজাইনের পিলার) স্থাপন করা হয়। পরে দুই দেশ যৌথভাবে ৩০টি বাউন্ডারি পয়েন্ট এবং বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কারগুলো সংকলন করে নাফ নদী চার্ট ১, ২ ও ৩ তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ২৮শে এপ্রিল পাকিস্তান ও বার্মার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথভাবে নাফ নদী অংশে স্থির সীমানার কারিগরি বিষয়ের উপর রেঙ্গুনে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করেন। ওই প্রটোকলের শর্ত অনুযায়ী ১৯৬৬ সালের ৯ই মে দুই দেশের সরকার প্রধানরা স্থির সীমানা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার সার সংক্ষেপে বলেছে, ১৯৬৬ সালে স্থাপিত কিছু কিছু রেফারেন্স মার্কার পিলার সময়ের বিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের যৌথ জরিপ দল আন্তর্জাতিক সীমানায় নাফ নদী অংশের ক্ষতিগ্রস্ত রেফারেন্স পিলারগুলো সংস্কার, পুনঃনির্মাণ এবং নতুন স্থানে নির্মাণ করে। যৌথ পিলার নির্মাণ সংক্রান্ত জরিপ দলিল প্রথম সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকল হিসেবে ১৯৮০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর সাবেক রেঙ্গুনে দুই দেশের প্রতিভূরা স্বাক্ষর করেন। এ সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকল ১৯৮০ ছিল কার্যত ১৯৬৬ সালের দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের একটি অংশ। ওদিকে ২০০৪- ২০০৫ সালে যৌথ জরিপে সরকার দেখতে পায়, কিছু কিছু বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কার নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমানায় নাফ নদী অংশে ক্ষতিগ্রস্ত রেফারেন্স মার্কার পিলারগুলো দুই দেশের যৌথ জরিপ দল ২০০৪-২০০৫ সালে পুনরায় সংস্কার, পুনঃনির্মাণ এবং নতুন স্থানে নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে জরিপ দল ১৯৬৬ সালে নাফ নদী সীমানা সংক্রান্ত নাফ নদী চার্ট ১, ২ এবং ৩ তে বাউন্ডারি রেফারেন্স মার্কার কো-অর্ডিনেটস নতুনভাবে প্লট করেন এবং যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যৌথ পিলার নির্মাণ সংক্রান্ত জরিপ দলিল দুই দেশের প্রতিভূদের দিয়ে স্বাক্ষর করার জন্য সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে। এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্যই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT