হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ধর্ম ও দর্শনপ্রচ্ছদ

ধর্মে দলবাজি কাদের কারসাজি

জামাল আস-সাবেত::
শপথ নিই, আমরা আর একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করব না। এ বিষয়ে একটা বৈঠক করি। কোরআন-হাদিস সামনে রেখে ঐক্যে সমবেত হই।
আমরা তো একই লক্ষ্যের সৈনিক, একই প্রভুর গোলাম, একই নবীর উম্মত, একই কোরআন-হাদিসের ছাত্র তাই না?
যে যা জামা গায়ে দিক, যে যা টুপি মাথায় পরুক, যে যা মাজহাবের তাক্বলিদ করার করুক। চলুন না, নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করি; চলুন না, ভিদাভেদ ভুলে একই কথার কেতন ওড়াই। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত লালনকারীরা একই কালেমার নিচে একমত হই।

দলবাজির ঢোল আর না পিটাই। অনেক তো হল। অনেকটা দূর তো চলে এসেছি। পেছন ফিরে একটু তাকিয়ে দেখুন তো, এই অতিরিক্ত দলবাজি করে অর্জন কতটুকু হয়েছে আর বিসর্জন কতটুকু দিয়েছি! চলুন না আজই, হিসাবটা কষে নিই। কী পারবেন না? এটা কি খুব শক্ত কাজ?

আপনি তো জান্নাতে যাওয়ার জন্য জীবনের সুখগুলো বিসর্জন দেয়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন। আপনি তো উম্মাহর শান্তির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। আপনার চেষ্টা সাধনা কিসের জন্য তাও তো ঠিক করে ফেলেছেন। এই যে, মাথায় টুপি পরেন, গায়ে আলখাল্লা পরে চলাফেরা করছেন। আপনাকে দেখলেই তো মানুষ শ্রদ্ধার চাদর বিছিয়ে দেয় তাই না?

তাহলে এত কেন দলবাজি? একদলে আসা যায় না?

আপনি যে কথায় কথায় গর্ব করে বলেন, শতকরা নব্বই ভাগ মুসলিম দেশে ইসলামবিরোধী কোনো কাজ সহ্য করা যাবে না।

আসলেই কি আপনি নব্বইভাগে বিশ্বাস রাখেন?

আপনিই তো এই নব্বই ভাগকে বিভক্ত করেছেন। কী জন্য করে রাখছেন, তাও তো আপনার অজানা নয়, কী সুবিধার জন্য করেছেন তাও তো জানেন। সেটা কি ‘ক্ষমতা’ নামের চেয়ার নয়? আপনার নিজস্ব মত প্রতিষ্ঠার জন্য নয়?

একজন কালেমা পড়া মুসলমান সে হয় তো আপনার মতের একটু দ্বিমত, তাই বলে কি তাকে আচ্ছামতো ধোলাই দিতে পারেন আপনি? কথায় কথায় অমুসলিমদের মতো ভাষা তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারেন?

নিজের দলমতই কেবল সহিহ-শুদ্ধ বলে বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছেন, আপনার দলে যুক্ত হলেই যে জান্নাতে যাওয়ার টিকিট কনফার্ম এ অশুদ্ধ চর্চা কোথা থেকে পেলেন?

মানুষকে তো খুব উপদেশ দিয়ে থাকেন যে, সবার প্রতি নমনীয় আচরণ করতে, সদাচরণ করতে, কেউ ভুল করলে তাকে শুধরিয়ে দিতে, ঝগড়াঝাঁটি না করতে, ঘৃণা না করতে অর্থাৎ সবার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে উপদেশ দেন। আচ্ছা, এই আপনিই তো আবার স্টেজের চেয়ারে বসে নিুমানের বক্তব্য দিয়ে থাকেন, আপনারই মুসলিম ভাইকে (আলেম) আচ্ছারকম ভাষায় গালাগাল করেন, তখন কোথায় থাকে আপনার সে ইসলামিক মুখ!

আত্মশোধন কেবল অপর পার্টির জন্য তাই না; নিজের পার্টির জন্যও কিছু রেখে দিন দয়া করে।

কোরআনের আলোয় নিজের দলটার সব ময়লা-আবর্জনাকে দূর করতে কী ভূমিকা নিচ্ছেন।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমি আপনার দল না করলেই আমাকে ট্যারা চোখে দেখা হয় কেন? কী আজিব! বেহেশতে যেতে হলে আপনার দল আমাকে করতেই হবে কেন? আমি কালেমা পড়া একজন মুসলিম এতেও কি আপনার মন স্থির হতে পারে না?

দলবাজি যে মনমানসিকতাকে কতটা নিচে নামিয়ে ফেলে তা স্বচক্ষে না দেখলে বোঝা অসম্ভব। আপনি এদল করবেন তো ওদলের বিরুদ্ধে দিনরাত গিবত করতে থাকবেন। গিবত তখন অজান্তেই আপনার মনে স্থান করে নেবে। অথচ দুটি দলই ইসলামি দল নামে খ্যাত!

গিবতের চর্চা যে কতটা ভয়াবহ তা বাংলাদেশের ইসলামী দলবাজির পটভূমি দেখলেই বুঝা যায়। যার পরিণতি আজকের এই শতধা-বিভক্তির ইসলামী রাজনীতি। এক ঘরের পাঁচ পুরুষ সদস্যের মধ্যে যদি তিনজনই নিজ নিজ দল নিয়ে দাঁড়ায় তখন অবস্থা কী হতে পারে তা কি ভেবে দেখেছেন?

তখন কি সে পরিবারে শান্তি কল্পনা করা যায়? যদিও তারা একই পরিবারের!

কিছু কিছু দল তো আরও নিুতার পরিচয় দিয়ে থাকে। ব্যক্তিকে দাড়ি-টুপি দিয়ে তার জ্ঞানের পরিমাপ করে! প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে জ্ঞানের পরিমাপ করে! দল দিয়ে বেহেশত দোজখ মাপে!

এ রকম অবাস্তব, অন্ধ, অজ্ঞ, নিু, অস্বাভাবিক ধার্মিক সংস্কৃতি থেকে কবে বের হবেন একটু বলবেন কি?

দলবাজিতে যতটা সময় দেন তার চেয়ে একটু বেশি কোরআন গবেষণায় সময় দিন তাহলে দেখবেন, দলবাজি কতটা দূর হয়ে গেছে। মানুষে মানুষে, দলে দলে কতটা বিভক্তি দূর হয়ে গেছে। কতটা কাছাকাছি আসতে পেরেছি আমরা। আসুন, পোশাকের চেয়ে মেধার মূল্যায়ন করি, টুপির চেয়ে মননকে প্রধান্য দিই কোনো ব্যক্তির জীবন নিয়ে অনধিকার চর্চা না করি। তাহলেই শান্তির ধর্মের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.