টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

দেশ ও বিদেশে অবস্থানকারী চিন্তাশীল,দেশপ্রেমিক ব্যক্তিবর্গ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বিষয় : বাংলাদেশ আদর্শ শিক  পরিষদ ফেডারেশন  কর্তৃক শিা মনন্ত্রনালয়ে প্রেরিত প্রস্তাবিত শিা আইন ২০১৩ সম্পর্কে মতামত আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ  প্রসঙ্গে।   জনাব আসসালামু আলাইকুম উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের আলোকে বাংলাদেশ আদর্শ শিক পরিষদ ফেডারেশন  এর প থেকে প্রস্তাবিত শিা আইন ২০১৩ এর উপর মতামত তৈরি করে শিা মনন্ত্রনালয়ে  প্রেরন করা হয়েছে ।॥ প্রেরিত মতামতের কপি এতদসঙ্গে আপনার সমীপে পাঠানো হলো। এই পর্যালোচনা মুলক মতামতটি  পাঠ পূর্বক আপনার আওতাধীন  যথাযথ েেত্র ভুমিকা রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি। ( মোঃ আশরাফুল হক)  জেনারেল সেক্রেটারী       বাংলাদেশ আদর্শ শিক পরিষদ ফেডারেশন ঢাকা।  মোবাইল নং : ০১৭১৫০৫৪৪৬৫ শিক্ষা আইন-১৩ (খসড়া)সম্পর্কে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক পরিষদ ফেডারেশন                                এর  মন্তব্য ও পরামর্শ আইন হবে জনকল্যানের স্বার্থে-তবেই আইনের স্বার্থকতা আর তা যদি হয় জনগণের বৈধ অধিকার ও ক্ষমতাকে অনুচিত নিয়ন্ত্রণ ও হরণ করার লক্ষ্যে তা হবে ক্ষতিকর আইন। শিক্ষা আইন ২০১৩ (ঊফঁপধঃরড়হ অপঃ ২০১৩) এর ধারণাটি বাংলাদেশের জন্য এই প্রথম। ৬৫টি ধারা সম্বলিত এ আইনের খসড়া প্রস্তাবের উপর সরকার মতামত দেয়ার জন্য ২০ দিন সময় বেঁেধ দিয়েছেন, যার মধ্যে ঈদের ছুটির আমেজেই চলে গেছে ১০ দিনেরও বেশি সময়। সরকার বা যে কোন বৈধ কর্তৃপক্ষ যখনই কোন আইন বা বিধি প্রণয়ন করেন- জনকল্যাণই থাকে মূখ্য উদ্দেশ্য।  সরকারের দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের সাধনার ফসল এ শিক্ষা আইনের ওপর অত স্বল্প সময়ে মন্তব্য ও পরামর্শ প্রদান কষ্টসাধ্য বটে। তারপরও উক্ত শিক্ষা আইনের বিষয়ে কিছু পর্যালোচনা পেশ করছি। এ আইনটি  মূলত ড: কুদরত-ই-খুদা, ড: শামসুল হক এবং প্রফেসর কবির চৌধুরী শিক্ষানীতির আলোকেই প্রণীত। সর্বশেষ কবির চৌধুরী শিক্ষানীতি যা সেকুলারইজম ও সোসালাইজমের আদর্শের ভিত্তিতেই প্রণীত হয়েছে। অতএব, বর্তমান শিক্ষা আইনটিকে মূলত দলীয় সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রেখে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তার নিজস্ব দলীয় দর্শন বাস্তবায়নেরই পথ সুগম করার ব্যবস্থা করছে। সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখে বিপরীত আদর্শের ভাবধারায় পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠান হয় বন্ধ, না হয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাঙ্গন থেকে সেকুলারইজম, সমাজতন্ত্র ও বাংগালী জাতীয়তাবাদের বিপরীতে বাংলাদেশী বা ইসলামী আদর্শের চর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। সহজ পঠনে এ মহা বিপদটি দৃষ্টিগোচর কষ্টসাধ্য। কৌশলে সরকার এ কাজটি করতে চায় এই শিক্ষা আইনের মাধ্যমে। এর আপত্তিকর কয়েকটি দিক সংক্ষেপে পেশ করা হলো: ১. শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার কথা বলা হলেও প্রস্তাবনায় শুধু শিক্ষার্থীর মানবিক উন্নয়নের বিধান রাখা হয়েছে। এর অর্থ এ আইন শুধু মানবিক (গবহঃধষ/ সধঃবৎরধষংঃরপ) উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রণীত, নৈতিক বা আধ্যাতিœক (ঝঢ়ৎরঃঁধষরংঃরপ) নয়।  শিক্ষার সকল স্তরে আধুনিক, মানসম্মত, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাদানের প্রত্যয়ের সাথে নৈতিকতা সম্পন্ন কথাটি যুক্ত হয়নি। আধুনিক হওয়ার সাথে নৈতিকতা সম্পন্ন না হলে মনুষ্যত্ব আর পশুত্বের মধ্যে পার্থক্য বেশি থাকে না, যার সাক্ষী সমসাময়িক সমাজ। ২. প্রথম অধ্যায়ের ৬ ধারায় দুপুরের খাবার সরবরাহের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও ডোনারদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত নয়। তা বর্জন করা দরকার। কারণ এতে এক দিকে যেমন শিক্ষাঙ্গনে ডোনারদের অনুচিৎ প্রভাব বলয় সৃষ্টি হবে; তেমনি শিক্ষার্থীর মাঝেও সৃষ্টি হবে হীনমন্যতা ও পর নির্ভরশীলতা। খাদ্য বণ্টনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে সৃষ্টি হতে পার অনৈতিক সম্পর্ক যার প্রমাণ আমাদের সমাজে অপ্রতুল নয়। ৩. ৭ম ধারায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্কুল-মাদরাসা, কিন্ডার গার্টেন নির্বিশেষে অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নের বিধান রাখা হয়েছে। এর অর্থ মাদরাসা থেকে নেয়া নয় বরং স্কুল কলেজে চালু বিষয়সমূহকে মাদরাসায় প্রবেশ ঘটবে। এর ফলে মাদরাসা তার স্বকীয় ইসলামী চরিত্র হারাবে এবং কালক্রমে একাকার হয়ে যাবে- তৈরী হবে “ঐশী” টাইপের শিক্ষার্থী। সরকার নির্ধারিত পাঠ্যসূচীর বাইরে কোন বিষয় পাঠ দান করা যাবে না, এর অর্থ হচ্ছে বর্তমানে চলমান কেজি ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সব নৈতিক ও ধর্মীয় দর্শনের আলোকে প্রণীত বিষয়সমূহ পড়ানো হয় তা শুধু বাদই হবেনা, হবে কঠোর শাস্তি ও জেল-জরিমানা। যা সুশিক্ষার জন্য বিরাট অন্তরায় সৃষ্টি হবে। এবতেদায়ী ও মাদরাসায় সরকার নির্ধারিত ৮ টি বিষয় পড়তে হবে। আর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পড়াবেন ৪-৫টি বিষয়। অত বিশাল সরকারী চাপের ফলে মাদরাসার নিজস্ব বিষয় যেমনি অপ্রতুল, তেমনি তাতে মনোনিবেশ হবে কষ্টকর। এ জাতীয় আইন ইসলাম শিক্ষাকে রুদ্ধ করে ছাড়বে সময়ের ব্যবধানে। ৪. ১০ম ধারায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার পূর্বেই সরকারী অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা রয়েছে এবং তার বিপরীতে কঠোর দন্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ধারাটি আবহমানকাল থেকে চলে আসা ব্যক্তি ও ব্যক্তিসমষ্টি কর্তৃক গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে কি হবে তাও স্পষ্ট নয়। এ ধারণাটি প্রত্যাহার করা একান্তই প্রয়োজন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও ভূমিকা কম নয়। ৫. ধারা ১৪ তে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য একাডেমির (ঘঅচঊ) কথা বলা হয়েছে- এবতেদায়ীর ক্ষেত্রে তা বলা হয়নি। এর সমতা আনয়নের জন্য এর অনুরূপ ন্যাশনাল একাডেমী অব এবতেদায়ী এডুকেশন (ঘঅঅইঊ) নামে একটি একাডেমি করা দরকার। ৬. ধারা ১৫ তে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সাথে চলমান ও অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান নৈতিকমানে উজ্জীবিত শিক্ষকদের কথাটি থাকা প্রয়োজন। তা হলে শিক্ষকনামের অশিক্ষকরা কর্তৃপক্ষের আসনে চেপে বসতে পারবে না। ৭. ধারা ২০ নবম ও দশম শ্রেণিকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সাথে একীভূত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এমপিও/নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্য সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। এক্ষেত্রে কারো মর্যাদা বা পদবী যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ডিগ্রি ও অনার্স কলেজের একীভূত করণের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি নজরে রাখতে হবে। ৮. ধারা একুশে (২১) অভিন্ন শিক্ষার নামে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের নামে স্কুল-কলেজের প্রশ্নপত্র মাদরাসার জন্যও কার্যকর হবে- মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ৭/৮টি অভিন্ন বিষয়ে পড়বে ও পরীক্ষা দেবে কিন্তু মাদরাসার কোন বিষয় স্কুল-কলেজে নেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই- এটা যেমন অভিন্নতা, গণমুখী শিক্ষা হলেও ৯০ শতাংশ গণমানুষের বিশ্বাসের প্রতিধ্বনিমূলক শিক্ষা কি সাধারণ শিক্ষায় স্থান পেয়েছে? বাংগালী সংস্কৃতির সংজ্ঞা কোথাও দেয়া হয়নি। তদুপরী এনসিটিবির পাঠ্যবই প্রণয়নের ও অনুমোদনের  ব্যাপক ক্ষমতা অর্পনের ফলে- সাহিত্য সাধনা ও প্রকাশনা শিল্প  ব্যাপক ধ্বংসের মুখোমুখী হয়ে পড়বে। ৯. ধারা ২২ এ গধফৎধংযধ ঊফঁপধঃরড়হ ঙৎফরহধহপব ১৯৭৮ এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথা  বলা হলেও এর কার্যকরী পদক্ষেপের ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। দাখিল-আলিমের জন্য ৫টি সাধারণ বিষয়ের উল্লেখ করে দিয়ে ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন করে বিষয় নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত নয়। এতে কাওমী মাদরাসাকে যুগপোযোগী করার কথা বলা হয়েছে। তাহলে কি এখানেও সেকুলারইজম, সোসালইজম, বাংগালী সংস্কৃতি আর ললিতকলার অনুপ্রবেশ ঘটবে? যাই করা হোক এ ক্ষেত্রে কাওমী মাদরাসার স্বকীয়তার প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। ১০. ২৩ ধারায় মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের কথা বলা হয়েছে।, ইংলিশ মিডিয়ামে বাংলাদেশ স্টাডিজ ও বাংলা পঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে চলমান প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধিটি যেন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে- অনুরূপভাবে ঙ ষবাবষ- অ ষবাবষ এর জন্য “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা” বিষয় অর্ন্তভুক্ত করা দরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। ১১. ধারা ২৫ এ সৃজনশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্রীড়াকে আকর্ষণীয় করার জন্য বিভিন্ন মুখী কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে। এতে ধর্ম ও নৈতিকতা বিষয়ক কার্যক্রমের উল্লেখ নেই। গণমানুষের অনুভূতির সাথে তা সংগতিপূর্ণ নয়- অতএব, এক্ষেত্রে কিরাত, আযান, ইসলামী গান ও নৈতিকতা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান অর্ন্তভুক্ত হওয়া প্রয়োজন । ১২. উচ্চশিক্ষায় ৩২ ধারায় ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। তা ভাল- একই সাথে ১০০ নম্বরের  “ধর্ম ও নৈতিকতা” বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থা থাকা দরকার। এতে করে সমাজের সর্বোচ্চ শিক্ষিতরা কিছুটা হলেও ধর্মীয় ও নৈতিক জ্ঞানার্জনের সুযোগ পাবে। ১৩. ৩৩ ধারায় মাধ্যমিক/সমমানের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত থাকবেÑ বলা হয়েছে বটে- তবে এক্ষেত্রে মাধ্যমিকের সাথে মাদরাসার দাখিল উত্তীর্ণগণ ¯œাতক পর্যায়ে সকল বিষয়ে ভর্তির  যোগ্য বলে বিবেচিত হবে- তা উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। কারণ ইতোমধ্যেই মাদরাসার শিক্ষার্থীগণ বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় একটি করে ফাজিল / কামিল সরকারী মাদরাসা স্থাপন প্রয়োজন। ১৪. ধারা ৩৫ এ মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষাদানের লক্ষ্যে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে গবেষণা পরিচালনায় সরকার উৎসাহ দেবেন তা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান ভিত্তিক না হয়ে “মাদরাসা শিক্ষার মাধ্যমে ইসলামী স্কলার তৈরীর লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক উপায়ে গবেষণা পরিচালনায় উৎসাহ দেয়া হবে তা বলা দরকার। কারণ প্রচলিত বিজ্ঞান ইসলামের অনেক মৌলিক বিষয়কেই অস্বীকার করে থাকে। ১৫. ধারা ৪০ এ আইন শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কালক্রমে দু’বছরের এল এল বি কোর্স বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনার দাবীবদার। কারণ অনেক অবসরপ্রাপ্তরাও এ কোর্সে অংশ নিতে পারে তার ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয় । বর্তমানে আদালতে প্রচলিত ব্যক্তিগত আইন (চবৎংড়হধষ ষধ)ি পরিচালিত হয়ে আসছে। ইসলামী আইনের আলোকে যদিও তা ত্রুটিযুক্ত। এ ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের ও তুলনামূলক আইনের বিশেষজ্ঞ তৈরীর লক্ষ্যে ইসলামী আইনের মৌলিক বিষয়গুলো সিলেবাসযুক্ত করা দরকার। ১৬. ৪৬ ধারায় ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে শিক্ষার্থীর সৎসাহস ও দেশ প্রেম বিষয়ক পাঠ্যসূচি অর্ন্তভুক্ত করা হবে বলা হয়েছে। বিষয়টি এখানে আরও অন্তর্ভুক্ত হওয়া দরকার- তা হলো সকল স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য সৎ গুণাবলীর, সৎ সাহসের সাথে সততা, ন্যায়পরায়নতা, আমানতদারিতা, পরকালীন জবাবদিহিতা, প্রতিশ্রুতি পালন প্রভৃতি বিষয় উল্লেখ থাকা দরকার। ১৭. নোট বই গাইড বই, প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বন্ধের প্রস্তাবটি ভাল হলেও এর কারণ উদ্ঘাটন না করে শিক্ষকদের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন না করে এবং শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি এডুকেশন নিশ্চত না করে এ পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হবে না। এতে বিপরীত ফল হতে পারে। ১৮. ধারা ৫৮ তে ঝ.ঝ.ঈ এবং ঐ.ঝ.ঈ পাসের হার ৭০% এবং শিক্ষার্থীর হার ২৫ এর নীচে থাকা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী বছরে- পর পর ২ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলা হয়েছে। প্রথমত: এখানে পাশের হারের চেয়ে কোয়ালিটি এডুকেশনের প্রতি দৃষ্টি দেয়া দরকার। দ্বিতীয়ত: শিক্ষার্থীদের হার মাদরাসা ও স্কুল একই হওয়া ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাশের হার ৪০% এবং মাদরাসায় ন্যূনতম ১৫ জন ছাত্র হওয়া থাকা এবং দু’বছরের স্থলে তিন বছর করা উচিৎ হবে। এছাড়া ধারা ৪৭ এ জেন্ডার ও প্রজনন শিক্ষা, অধিক মহিয়সী নারী বিষয়টি পুন:বিবেচনা করার দরকার। ৪৮ এ ক্রীড়ায় নারী পুরুষের সংমিশ্রণ ও ক্রীড়ায় পোশাকের ধর্মীয় ও নৈতিকতার বিষয় এবং ৫৭ ধারা মতে মাদরাসার জন্য ভিন্ন থাকা দরকার। ৫৮ তে বর্ণিত রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধীদের স্থলে শুধু রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলা বিরোধী কথা থাকা বাঞ্চনীয়। শেষ কথা: দেশবাসীর প্রত্যাশা সরকার জনগণের জন্য-জনকল্যাণেই কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। সরকারের বিবেচনায় প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনটিও এ বিবেচনায় প্রণীত বলে  সরকারের সকল কর্মই যে সকলের জন্য উপযোগী হবে তা বলা যাবে না। তেমনি প্রস্তাবিত আইনটিতেও দেশের ৯০% জনমানুষের বিশ্বাস ও ধর্মের অনেক বিষয়ে সাংঘর্ষিক এবং তা বাস্তবায়নে এ সংঘর্ষ বাস্তবরূপ নিতে পারে। ৯০% মানুষের অস্তিত্ব আছে বলেই আমরা স্বাধীন জাতি ও স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এ ৯০% মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মানসিক দৈহিক ও আধ্যাতিœক উন্নয়ন চায়- কিন্তু প্রস্তাবিত শিক্ষায় এর কোন ধারণাই নেই, ফলে এ শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা কালক্রমে পরকাল বিমুখী, ভোগবাদী জীবনে (গধঃবৎধষরংঃরপ) অভ্যস্থ হয়ে পড়বে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ও পরিচালনায় সরকারী অনুমোদনের বাধ্যবাধকতায় কালো টাকার ছড়াছড়ি বাড়বে এবং ভোগবাদী দর্শনের বিপরীত নৈতিক এবং ইসলাম শিক্ষা বিষয়ক অধ্যয়ন লোপ পাবে বলে মনে হয়। শত শত বছরের আন্দোলনের পরও একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা শিক্ষার্থীরা আজও পায়নি। অথচ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি-কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার কথা বলা হেেছ। ক্রীড়ার উন্নতি হোক, শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হোক নির্বোধ ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না। আপত্তি হয়, যদি সে শিক্ষাকে করা হয় ধর্ম ও নৈতিকতামুক্ত এবং শিক্ষা বিস্তার ও সম্প্রসারণ যদি হয় বাধাগ্রস্থ। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৩ এর ক্ষেত্রেও এ আপত্তি বিদ্যমান বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। আমরা মনে করি ৯০% মানুষের ধর্ম বিশ্বাস বাঁচলে দেশ ও দেশের স্বাধীন স্বত্ত্বা বজায় থাকবে। স্বাধীন স্বত্ত্বা থাকলেই থাকবে স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থা। এ দীর্ঘ মেয়াদী বাস্তবতাকে সামনে রেখে শিক্ষা আইন সহ যে কোন আইন প্রণীত হবে এটাই সচেতন জনমানুষের প্রত্যাশা। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত সরকার বর্তমান ৯০% মুসলিম জনমানুষের  এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখলে তা যেমন হবে তাদের জন্য কল্যাণকর- তেমনি তা দেশবাসী সকলের।

 

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT