হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপর্যটনপ্রচ্ছদ

দেশের রতœগর্ভা সোনাদিয়া দ্বীপ

মোহাম্মদ সিরাজুল হক সিরাজ, মহেশখালী = বাংলাদেশের রতœগর্ভা মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ। পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞ ও দার্শনীক মহলদের সূত্রে ও সরজমিনে প্রত্যক্ষ করে দেখা যায় যে, বিগত মুঘল আমল, ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল, বর্তমান বাংলাদেশ শাসনে সরজমিনে দেখা যায়, সাবেক চট্টগ্রাম জিলা এখন বর্তমানে কক্সবাজার জেলাধীন মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগরের বুকে ও পৃথিবীর সমস্থ সাগরের মূল নাহার, মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সোনাদিয়া দ্বীপ। এই দ্বীপে বহু অলিকেরাম, সাধক, দরবেশদের পূণ্য ভূমি এই সোনাদিয়ার চর। বাংলাদেশের মানচিত্রে যে বঙ্গোপসাগর রয়েছে পৃথিবীর জরিপ ও দেশের অসংখ্যবার জরিপে দেখা যায়, মূল সাগরের হৃদপিন্ডের ভিতরে রহিয়াছে এই সোনাদিয়ার চর। সোনাদিয়ার চরে সেখানে গভীর সমুদ্র বন্দরের নকশা হয়েছে ওখানের পানিগুলি নীল সবুজ। স্থানীয় মহেশখালীর ভাষাতে বলে স্থানটির নাম বেলেকরদ্বিয়ার চর। এই বেলেকরদ্বিয়াতে জোয়ারে অসীম পানি হয়ে থাকে। আবার ভাটা হলে ১২৫ বাম পানি সব সময় থাকে। ১ বাম অর্থ হলো সাড়ে তিন হাত। সেই হিসাবে ১২৫ বাম পানি সব সময় সকল ঋতুতেই থাকে। পৃথিবীর সর্ব বৃহত্তম মাদার জাহাজগুলি পূর্ণ ভাটা হলেও এক তিল পরিমাণও অসুবিধা নাই। কারণ গভীর গভীরতা এই সোনাদিয়া নকশা করা স্থানটি। এই সোনাদিয়ার গভীর সমুদ্র বন্দরের চিহ্নিত নকশাতে ও বাহিরে যে মাটিগুলি আছে কখনো ভরাট বা ভাঙ্গিয়া যাওয়ার কোন ধরনের কানুন নাই। যে কারণে বলতে গেলে সারা বঙ্গোপসাগরের কোথাও কোথাও পানি কম, আবার কোথাও কোথাও বেশী। যেমন সাবেক বার্মা বর্তমানে মিয়ানমার রাষ্ট্রটি থেকে বঙ্গোপসাগরে মহিসোপান থেকে পানির গভীরতাটা একটু বেশী। যত পশ্চিম-উত্তরে বা পশ্চিম-দক্ষিণে পানি কম। যেমন মিয়ানমার থেকে মহিসোপান হয়ে বাংলাদেশের সাগর মানচিত্রে সাগর জরীপে দেখা যায় যে, ভারতের রায়মঙ্গল খারি নামক স্থান পর্যন্ত ভিতরের পানি একই রংয়ের, কিন্তু জোয়ারে বা ভাটাটে কিছুটা রং বেরংয়ের হয়। অর্ধেক জোয়ার বা অর্ধেক ভাটা হলে আবার মূল পানির রং একই পাওয়া যায়। কিন্তু এই বঙ্গোপসাগরের মূল নাহারের মূল কেন্দ্রের পানি ২৪ ঘন্টায় বা দিনে-রাত্রিতে একই রংয়ের থাকে তাহা হইল বঙ্গোপসাগরের বুকে সোনা দিয়ার চরে যেখানে সমুদ্র বন্দনের চিহ্নিত নকশা হয়েছে সেখানে। সোনাদিয়ার চরের যেখানে সমুদ্র বন্দর হচ্ছে যে নকশা করেছে তাহা পৃথিবীর প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলির জরীপেও আছে। এশিয়া মহাদেশে বাংলাদেশ ছাড়াও অসংখ্য দেশে রহিয়াছে। তাদের সাগরেরও গভীরতা আছে। আবার গভীরতা কমও আছে। কিন্তু গভীরতা সম্পূর্ণ সাগর বক্ষের মাটিও ভাল-মন্দ আছে। কিন্তু সেখানে ভরাট হওয়ার সম্ভাবনা আছে বিধায় জরীপ করা হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। তাদের জরীপেও চিহ্নিত ট্রেস ম্যাপ করা জায়গাটির নামও এই সোনাদিয়া। কিন্তু কোটি কোটি ডলার খরচ করে সমুদ্র বন্দর করলে কি হবে। যদি সাইক্লোন, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস, মাটি ভরাট হয়ে যায় বিভিন্ন দিক চিন্তা ভাবনা করে গভীর সমুদ্র বন্দর করা হচ্ছে এই সোনাদিয়ার চরে। কারণ যত সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, দূর্যোগ হলেও তিল পরিমাণও এধার ওধার হবে না। কারণ এই এলাকার মাটি, পানি, বাতাস হলো পৃথিবীর বা বাংলাদেশের অন্য স্থানের মত নয়। বাংলাদেশের অন্য স্থানে গভীর সমুদ্র বন্দর করার মত জায়গাও নাই, করলেও তাহা সম্ভাবনা কম। কারণ বাংলাদেশের অন্য কোথাও সমুদ্র বন্দর করার মত বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রের অর্থ দিয়েও হবে না। তার কারণ ৭০০ কিলোমিটার সমুদ্র খনন করে সমুদ্র বন্দর করা যায় না। এরপরও ভরাট হওয়ার বহু কারণ রয়েছে। যেমন জোয়ার ভাটার কারণ, উপরের পানি মাটি সহ নিচের দিকে নামিয়ে যাওয়ার, জোয়ারের পানি গভীরতা কম হওয়ায় তরঙ্গের আঘাতে দুই কুল ভাঙ্গিয়া যাওয়ার প্রবনতা বিদ্যমান। যে কারণে পৃথিবীর সমস্থ অর্থ, শক্তি দিয়েও চর ভরাট, ভাঙ্গন থামানো যাবে না। সোনাদিয়া হলো সৃষ্টির সেরা আল্লাহর দান, বাংলাদেশের রতœগর্ভা। বাংলাদেশের গর্বের ধন। আল্লাহর বড় নেয়ামত। এই সাগরে রয়েছে খনিজ সম্পদ, যে সম্পদ শুধু নিজ দেশের দেশ প্রেমিক কারীগরেরই অভাব। এই খনিজ সম্পদ পেলে আমরাও সৌদিআরব, আরব আমিরাতের মত হব। এই সোনাদিয়া হলো পৃথিবীর সেরা সমুদ্র বন্দর করার মত একমাত্র স্থান। অন্যগুলি ভুলে ভরা, অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহর প্রকৃতির নেয়ামতে দেশেরই উন্নতি হয়। তবে সততা, সাহস, দেশ প্রেমই আসল উদ্দেশ্য হতে হয়। এই সমুদ্র বন্দর হলে বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর জি-৮ মত দেশ। ইনশাআল্লাহ।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.