হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদস্বাস্থ্য

দেশি ওষুধ চীনে নকল করে আবার দেশে

টেকনাফনিউজ ডেস্ক :: দেশের বিভিন্ন নামি কম্পানির ওষুধ নকল করা হচ্ছে চীনে! দেশের একটি অসাধু চক্র চীনে গিয়ে ক্যান্সার প্রতিষেধকসহ জীবন রক্ষাকারী দামি ওষুধের নমুনা দিয়ে আসে। এরপর সেখানে বাংলাদেশের নামি ব্র্যান্ডের নাম, লোগো, সাইজ, মোড়কসহ সবই হুবহু নকল করা হয়।

স্পর্শকাতর রোগের ওষুধগুলো তৈরি হয় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দিয়ে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কথা বলে আমদানির আড়ালে এসব নকল ওষুধ দেশে নিয়ে আসছে সংঘবদ্ধ চক্র। এরপর পুরান ঢাকার মিটফোর্ডসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। বাজারে বিক্রি করা ৩০০ টাকার ওষুধ নকল করতে জালিয়াতচক্রের খরচ হয় মাত্র ১২ টাকা। নকল ওষুধ আমদানিচক্রের সদস্যদের জবানবন্দি থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এমনই ভয়ংকর তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে চীনে নকল করা ওষুধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তারা হলো রুহুল আমিন ওরফে দুলাল চৌধুরী (৪৬), নিখিল রাজবংশী (৪৪) ও সাঈদ (৪০)। তাঁতীবাজারের একটি গোডাউন থেকে এ সময় ২১ হাজার পাতা ওষুধ এবং তিন লাখ ৬৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবার দেশি ওষুধ বিদেশ থেকে নকল করে আনার তথ্য মিলেছে।

জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে জালিয়াতি করা চক্রটির মূল হোতারা এখনো ধরা পড়েনি। এর সঙ্গে কাস্টমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজন জড়িত বলেও তথ্য মিলেছে। পুরো চক্রটিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার (এএস) মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রায় সময়ই চীনে যাতায়াত করত। সেখানে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী দেশের নামি কম্পানির দামি ওষুধ নকল করে তৈরির অর্ডার দিত। ক্যালসিয়াম ক্লোরাইডসহ নিম্নমানের উপাদান দিয়ে নামি-দামি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করা হতো। এরপর বৈদ্যুতিক সামগ্রী আমদানির আড়ালে কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এসব ওষুধ কনটেইনারে নিয়ে আসত।

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে এমটিএক্স, ক্লোমাইড ও রিভোকন নামের তিন ধরনের নকল ওষুধ পেয়েছি। এসব ওষুধ প্রতি পাতা তৈরি এবং আমদানিতে ব্যয় হতো ১২ টাকা, যা দেশে প্রতি পাতার বাজার মূল্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তারা এজেন্টদের কাছে ৮০-৯০ টাকায় সেগুলো বিক্রি করত। চক্রটি চায়না থেকে নকল ওষুধ এনে একটি গোডাউনে রাখত। এরপর এজেন্টদের মাধ্যমে দেশের বাজারে ছড়িয়ে দিত। জীবন রক্ষাকারী এসব দামি ওষুধ নকলের ফলে মানুষ শেষপর্যায়ে এসেও প্রতারিত হচ্ছে।

সিআইডি কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিনজন মূলত জুয়াড়ি। বিভিন্ন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে গিয়ে তাদের পরিচয়। এরপর পরস্পরের যোগসাজশে চীনে নকল ওষুধ তৈরি করে আমদানির পরিকল্পনা করে। তারা স্বীকার করছে, বেশি লাভের আশায় নকল ওষুধ চীন থেকে তৈরি করে তারা দেশে আনছে। আমরা এর সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওষুধগুলো কোন কোন পয়েন্টে বিক্রি হয় তার বিস্তারিত জানা যাবে।

মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ কাজে যারাই সহযোগিতা করুক না কেন সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওষুধগুলো পরীক্ষার জন্য ওষুধ প্রশাসনের ল্যাবে পাঠানো হবে। ’ এ অভিযানের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত ওষুধের মূল্য প্রায় কোটি টাকারও বেশি বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.