টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান দুলাল বড়–য়া

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চীবর হচ্ছে বৌদ্ধ ভিুগণের পরিধেয় বস্ত্র। যেদিন চীবর দান করা হবে সেদিনের সূর্যোদয় হতে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সুতা কাটা, কাপড় ধোয়া, কাপড় কাটা, সেলাই, রঙ করা, ধৌত করা ও শুকানো ইত্যাদি একসাথে দূরুহ কাজগুলো সম্পাদন করতঃ এবং আরো কিছু কঠিন নিয়ম কানুন পালনের মধ্য দিয়ে এ চীবর দান করতে হয়। তাই চীবর শব্দটির সাথে কঠিন শব্দটি যুক্ত হয়ে এর নামকরণ হয় কঠিন চীবর দান। বর্তমানে অবশ্য বিভিন্ন কোম্পানীর প্রস্তুতকৃত ও সেলাই করা চীবরও গৃহীরা বৌদ্ধ ভিুগণকে দান করে থাকেন।

কঠিন চীবর দান প্রচলনের পূর্বে বৌদ্ধ ভিুগণ শ্মশাণে এবং বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা কাপড় কুড়িয়ে নিয়ে পরিধান করতেন। কিন্তু এ সমস্ত কাপড় অতীব পুরনো, ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় অস্বাস্থ্যকর বিবেচনায় তথাগত বুদ্ধ কর্তৃক চীবর অর্থাৎ নতুন পরিষ্কার স্বাস্থ্যসম্মত বস্ত্র পরিধান করার অনুমতি দেয়া হয়। যে সমস্ত বৌদ্ধ ভিুগণ বিভিন্ন ধর্মীয় আচারাদি পালনের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট বৌদ্ধ বিহারে ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস সম্পন্ন করে থাকেন, তাঁদেরকে গৃহীরা এ কঠিন চীবর দান করে থাকেন। ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস সম্পন্নের পর যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন করা হয়। এ প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন হতে কার্তিকী পূর্ণিমার পূর্ব পর্যন্ত এক মাস সময়ের মধ্যে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের নিয়ম রয়েছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পূনর্জন্ম ও কর্মফলে বিশ্বাসী বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য কঠিন চীবর দানের গুরুত্ত্ব অপরিসীম। পৃথিবীতে যত প্রকার দান আছে তন্মধ্যে কঠিন চীবর দানই হলো সর্বাপো উত্তম বা শ্রেষ্ঠ দান। সকল সঞ্চিত দান পারমী একত্র করলেও একটি মাত্র চীবর দানের সমান পূণ্য হয়না। কঠিন চীবর দানের ফলে অর্জিত পূন্যরাশি জন্ম-জন্মান্তরে প্রবাহিত হয়ে জন্ম-জন্মান্তরে সুফল প্রদান করতঃ নির্বাণ লাভের হেতু উৎপন্ন করে থাকে। তাই একে দানশ্রেষ্ঠ বা দানোত্তম কঠিন চীবর দান বলা হয়।

কঠিন চীবর দানের অসীম পূণ্য ও এর বহুবিধ গুণের কথা মাথায় রেখে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণ অত্যন্ত ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বছরে একবার দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে থাকেন। এদিন বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে-মঙ্গলাচরণ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, প্রভাত ফেরী সহকারে বুদ্ধ পূজা, অষ্ট উপকরণসহ সংঘদান, পূজনীয় ভিুসংঘকে পিন্ডদান, পঞ্চশীল/অষ্টশীল গ্রহণ, কঠিন চীবর দান ও কল্পতরু উৎসর্গ, ফানুস উড্ডয়ন, হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বিশ্বশান্তি ও দেশের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা, বিদর্শন ভাবনা ইত্যাদি। “সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্তু”। “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক”।।

লেখক ঃ গণমাধ্যমকর্মী ও প্রধান সম্পাদক, বৌদ্ধ ধর্মীয় পত্রিকা “বোধিরতœ”           সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, রামু উপজেলা শাখা।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT