হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

থ্রিজিতে ব্যর্থ, ফোরজিতে সফল হবে তো?

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: থ্রিজিতে প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি সেলফোন অপারেটররা। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারায় ব্যর্থ হয়েছে গ্রাহক টানতেও। এ অবস্থায় ডিসেম্বরের মধ্যে ফোরজি সেবা চালুর ঘোষণা এসেছে। চতুর্থ প্রজন্মের এ সেলফোন সেবার মাধ্যমে সাফল্য আশা করছে সরকার ও অপারেটররা। তবে থ্রিজির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফোরজির সাফল্যেও সংশয় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যিকভাবে দেশে থ্রিজি সেবা চালু হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। শুধু লাইসেন্স ও তরঙ্গ বরাদ্দ বাবদ ১০ মেগাহার্টজের জন্য গ্রামীণফোন ব্যয় করেছে প্রায় ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ৫ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গের জন্য ৮১৬ কোটি টাকা করে দিয়েছে অন্য তিন অপারেটর বাংলালিংক এবং রবি ও এয়ারটেল (একীভূত রবি)। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হয়েছে অপারেটরগুলোকে।

সেলফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) তথ্যমতে, তৃতীয় প্রজন্মের এ সেলফোন সেবা দিতে এখন পর্যন্ত অপারেটররা বিনিয়োগ করেছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে তারা আয় করেছে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা।

থ্রিজি চালুর পর পরই ফোরজি চালুর অনুমোদন দেয়া হবে, এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই অপারেটররা থ্রিজিতে এ বিপুল বিনিয়োগ করে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। ডাটাভিত্তিক সেবায় অনেক আগেই নতুন প্রযুক্তি চলে এলেও এখন পর্যন্ত তা চালু করতে না পারায় থ্রিজির এ বিনিয়োগকে অদূরদর্শী বলে মনে করছেন তারা।

সেলফোন অপারেটরদের একাধিক সূত্র বলছে, প্রযুক্তিনিরপেক্ষ সেবাদানের অনুমতি দেয়ার সুযোগ থাকলেও তা না করে উল্টো প্রযুক্তি নির্দিষ্ট করে তরঙ্গের নিলাম আয়োজন করা হয়। এতে বাধ্য হয়েই থ্রিজিতে বিনিয়োগ করতে হয়েছে তাদের। থ্রিজিতে বিনিয়োগ করা অর্থ উঠে আসতে আগামী এক দশকেরও বেশি সময় লাগবে অপারেটরদের।

থ্রিজিতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণকে দায়ী করেন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, থ্রিজি সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এটি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া যায়নি। ডাটাভিত্তিক এ সেবার ব্যাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় হ্যান্ডসেটের অপ্রতুলতা বাধা হিসেবে কাজ করেছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরও এ প্রযুক্তিতে ব্যবহারোপযোগী হ্যান্ডসেটের অভাবে সেবাটির কাঙ্ক্ষিত ব্যাপ্তি ঘটেনি।

টুজি ভয়েসভিত্তিক হলেও থ্রিজির ডাটাভিত্তিক সেবা। কল ট্যারিফ ব্যাপক হারে কমানোর পাশাপাশি হ্যান্ডসেটের দাম কমে আসায় টুজিতে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দেশের সেলফোন অপারেটররা। কিন্তু ডাটাভিত্তিক কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় থ্রিজির ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। দেশে থ্রিজির গ্রাহক এখন সীমিত।

সেলফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সেলফোন সেবার আওতায় রয়েছে ৫৪ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে থ্রিজি ব্যবহারকারী মাত্র ২৪ শতাংশ। ৩ কোটি ৮৪ লাখ ব্যবহারকারী এ সেবাটির আওতায় রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগেই ফোরজি চালু হলেও বাংলাদেশে ডিসেম্বরের মধ্যে সেবাটি চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেশী ভারতেও ফোরজি নামে পরিচিত লং টার্ম ইভোলুশন (এলটিই) চালু হয় ২০১২ সালের এপ্রিলে। ভারতী এয়ারটেল দেশটিতে প্রথম এ সেবা চালু করে। ২০১৪ সালে

এলটিই সেবাদান শুরু করে দেশটির আরেক অপারেটর এয়ারসেল। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে এ প্রযুক্তির সেবা চালু রয়েছে।

থ্রিজিতে সম্ভব না হলেও ফোরজিতে সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী অপারেটররা। টিআইএম নুরুল কবীর এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার যেমন ফোরজি চালু করতে আগ্রহী, অপারেটররাও সেটা চায়। তবে ফোরজি নীতিমালার কিছু বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এগুলো দূর করে নীতিমালাটি ব্যবসাবান্ধব ও গ্রাহকদের জন্য মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার উপযোগী করতে হবে। এর যেসব অসঙ্গতি ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সরকার পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা করছি। সেটা হলে সরকার ও অপারেটরদের জন্য যেমন লাভজনক হবে, তেমনি গ্রাহকদের জন্যও বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করবে ফোরজি।

সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া ফোরজি লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুযায়ী, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ৩ কোটি ডলার, ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের ভিত্তিমূল্য ৩ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তরঙ্গনিরপেক্ষতা দিতে মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য রূপান্তর ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ লাখ ডলার।

ঘোষিত নীতিমালার আওতায় ফোরজিতে সেবার মান উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে তরঙ্গ নিলামের সময় অপারেটররা প্রয়োজনীয় তরঙ্গ কেনেনি। তাই আমি মনে করি, এ তরঙ্গ নিলামের মধ্য দিয়ে যে শুধু ফোরজি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছাবে তা-ই নয়, সেবার মানও উন্নত হবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.