টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

তৃতীয় ওয়ানডে লজ্জা এড়াল ভারত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ১৯৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১৯৮৫ সালের শারজার সুখস্মৃতিই যেন কাল দিলি্লর ফিরোজ শাহ কোটলায় ফিরিয়ে আনলেন ভারতীয় বোলার-ফিল্ডাররা। মরূদ্যানের সেই ম্যাচে ১২৫ রানের পুঁজি নিয়েই অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিল ভারত। আর কোটলায় ১৬৭ রান করেই ‘সুরক্ষিত’ ভারত, যদিও মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচটা নিয়ে যুবরাজ সিংয়ের উল্লাসে বাকিদের ঝাঁপিয়ে পড়া দেখে মনে হতে পারে বুঝি সিরিজই জিতে গেছে ধোনির দল। হতে পারে অবিশ্বাস্য জয় এবং সে জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর আনন্দই ঠিকরে বেরিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের উৎসবে। সিরিজ যাচ্ছে পাকিস্তানেই, ২-১ ব্যবধানে।
ভারতীয় ব্যাটিং এখন পতিত জমিদারের চেয়েও বিবর্ণ। তাই টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দলটির ১৬৭ রানে গুটিয়ে পড়া দেখে কেউ বিস্মিত নন। তবে বিস্ময় জাগিয়েছে একই সঙ্গে দলটির বোলার-ফিল্ডারদের জেগে ওঠা। জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে ৫ ওভারের প্রথম স্পেলেই তিনটি মেডেন কলকাতার শামি আহমেদের! ভুবনেশ্বর কুমারের সুইংয়েও বিষের প্রলেপ। নিজেকে নিয়ে জমে ওঠা যাবতীয় সংশয় মুছে ফেলার জন্য যেন কালকের ম্যাচটিকেই বেছে নিয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের উইকেট শিকার এবং রবীন্দ্র জাদেজার অসাধারণ ইকোনমি রেটকে (১০ ওভারে ১৯ রান) যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। বিরাট কোহলি-সুরেশ রায়না বরাবরই ভালো ফিল্ডার। কাল জানা গেল তেঁতে থাকলে ফিল্ডিং ইউনিট হিসেবে চোখে পড়ার মতোই ভারত। লেগ স্লিপে অজিঙ্কা রাহানে ক্যাচ ফেলার পরও এ প্রশংসাটুকুর দাবিদার ধোনির দল।
এই লেগ স্লিপেই তো প্রায় জেতা ম্যাচটা হারিয়েছে পাকিস্তান। ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়েও জয়ের পথেই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। তাঁর উপস্থিতির কারণে টানা দুটি সেঞ্চুরির আত্মবিশ্বাসে ভরপুর নাসির জামশেদের বিদায়েও খুব বেশি উল্লাস করেনি কোটলার গ্যালারি। কিন্তু অশ্বিনের ফাঁদা পাতে মিসবাহ পা দিতেই যেন চোরাবালিতে হারিয়ে যায় পাকিস্তান। ২০০৭ টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা মনে আছে? বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলা মিসবাহ ভারতকে বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছিলেন স্কুপ খেলতে গিয়ে। আর কাল অশ্বিনকে গ্লান্স করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন লেগ স্লিপে, যে মুহূর্তটির জন্য শুরু থেকে ওখানে রাহানেকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন অশ্বিন।
ধোনির ব্যাট হয়ে আসা আগুনের গোলায় হাতে চোট পেয়ে ওপেন করায় তখনো পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে মজুদ মোহাম্মদ হাফিজ। ক্রিজে উমর আকমলের সঙ্গে শোয়েব মালিক। এঁদের নিয়ে বাকি ৫৫ রান তুলে ফেলা মোটেও কঠিন কাজ নয়। কিন্তু ইশান্ত শর্মার বলটা প্যাডের পেছনে ব্যাট রেখে খেলতে গিয়ে এলবিডাবি্লউ হন শোয়েব মালিক। সেই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা না করে উল্টো আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে দলের চূড়ান্ত বিপদ ডেকে আনেন উমর আকমল। এরপর উজ্জীবিত ভারত আর চাপে ভেঙে পড়া পাকিস্তানকে দেখেছে কোটলা। টি-২০ এর দুনিয়ায় জেতার জন্য ১৬৮ রান করতে গিয়ে কোনো দল রান রেটের চাপে পড়ে_ক্রিকেটের বর্তমান তো বটেই, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও সম্ভবত এমন দৃশ্য আর দেখবে না! অবশ্য ইশান্তের এক ওভারে জোড়া বাউন্ডারি মেরে রান রেটের সেই চাপ কিছুটা কমিয়েছিলেন হাফিজ। সে চাপ আরো কমাতে গিয়েই মিড উইকেটে যুবরাজের হাতে ক্যাচ দেন তিনি, দ্য লাস্ট ওয়ারিয়র।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত : ৪৩.৪ ওভারে ১৬৭/১০ (গম্ভীর ১৫, রাহানে ৪, কোহলি ৭, যুবরাজ ২৩, রায়না ৩১, ধোনি ৩৬, অশ্বিন ০, জাদেজা ২৭, ভুবনেশ্বর ২, ইশান্ত ৫, সামি ০*; আজমল ৫/২৪, ইরফান ২/২৮, জুনায়েদ ১/১৭, গুল ১/৪৫, হাফিজ ১/৪৪)।
পাকিস্তান : ৪৮.৫ ওভারে ১৫৭/১০ (জামশেদ ৩৪, কামরান ০, ইউনুস ৬, মিসবাহ ৩৯, উমর ২৫, মালিক ৫, হাফিজ ২১, গুল ১১, আজমল ১, জুনায়েদ ০, ইরফান ০*; ভুবনেশ্বর ২/৩১, শামি ১/২৩, ইশান্ত ৩/৩৬, অশ্বিন ২/৪৭, জাদেজা ১/১৯)।
ফল : ভারত ১০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মহেন্দ্র সিং ধোনি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT