টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

তামাক প্রতিরোধে আইন আছে, উদ্যোগ নেই

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১২১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

তামাক প্রতিরোধে আইন আছে, উদ্যোগ নেই

বিশ্বে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর ৬ মিলিয়ন (৬০ লক্ষ) লোক মারা যায়। বাংলাদেশেও তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে প্রতিবছর ৫৭,০০০ মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিতন হন। এছাড়া পঙ্গু হন ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ।(বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০০৪)। এখন থেকেই তামাকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা গেলে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮০ লাখে। কিন্তু তামাক নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপগুলো কার্যত ঠিকমতো মেনে চলছে না কিংবা সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বাধা দিচ্ছে দেশের তামাক কোম্পানিগুলো। পয়েন্ট অব সেল কিংবা বিক্রয়


ঢাকা: বিশ্বে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর ৬ মিলিয়ন (৬০ লক্ষ) লোক মারা যায়। বাংলাদেশেও তামাক ব্যবহারের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে প্রতিবছর ৫৭,০০০ মানুষ মৃত্যুর মুখে পতিতন হন। এছাড়া পঙ্গু হন ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ।(বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০০৪)।
এখন থেকেই তামাকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা গেলে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮০ লাখে।
কিন্তু তামাক নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপগুলো কার্যত ঠিকমতো মেনে চলছে না কিংবা সরকারক কেন্দ্রগুলোতে যে কোন ধরণের তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।   রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশজুড়েই তামাকবিরোধী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছে তামাক কোম্পানিগুলো।
দেশী বিদেশি বিভিন্ন তামাক কোম্পানি তাদের ব্রান্ডের সিগারেটের খালি প্যাকেটগুলোকে একত্রিত করে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়ে রাখছে দেশ জুড়ে থাকা খুচরা সিগারেট বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে (পয়েন্ট অব সেল)।অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতোই চলছে এ সবের প্রদর্শনী, যা মূলত আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশে এখন তামাকজাত পণ্যের প্রত্যক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও তামাক কোম্পানিগুলো নানা উপায়ে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে তাদের প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখায়, বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তামাক কোম্পানির অবৈধ বিজ্ঞাপনের কারণে প্রায় শতকরা ৩৮.৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তামাকপণ্যের বিক্রয়স্থলে বিজ্ঞাপন দেখে এবং শতকরা ৩২.১ শতাংশ মানুষ বিক্রয়স্থল ব্যতীত অন্যস্থানে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা দেখে।
এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল বাংলাদেশ তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার চিত্রটি একটি গবেষণায় তুলে ধরে।
শতকরা ৩৮ শতাংশ দোকানে (পয়েন্ট অব সেল) তামাক কোম্পানির শো’কেজ বা বক্স বিদ্যমান, বিভিন্ন তামাক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা শতকরা ৬৮’৮ শতাংশ খুচরা দোকানদারকে বিভিন্ন রকম উপহার দিয়ে থাকেন, শতকরা ২৭’৯ শতাংশ দোকান তামাক কোম্পানি আসবাব বা বিলবোড কিংবা সাইনবোর্ডের মাধ্যমে সাজিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তামাক কোম্পানিগুলোর ব্রান্ডের পরিচিতি ফুটে ওঠে।
শতকরা ১৫ শতাংশ বিক্রয় কর্মী বলেছেন, তাদের দোকানে ভিডিও শো বা ল্যাপটপের মাধ্যমে তামাকের প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৭ ভাগ আয়োজন করেছে দেশের সবচেয়ে বড় বহুজাতিক তামাক কোম্পানিটি।
শতকরা ৬০ শতাংশ দোকানে লিফলেট, শতকরা ৪৮’৫ শতাংশ দোকানে পোস্টার, শতকরা ৭৭.২ শতাংশ দোকানে সিগারেটের একাধিক খালি প্যাকেট একত্র করে সাজিয়ে রাখা হয়। এছাড়া শতকরা ৩২.৩ শতাংশ দোকানে সিগারেটের ডামি প্যাকেট ঝুলানো থাকে।
রাজধানী ঢাকার মালিবাগ থেকে বাংলামটর, মালিবাগ থেকে শান্তিনগর হয়ে কাকরাইল থেকে সেগুনবাগিচা, মালিবাগ থেকে রামপুরা, সদরঘাট, পুরান ঢাকা, বাড্ডা, নর্দ্দা হয়ে বিশ্বরোড, পল্টন থেকে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা, মিরপুর রোড পুরোটা, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, মিরপুর, পল্লবী, কারওয়ানবাজার থেকে হাতিরপুল, বাটা সিগন্যাল, শাহবাগ পুরো রাস্তা ঘুরে দেখা যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে খুচরা সিগারেট বিক্রেতারা ছোট ছোট শোকেজ নিয়ে বসে রয়েছেন।   অথচ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয় বিক্রয় ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রণীত আইনে সিগারেটের বিক্রয়কেন্দ্রে যে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়। এবং এই আইন গত ২ মে থেকে কার্যকর হয়েছে। অথচ, কোথাও এর পক্ষে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।
পয়েন্ট অব সেলে সিগারেটের মোড়ক সাজিয়ে রাখা অবশ্যই একধরনের অপরাধ বলে মনে করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তারেক ইব্রাহীম। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের প্রতিটি স্কুল, কলেজের সামনে এ রকম বক্সগুলো দেখা যায়।
আর খুবই স্বাভাবিক যে, কিশোর তরুণদের সামনে যদি এভাবে লাল, নীল রঙের বিভিন্ন প্যাকেট সাজিয়ে রাখা হয় তাহলে তারা আকৃষ্ট হবেন।
তারেক ইব্রাহীম বলেন, অনেক গবেষণাতেই একটা বিষয় স্পষ্ট যে, যে কোন নেশার শুরুটা হয় সিগারেট দিয়ে এবং কিশোরদের সিগারেট খাওয়া শুরু হয় কৌতুহল থেকেই। এখন আপনি কিশোরদের সামনে লাল, নীল প্যাকেট সাজিয়ে রাখবেন আর তারা সেটা পরখ করবে না, এটা হয় না। তাই আমার দাবি পয়েন্ট অব সেলে সিগারেটের খালি মোড়ক সাজিয়ে রাখা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
পয়েন্ট অব সেলে সিগারেটের খালি মোড়কের বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে ক্যাম্পেইন ফর টোবাক্যো ফ্রি কিডস এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাইফুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মূল ধারার গণমাধ্যমে টোবাক্যোর যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা আছে।
কিন্তু পয়েন্ট অব সেলের এই বিজ্ঞাপন যদি অব্যাহত থাকে তাহলে তাদের মেসেজটা খুব সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।তাহলে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বন্ধের সুফলটা আমরা পাবো না। তাই খুব দ্রুত পয়েন্ট অব সেল অর্থাৎ বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে যে কোন প্রকার বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী বন্ধ করতে হবে।
তাইফুর রহমান আরও বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান আইন খুবই কঠিন। বিক্রয় কেন্দ্রের এ ধরণের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ আছে ওই আইনেও। এখন শুধু প্রয়োজন এর বাস্তবায়ন।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম সুজন এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, পয়েন্ট অব সেলে যে কোন ধরনের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও তামাক কোম্পানিগুলোর প্রভাবে আইন এখানে উপেক্ষিত।
২০০৫ সালের আগে পর্যন্ত তামাক কোম্পানিগুলোকে সরাসরি শাস্তি দেওয়ার কোন সুযোগ ছিল না, কিন্তু বর্তমান আইনে এখন সম্ভব।
পয়েন্ট অব সেলের এই প্রদর্শনী বন্ধ আইন কার্যকরে কাজ করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া তাজনীন। গত ২৭ আগস্ট মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকার সিগারেট বিক্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে খালি মোড়ক উচ্ছেদ করে শোকেজগুলোতে কালো কালির প্রলেপ লাগানোর নির্দেশ দেন তিনি।
সাদিয়া তাজনীন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা কাজ শুরু করেছি, এতোদিন এ বিষয়ে আমি একা কাজ করলেও আরও কয়েকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অতি দ্রুত হয়তো আমরা একটা ফলপ্রসূ অবস্থানে যেতে পারবো।
আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, আইনে তামাক কোম্পানিগুলোকে ১ লক্ষ্য টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন)’ গত ২৯ এপ্রিল পাশ হয়ে ২ মে থেকে কার্যকর আছে।
কিন্তু তারপরও আইনের লঙ্ঘন ঘটেই চলেছে, যেন এসব বিষয় দেখার কেউ নেই। অথচ তামাকজাত দ্রব্য বিক্রিই হচ্ছে বৈধ উপায় মানুষ হত্যা করার একমাত্র উপায়।

REVE Systems

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT