হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদ

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ধুম

মাহাবুবুর রহমান []
কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ধুম পড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ টি আবেদন জমা পড়তো সেখানে এখন ৫০ টির বেশি আবেদন জমা পড়ছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসাদের মধ্যে বেশির ভাগই সরকারি চাকরিজীবি। এছাড়া সাধারণ মানুষের সংখ্যও কম না। এদিকে সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়াটাকে ভাল দিক হিসাবে বিবেচনা করছেন সচেতন মহল। তবে এ তোড় জোড় বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে। একই সাথে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ঠিক করা সহ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে বিআরটিএ অফিসের হয়রানী বা ঝামেলাকেই বেশি দূষছেন বেশির ভাগ ভোক্তভূগী। তাদের মতে সরকারি সেবা প্রতিষ্টান গুলো আরো আন্তরিক হলে মানুষ আইনকে সম্মান করবে। কোন মানুষ ইচ্ছা করে ঝামেলায় যেতে চায় না। অন্যদিকে বিআরটিএ অফিস ও সর্বোচ্চ সেবাদিতে প্রস্তুত বলে জানান।
কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা গেছে বেশির মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসেছে এবং মানুষের ভীড় লেগে আছে সেখানে। এর মধ্যে বেশির ভাগ সরকারি চাকরিজীবি,আবার বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনির সদস্যদের দেখা গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে অথবা নবায়ন করতে এসেছে। এ সময় টেকপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন,আমি মটরসাইকেল চালাচ্ছি ১৫ বছর হবে এখনো লাইসেন্স করিনি। এছাড়া মাঝে মধ্যে অন্যগাড়ীও চালায় আগে কোন সমস্য না হলেও মনে হচ্ছে বর্তমানে সড়কে মটরসাইকেল সহ যে কোন গাড়ী চালাতে গেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে। সামনের দিন আরো কঠিন হবে তাই নিজের জন্য একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এসেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন,আমি সরকারি গাড়ী চালাই লাইসেন্স আছে তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৩ বছর। তাই এখন নবায়ন করতে এসেছি। জানি না কখন কি হয় তাই নবায়ন করাটা খুব জরুরী। এ সময় পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে তবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ সময় কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসের মটরযান পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, বর্তমানে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য মানুষের ভীড় বেশি। আগে যেখানে দিনে ৫ টি আবেদন পড়তো না সেখানে এখন ৫০ টির বেশি আবেদন জমা পড়ছে।তিনি বলেন পেশাদার লাইসেন্স করতে ৭০০ টাকা আর অপেশাদারদের জন্য ৩০০০ টাকার মত খরচ হবে। বর্তমানে সবার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এটা খুব ভাল দিক। আর যে কোন কাজে নিজে সরাসরি অফিসে এসে কাজ সেবা নিতে পরামর্শ দেন তিনি।
পরে কক্সবাজার সোনালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে সেখানেও বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি জমা দিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সোনালী ব্যাংকে রামু তেচ্ছিপুল এলাকার রাজিবুল আলম জানান,আমি ডাম্পার চালাই,এতদিন লাইসেন্স ছিল না কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি খারাপ তাই লাইসেন্স করতে এসেছি। তিনি বলেন,আমি শুনেছি সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে দ্বিগুন বা তিনগুন টাকা এখানে দিতে হয় তবুও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি আমার পরিচিত অনেকে ১ বছর হচ্ছে আবেদন করেছে এখনো লাইসেন্স পায়নি। জানিনা আমরা কবে পাব। তিনি বলেন, সরকারের আইন সবাই মানতে বাধ্য তবে সরকারি অফিস গুলোতে হয়রানী বন্ধ করতে হবে। এ সময় লাইনে দাড়ানো অনেকে একই কথা বলেন।
এ ব্যাপারে আইনজীবি এড. হারুন উর রশিদ বলেন, বিআরটিও অফিসের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ধারনা ভাল না। সেটা আগে পরিবর্তন করতে হবে। মানুষ যে সেই অফিসকে সেবা বান্ধবএকটি প্রতিষ্টান হিসাবে কাছে পায় সরকারকে আগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ সড়কের দাবীতে যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে সেটা বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। একই সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ গাড়ীর সব কাগজ পত্র ঠিক করতে খুব কম সময়ে কম খরচে মানুষ যেন সেবা পায় সেটাও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে তাহলেই আইনের সুফল পাওয়া পাবে। আইনজীবি হিসাবে একটি বিষয় আমি বলতে পারি সাধারণ মানুষ সহজে আইন অমান্য করতে চায় না।
আলাপ কালে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কক্সবাজার সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেন,নিরাপদ সড়কের যে আন্দোলন হয়েছে সেটা মানুষের দীর্ঘদিনের পুজ্ঞিভুত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। একটি দেশের পরিবহণ সেক্টর এতটা বেপরোয়া হতে পারে কি করে। তবে বর্তমানে সরকার বেশ কয়েকটি ভাল পদক্ষেদ নিয়েছে এটা খুব ভাল দিক। আমরা আশা করি এই আন্দোলন আগামী প্রজন্মের জন্য মাইল ফলক হয়ে থাকবে। আর যে কোন ধরনের অনিয়ম দূর্নীতির কারনেই মানুষে সরকারি সেবা নিতে আসে না। বিশেষ করে বিআরটিএ অফিসের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ধারনা মোটাও ভাল না। এটাকে পরিবর্তন করতে হবে। রাস্তায় গাড়ী নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি চালকদের যে সুবিধা সেটা যেন তারা সরকারি সেবাদান কারী প্রতিষ্টান থেকে দ্রুত এবং কম খরচে পায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
কক্সবাজার বিআটিএর সহকারী পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন,কক্সবাজারে গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার আর ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে ৪ হাজারের মত। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে ২ মাসের মধ্যেই পরীক্ষা এর ১৫ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন এর পরে পুলিশ ভেরীফিকেশন এর পরে ঢাকা থেকে স্মার্ট কার্ড হয়ে আসতে ৪/৫ মাস সময় লাগে এখানে আমাদের কোন হাত নেই। আমার একটি বিষয় নিশ্চিত করবো কেউ যেন অযথা হয়রানীর স্বীকার না হয়। তবে বর্তমানে যেহারে মানুষের মাঝে সচেতনতা এসেছে সেটা ভাল দিক হিসাবে দেখছেন তিনি। আর যে কোন সময় সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তত আছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.