ট্যুরিজম ও ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ ৮:০৮ : অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গির আলম শোভন:: প্রযুক্তির কল্যানে জ্ঞানের যেমন নানা শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হচ্ছে তেমনি সেবার পরিধি বাড়ছে তাল মিলিয়ে। একসময় আমরা ট্যুরিজম ব্যাপারটাই বুঝতাম না। আমাদের কাছে বিষয়টি ছিলো শিক্ষা-সফর, পিকনিক ও ঘুরে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্ত পটের বদলে সব কিছু নতুন সীমা লাভ করছে। আমরা এখন চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়াকে বলছি মেডিক্যাল ট্যুরিজম। হজ্জ, ওয়াজ, ইজতেমা, পূজা কিংবা দাওয়াতি কাজে ভ্রমণ করাকে বলছি রিলেজিয়াস ট্যুরিজম। বিভিন্ন সেমিনার সিম্বোজিয়ামে যোগ দিতে দেশে বিদেশে যাওয়াকে বলছি মাইস ট্যুরিজম। কোনো হারাম জিনিস ভোগ না করে ট্যুর করার নাম দিয়েছি হালাল ট্যুরিজম। কমিউনিটি সম্পৃক্ত ভ্রমনের নাম কমিউনিটি বেজট ট্যুুরিজম। স্থানীয় লোকদের দায়িত্বশীল সেবা নিয়ে ভ্রমনের নাম রেসপন্সিবল ট্যুরিজম। অবানিজ্যিক ট্যুরের নাম সোস্যাল ট্যুুরিজম। পরিবেশ বান্ধব ভ্রমনের নাম ইকো বা গ্রীণ ট্যুরিজম। এভাবে রুরাল ট্যুরিজম, এডভেঞ্চার ট্যুরিজম, সী ট্যুরিজম, আরবার ট্যুরিজম নানা মাত্রার পর্যটন রয়েছে।
এই বিষয়গুলো যখন আমরা বুঝবো। তখন আমাদেরকে এটাও বুঝতে হবে যে, সেবার দিক থেকেও ট্যুরিজম বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরেতে যাওয়া হলো পিকনিক। আর কোনো জায়গা দেখতে বা ঘুরতে যাওয়া স্রেফ ঘুরতে যাওয়া। যতক্ষণ না আপনি ট্যুরে গিয়ে স্থানীয় প্রকৃতি, মানুষ তাদের জীবন যাত্রা, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারা প্রত্যক্ষ না করছেন, এবং সুভেনির কিংবা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্টি ও তাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে কিছু হলেও সম্পৃক্ত হচ্ছেন এটা পূর্নাঙ্গ পর্যটন নয়।
তারপর আমার ভ্রমণটি পর্যটন হিসেবে রুপ লাভ করার পর দেখতে হবে আপনার দেয়া বা নেয়া সেবাটি কোন ক্যাটাগরিতে ছিলো। হতে পারে সেটা অলাভজনক ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি ট্যুর, হতে পারে সেটা সোস্যাল ট্যুরিজম, হতে পারে বিজনেস ক্লাস সেবার প্রিমিয়াম ট্যুর এমনকি হতে পারে সাধারণ মানের সেবার ইকোনমি ট্যুর।
আপনি লোকাল বাসে তারপর রিকসায় ভ্যানে হেঁটে বা সাধারণ বোটে পরিবহন সেবা নিলেন। মোটামোটি মানের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা নিলেন। একজন সাধারণ গাইড নিলেন তার মাধ্যেমে এলাকা সম্পর্কে ধারনাও নিলেন। এটাও পর্যটন। এতে সুবিধা হলো আপনি কম খরচে ভ্রমণ করলেন।
আবার আপনি এয়ারে বা এসি গাড়িতে সেটা প্রাইভেট কিংভা পাবলিক হতে পারে। তারপর দামী রিসোর্টে থেকে দামী খাবার খেয়ে ময়ুরপঙ্খী নৌকায় কিংবা বোটে ঘুরে বেড়ালেন দামী খ্যামেরা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন। নিয়ে ফিরলেন স্থানীয় খাবারের স্বাদ ও স্থানীয় স্মারক পন্য। আপনার গাইড ও সেবাদানকারীকেও ভালো বিনিময় দিলেন। এতে আপনার লাভ শুধু হয়নি। পুরো শিল্প উপকৃত হয়েছে। কারণ শিল্পের সাথে জড়িত লোকদের রুটি রুজির ভালো ব্যবস্থা না হলে শুধু আপনার ঘোরার কাজ হলে সেটা পর্যটন শিল্পকে সহায়তা করবেনা।
কিছু লোক দেশীয় পর্যটকদের দেশের মধ্যে ট্যুর দেন। এটা ভালো কাজ। নিজের দেশ দেখা উচিত সবার আগে। আমাদের দেশে বর্তমানে ডোমেস্টিক ট্যুরিজম এর জয়জয়কার চলছে।
ছুটির দিনে ট্যুরিজম স্পটগুলোতে হোটেল সিট পাওয়া যায়না। অথচ দেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন আকাংখিত নয়। িএমনকি হাতে গোনা ২/৪জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়া পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়িক চেইনটাই গড়ে উঠেনি। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি আমাদের পর্যটন সঠিক পথে নেই। এজন্য সেবার মানের পাশপাশি পর্যটকদের দৃষ্টিভঙ্ঘি উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা জরুরী হয়ে পড়েছে।
তাই যারা কম পয়সায় দেশীয় পর্যটকদের সেবা দিচ্ছেন তার পাশাপাশি বিজনেস মুল্যে এলিট ট্যুরিস্টদের প্রিমিয়াম সেবা ও প্যাকেজের পরিমাণ বাড়াতে হবে। সেবার মান, নিরাপত্তা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মারক পন্য, প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা ইত্যাদি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে পেশাদার পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তজাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল বিকাল গজিয়ে উঠা ফেসবুক ফেসভিত্তিক পর্যটন এবং কমাশিয়াল ট্যুর ও কর্পোরেট সেবার মাঝে যে পার্থক্য আছে সেটা আমাদের বুঝতে হবে এবং বুঝাতে হবে। স্বল্পমূল্যের গ্রুপ ট্যুর বনাম স্টান্ডার্ড দামের বিশ্বমানের সেবা সম্পর্কে বুঝতে হবে। দুটো আলাদা লেবেল সেবা সেটাও বুঝতে হেব। দুটোকে এক করার কোনো মানে নেই।
আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্য আয়ের লোকদের জন্য বা ছাত্রদের জন্য যেমন ইকোনমি সেবা দরকার। তেমনি সৌখিন ও আরাম িকিংবা বিনোদিনপ্রিয় লোকদের জন্য তাদের পছন্দ অনুযায়ী সেবা দরকার। তা না হলে দেশে ঘোরা ফেরার উন্নয়ন হবে। বাসের ও হোটেলের ব্যবসা হবে কিন্তু পযৃটন এর উন্নয়ন হবে না।
তাই আসুন পর্যটন স্থানগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখি। আর পর্যটনকে বুঝতে চেষ্টা করি।
ছবি: কক্সবাজারে মেরিনড্রাইভ রোডের পাশে একটি বর্ষাকালীন ঝর্ণার পাশে আমি।


সর্বশেষ সংবাদ