টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ হাসপাতালে ৮১টি পদ শুন্য.. ভয়াবহ জনবল সংকট

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফঃ ২৯ জন মঞ্জুরীকৃত ডাক্তারের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৯জন, ২০ জন ডাক্তারের পদ শুন্য, ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীর মঞ্জুরীপদ ১০২টি, কর্মরত আছেন মাত্র ৫৭ জন, শুন্যপদের সংখ্যা ৪৫টি, ৪র্থ শ্রেণীর মঞ্জুরী পদ ২৪টি, কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন, ১৬টিই শুন্য- এই হচ্ছে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত জনপদ ও পর্যটন শহর টেকনাফ উপজেলায় হেলথ সেক্টরের স্বাস্থ্য সেবার চিত্র। টেকনাফের স্বাস্থ্য সেবা জনবল স্বল্পতায় চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেবা খাতে অতি জরুরি বেশ কিছু পদে ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় সাধারণ রুগী স্বাস্থ্য সেবা থেকে শোচনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। মঞ্জুরীকৃত এবং নব সৃষ্ট পদসমূহ থেকে ডাক্তার কর্মকর্তা কর্মচারী বদলী হয়ে চলে যান, কিন্তু তদস্থলে পোষ্টিং দেওয়া হয়না। আবার এমন কিছু জরুরী পদ আছে যা শুধু বছর নয়, যুগ যুগ ধরে শুন্য রয়েছেন। এভাবেই চলছে টেকনাফ উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতাল। সর্বত্রই ডাক্তার নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীর নেই নেই অবস্থা। ফলে রোগ সারানোর এই হাসপাতালটি নিজেই “নেই রোগে” আক্রান্ত হয়ে যেন রুগ্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা খাতে মঞ্জুরীকৃত মোট জলবল সংখ্যা ১৫৭টি, তম্মধ্যে ৮২টি পদেই কোন ডাক্তার কর্মকর্তা কর্মচারী নেই। ৭ মার্চ ২০১১ টেকনাফ উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একজন মহিলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেছেন। তিনি হলেন ফেনীর বাসিন্দা ডাঃ সামসুজ্জাহান রকিবুন্নেছা চৌধূরী। মহিলা অফিসার হলেও অত্যন্ত দক্ষ, কর্মঠ, দায়িত্বের প্রতি আন্তরিকভাবে সচেতন ও নীতিপরায়ণ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জনবহুল সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা প্রসঙ্গে আলাপকালে অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন- ইচ্ছা থাকা সত্বেও ডাক্তার কর্মকর্তা কর্মচারী স্বল্পতার কারণে কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। আমাদের অবস্থা হচ্ছে-“ ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার ” এর মতো। জানা যায়- টেকনাফে সর্বপ্রথম হাসপাতাল চালু হয়েছিল থানার পাশে ১৯৩৩ সনে। এরপর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন স্থানে বিশাল আয়তনের উপর মান উন্নীত ৩১ শয্যা হাসপাতাল হিসাবে চালু হয় ১২ মার্চ ১৯৮৭ইং। দীর্ঘ ২যুগ পরে ৫০ শয্যা হাসপাতাল চালু হয় ২০১০ সনের ২৫ এপ্রিল। ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালূ, জনবল কাঠামো, মঞ্জুরীকৃত (ষ্টাফ পজিশন) পদ নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু সে মতে ডাক্তার কর্মকর্তা কর্মচারী পোষ্টিং দেওয়া হয়নি। বরং যা আছে, তা থেকেও বদলী করে এবং বদলী হয়ে শুন্যতার কলেবর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত সর্বত্রই একই চিত্র। অতি জরুরী স্বাস্থ্য সেবার প্রতি সরকারের মাথা ব্যথা এবং নজরদারী আছে বলে মনে হয়না। টেকনাফ উপজেলায় ডাক্তারের (১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা) মঞ্জুরীকৃত পদ আছে ২৯টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯জন। ১০টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১ জন কর্মরত আছেন। মেডিসিন, গাইনী, সার্জারী, এ্যানেসথেসিয়া, অর্থোসার্জারী, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন এই ৯টি জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলো শুণ্য রয়েছে। সহকারী সার্জনের ৮টি পদে কর্মরত আছেন মাত্র ২জন। মেডিকেল অফিসারের ৭টি পদে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪জন। এছাড়া অতি জরুরী ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার, এমওএমসিএইচ-এফপি, ডেন্টাল সার্জনের ১টি করে পদগুলোতে একজনও নেই। ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীর মঞ্জুরীকৃত মোট পদের সংখ্যা ১০২টি, বর্তমানে কাগজে কলমে কর্মরত আছে ৫৭জন, ৪৫টি পদই শুন্য। তা হচ্ছে- হিসাব রক্ষক ১টি, পরিসংখ্যানবিদ ১টি, ভান্ডাররক্ষক ১টি, ক্যাশিয়ার ১টি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ৩টি, চিকিৎসা সহকারী ৪টি, ফার্মাসিস ৪টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) ২টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট রেডিও ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফিজিও) ১টি, কার্ডিওগ্রাফার ১টি, কম্পাউন্ডার ১টি, নার্সিং সুপারভাইজার ১টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৯টি, সহকারী নার্স ১টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১টি, স্বাস্থ্য সহকারী ৯টি, টিএলসিএ ১টি, জুনিয়র মেকানিক ১টি। ৪র্থ শ্রেণীর মঞ্জুরীকৃত ২৪টি পদের মধ্যে ১৬টিই শুন্য রয়েছে। তা হচ্ছে ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট ১টি, ওটি বয়/ওটি এটেনডেন্ট ১টি, ইমারজেন্সী এটেনডেন্ট ১টি, এমএলএসএস ৪টি, আয়া ১টি, ওয়ার্ডবয় ১টি, কুক/মশালচী ১টি, নিরাপত্তা প্রহরী ১টি, মালি ১টি, ঝাড়–দার ৪টি। শুন্য পদগুলোর মধ্যে এমন কতগুলো পদ রয়েছে যা অত্যন্ত জরুরী। তম্মধ্যে আবার এমন কিছু পদ আছে যার পদসংখ্যা মাত্র ১টি, এবং এই পদের কোন সহকারীও নেই। যেমন আরএমও, ইএমও, এমওএমসিএইচ, হিসাব রক্ষক, পরিসংখ্যাানবিদ, ভান্ডাররক্ষক, ক্যাশিয়ার, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (রেডিও), মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফিজিও), কার্ডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার, সুপারভাইজার, জুনিয়র মেকানিক, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট, ওটি বয়/ওটি এটেনডেন্ট, ইমারজেন্সী এটেনডেন্ট। এদিকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ১০ শয্যা হাসপাতালের জন্য ৩টি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। ৩টি পদে একজন ডাক্তারও নেই। হোয়াইক্যং, সাবরাং এবং বাহারছড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাক্তার নেই। সহকারী ছাড়া ১জন বিশিষ্ট পদে কেউ না থাকায় কিভাবে কাজ চালাচ্ছেন জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ সামসুজ্জাহান রকিবুন্নেছা চৌধূরী বলেন- আসলে মঞ্জুরীকৃত সব পদই জরুরী। সহকারী বিহীন ১জন বিশিষ্ট শুন্য পদগুলোই ভোগাচ্ছে বেশি। ডাক্তার নার্স ও সুইপার অন্ততঃ এই ৩টি পদগুলো শুন্য না থাকলে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব ও সহজ হত। এখানে ৩/৪ জনের কাজ ১জনকে দিয়ে করাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে গরু, ছাগল তাড়াতে আমাকেই ছুটতে হয়। তিনি আরও বলেন- এমনিতেই জনবল সংকট, সমস্যায় জর্জরিত। উপরন্তু একজন রুগীর সাথে ৮/১০ জন লোক এসে অনর্থক ভীড় করে, রুগীর সিটে বসে থাকে এবং বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। এতে যে রুগীরই ক্ষতি করা হচ্ছে তা তারা মানতে চায়না। বুঝিয়ে বলা হলেও ষ্টাফদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এত বিশাল কমপে¬ক্স নিজস্ব জেনারেটরও আছে ২টি, কিন্তু জ্বালানী তেলের বরাদ্ধ নেই। জেনারেটরগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্বয়ং সম্পূর্ণ অপারেশন থিয়েটার আছে, কিন্তু ব্যবহার বা কাজে আনার মতো ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নেই। তিনি আরও বলেন- শুন্য পদ গুলো পূরণের জন্য একাধিক বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন কমিটি ও উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। ####

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

One response to “টেকনাফ হাসপাতালে ৮১টি পদ শুন্য.. ভয়াবহ জনবল সংকট”

  1. শহীদুল আলম (সাবরাং) says:

    টেকনাফ হাসপাতালে ভোগান্তির শেষ নাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT