টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে কেয়ারী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০১৩
  • ২৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম সাইফী: বৈরী আবহাওয়া ও কালবৈশাখীর আশঙ্কায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্র পথে পর্যটনবাহী একমাত্র জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ আবারো চালু হয়েছে। ঈদের পরদিন সকাল সাড়ে নয়টায় দেশী-বিদেশী অসংখ্য পর্যটক নিয়ে টেকনাফের দমদমিয়া কেয়ারী ঘাট থেকে সমুদ্র পথে নৌবিহারে যাত্রা শুরু করে কেয়ারী সিন্দাবাদে।

যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে কেয়ারী সিন্দাবাদ গত ৫ মে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ওই নৌপথে কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজকে সারা বছর চলাচলের অনুমতি দেয়।

কেয়ারি সিন্দাবাদের টেকনাফের ইনর্চাজ মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “জাহাজের রুটিন মেইনটেইন্ট মেরামতের কাজ শেষে ঈদের পরদিন থেকে এই রুটে পর্যটক পারাপারের জন্য জাহাজটি চালু করা  হয়েছে।”

সেন্টমার্টিনের গেস্টহাউস মালিক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান কক্সবাজার বলেন, “এখানে পর্যটকের সমাগম অন্যবারের তুলনায় বেশি। রমজানের শুরুতে অধিকাংশ হোটেল-কটেজ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখনই অবশিষ্ট আরো ছয়টি জাহাজ চলাচল শুরু হলে পর্যটক সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।”

সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, “এ রুটে প্রতিবছর সাতটি জাহাজ চলাচল করলেও এখন শুধু একটি জাহাজ ও কয়েকটি ট্রলার করে হাজারো পর্যটক এসেছে।”

অপরদিকে প্রতিবার ঈদের সময় যে সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে জড়ো হন, এবার তা অনেক কম। ব্যবসায়ীরা এজন্য হরতালকেই দায়ী করেছেন। ঈদের ছুটিতে প্রতিবছরই সৈকত শহর কক্সবাজার মুখর থাকে পর্যটকের ভিড়ে। কোনো হোটেল-মোটেলই খালি থাকে না।

হোটেল রিগ্যাল প্যালেসের ব্যবস্থাপক করিম উল্লাহ বলেন, “৬৫ কক্ষের মধ্যে ভাড়া হয়েছে মাত্র ২০টি। অথচ অন্য বছর ঈদের ছুটিতে এক সপ্তাহ আগেই হোটেলের সব কক্ষ ভাড়া হয়ে যেত।”

ঈদের ছুটির পরপরই জামায়াতে ইসলামীর ডাকা মঙ্গল ও বুধবারের হরতালকে এজন্য দায়ী করেছেন করিম।

হোটেল সী-প্যালেসের কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ারও হরতালকে দায়ী করে বলেন, “ঈদের এক সপ্তাহ আগেই তার হোটেলের ৮৩টি কক্ষের মধ্যে ৫০টি বুকিং হয়েছিল। কিন্তু ২০টি কক্ষের বুকিংই বাতিল হয়েছে।”

হোটেল ও মোটেল সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবার পর্যটকের সংখ্যা অন্য বছরের তিন ভাগের একভাগ।অভিজাত হোটেল ওশান প্যারাডাইসের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং অ্যাক্সিকিউটিভ সাঈদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের অর্ধেকের বেশি কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে। তবে কয়েকটি কক্ষের বুকিং বাতিল হয় বলে জানান তিনি।হোটেল-মোটেলের পাশাপাশি রেস্তোরাঁসহ পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যবসায়ীরাও এবার আর্থিক ক্ষতির হিসাব করছেন।

পানসী রেস্তোরাঁর মালিক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ঈদের ছুটিতে অন্য বছর দিনে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলেও এবার তার বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকার খাবার।”

শামুক-ঝিনুক পণ্যের বিক্রেতা আব্দুল গফুর বলেন, পর্যটক কম হওয়ায় তাদের বিক্রিও কমে গেছে। হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান বলেন, কক্সবাজারে সাড়ে তিন শতাধিক হোটেল-মোটেলে পর্যটক ধারণ ক্ষমতা দেড় লক্ষাধিক। কিন্তু এবার পর্যটকের সংখ্যা ১৫/২০ হাজারের বেশি হবে না।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন জানান, কক্সবাজারে চারদিন থাকার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু হরতালের জন্য তা দুদিন করেই বাড়ি ফিরছেন তিনি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT