টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

টেকনাফ সীমান্ত বর্ডার পাস বন্ধ ৬ মাস..দু’দেশের বানিজ্য ঘাটতি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১২
  • ১০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবদুল্লাহ মনির, টেকনাফ:
গত জুন মাসে মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও টেকনাফে এখনো পর্যন্ত মিয়ানমার গমনের সাতদিনের বর্ডার পাস সচল হয়নি। এতে দিন দিন দু’ দেশের বানিজ্য ঘাটতি বাড়ছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতিও সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমানের রাজস্ব।
জানা যায়, মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গার কারণে হঠাৎ করে সেদেশের সরকার অঘোষিতভাবে সাতদিনের বর্ডার পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। বেশ কিছুদিন আগে একদিনের ট্রানজিট পাস চালু হলেও সাতদিনের বর্ডার পাস এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে সীমান্ত বানিজ্য ব্যবসায়ীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। কেননা, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বানিজ্যে আর্থিক লেনদেনের বৈধ তেমন কোন চুক্তি না থাকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মংডুতে অবস্থান করে ব্যবসায়িক সম্পাদন করে। কিন্তু গত প্রায় ৬ মাস ধরে বর্ডার পাস বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে দেওয়া কোটি কোটি দাদনের টাকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নিকট আত্মীয়-স্বজনদের দেখাশুনার জন্য সাতদিনের বর্ডার পাস (১৯৯৫ সালে) ও একদিনের ট্রানজিট (১৯৮০সালে ) চালু করা হয়েছিল। এতে সরকার সাতদিনের বর্ডার পাস বাবদ ৫’শ টাকা রাজস্ব পেত। গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে টেকনাফ ইমিগ্রেসনের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। এছাড়া টেকনাফ স্থল বন্দর গেইট পাস বাবদ ৭ লক্ষ আদায় করেছিল। কিন্তু চলতি ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে কোন ধরনের রাজস্ব আদায় হয়নি বলে ইমিগ্রেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়।
টেকনাফ জেড কে ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক জেড করিম জিয়া জানান, বাংলাদেশ মিয়ানমার বর্ডার পাস বন্ধ থাকায় মিয়ানমারে যাতায়াত করতে না পারায় মুঠোফোনে মোটা অংকের বিল দিয়ে এক প্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে ব্যবসা-বানিজ্য চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
মিয়ানমার বহিরাগমনের বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ফিরোজ জানান, গত ৬ মাস ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার বর্ডার পাস বন্ধ থাকায় এ রুটে চলাচলকারী ২৭ টি বোটের মাঝিমাল্লারা অভাব, অনটনে, অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই অতিশীঘ্রই বর্ডার পাস চালু করতে সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার।
স্থলবন্দরের অভিবাসন কেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ৭ দিনের বর্ডার পাস বন্ধ থাকায় সীমান্ত বানিজ্য ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারে আসা-যাওয়া করতে না পারায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, বিগত সময়গুলোতে প্রতিদিন ৩০-৪০জন লোক যাতায়াত করতো। এ হিসেবে কম করে হলেও দৈনিক ৩০ জনের ১৫ হাজার টাকা করে ৬ মাসে কমপক্ষে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৪০ লাখ টাকা সরকার ভ্রমন কর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আগমনকারীদের জনপ্রতি ৫০টাকা করে রাজস্ব আদায় করা হতো।
৪২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) টেকনাফ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো জাহিদ হাসান বলেন, সীমান্ত বানিজ্য সাতদিনের বর্ডার পাস মিয়ানমার সরকার অঘোষিতভাবে বন্ধ করে দেয়। বর্ডার পাস চালু করণের লক্ষ্যে নাসাকা বাহিনীকে বার বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র ও বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বর্ডার পাস চালু সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এছাড়া বেশ কিছু দিনের মধ্যে দু’দেশের সীমান্ত বানিজ্য জয়েন্ট ওয়াকিং বৈঠকে বিষয়টি উত্তাপন করার আহবান জানান এবং ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে বিজিবি-নাসাকার সেক্টর পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বর্ডার পাস চালুর জোরালো দাবী জানানো হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT